|

Advertisement
×

দেশে বিদেশি ৯ ব্যাংকের আমানত ও মুনাফায় পতন

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬   প্রিন্ট   ১৩ বার পঠিত

দেশে বিদেশি ৯ ব্যাংকের আমানত ও মুনাফায় পতন

দেশের ব্যাংকিং খাতে কার্যক্রম পরিচালনাকারী নয়টি বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকের আমানত ও মুনাফা—দুই সূচকেই নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংকগুলোর সম্মিলিত আমানত কমেছে ১১১ কোটি টাকা। একই সময়ে মুনাফা কমেছে ৪৯৪ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ কম।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বুধবার (১৪ অক্টোবর) প্রকাশিত ‘বাংলাদেশে বিদেশি ব্যাংকের কার্যক্রম: প্রবণতা ও পরিচালনাগত বিশ্লেষণ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। এতে দেশের নয়টি বিদেশি ব্যাংকের ৬৭টি শাখা ও ছয়টি উপশাখার কার্যক্রমের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে বিদেশি ব্যাংকগুলোর মোট আমানত দাঁড়িয়েছে ৮৭ হাজার ৩৭৯ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ৮৭ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে আমানত কমেছে ১১১ কোটি টাকা।

অন্যদিকে, গত জুন শেষে ব্যাংকগুলোর সম্মিলিত মুনাফা নেমে এসেছে ২ হাজার ৩২২ কোটি টাকায়। আগের বছরের একই সময়ে মুনাফার পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৮১৬ কোটি টাকা। সে হিসাবে এক বছরে মুনাফা কমেছে ৪৯৪ কোটি টাকা। তবে আমানত ও মুনাফা কমে যাওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

দেশে কার্যরত বিদেশি ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে দ্য হংকং অ্যান্ড সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশন (এইচএসবিসি), স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ, সিটিব্যাংক এনএ, কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন, উরি ব্যাংক, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া, হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান এবং ব্যাংক আলফালাহ।

বিদেশি ব্যাংকগুলোর আমানতের একটি বড় অংশ রয়েছে চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাবে। এসব হিসাবে সাধারণত মেয়াদি আমানতের তুলনায় সুদের হার কম থাকে। গত জুনের হিসাব অনুযায়ী, এ ধরনের হিসাবে ব্যাংকগুলোর মোট আমানতের পরিমাণ ছিল ৩২ হাজার ৮০১ কোটি টাকা।
আমানতের দ্বিতীয় বৃহত্তম অংশ এসেছে বিদেশি মুদ্রায় পরিচালিত হিসাব থেকে। এসব হিসাবে জমা ছিল ১৭ হাজার ৮৮ কোটি টাকা। অন্যদিকে, মেয়াদি ও স্থায়ী আমানতের পরিমাণ ছিল ১২ হাজার ৬৬৫ কোটি টাকা।

সাধারণত মেয়াদি আমানতে তুলনামূলক বেশি সুদ দেওয়া হয়। তবে বিদেশি ব্যাংকগুলোর আমানত কাঠামোয় এ ধরনের হিসাবের অংশ চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাবের তুলনায় কম।

আমানত ও মুনাফা কমলেও বিদেশি ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণে সামান্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। গত জুন শেষে ব্যাংকগুলোর সম্মিলিত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। আগের বছরের জুনে এ পরিমাণ ছিল ৪৮ হাজার ৩৫৫ কোটি টাকা। ফলে এক বছরে ঋণ বেড়েছে ৩৪৯ কোটি টাকা।

খাতভিত্তিক ঋণ বিতরণে শিল্প খাত এগিয়ে রয়েছে। গত জুন শেষে এ খাতে বিদেশি ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ছিল ২৫ হাজার ৪০৩ কোটি টাকা। শিল্প খাতে অর্থায়নের তুলনায় পরিবহন ও নির্মাণ খাতে তাদের ঋণ বিতরণের পরিমাণ কম।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, পরিবহন খাতে বিদেশি ব্যাংকগুলোর ঋণ ছিল মাত্র ১০ কোটি টাকা।

সামগ্রিকভাবে, আমানত ও মুনাফা কমে যাওয়ার বিপরীতে ঋণ বিতরণে সীমিত প্রবৃদ্ধি বিদেশি ব্যাংকগুলোর কার্যক্রমে ভিন্নধর্মী চিত্র তুলে ধরেছে। তবে মুনাফা হ্রাসের কারণ, পরিচালন ব্যয়ের পরিবর্তন কিংবা ঋণের গুণগত মান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য না থাকায় এ প্রবণতার পেছনের কারণ নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না।

Facebook Comments Box
✎ মন্তব্য করুন

Posted ০৭:৩৬ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

bankbimaarthonity.com |

সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: bankbima1@gmail.com