|

Advertisement
×

নির্ধারিত দামের চেয়ে ৬০০ টাকা বেশি, এলপিজি বিক্রেতাদের লাইসেন্স বাতিলের দাবি ক্যাবের

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬   প্রিন্ট   ১৪ বার পঠিত

নির্ধারিত দামের চেয়ে ৬০০ টাকা বেশি, এলপিজি বিক্রেতাদের লাইসেন্স বাতিলের দাবি ক্যাবের

সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বিক্রি বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। অতিরিক্ত দাম নেওয়া অপারেটর, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে লাইসেন্স বাতিলের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

বুধবার প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ক্যাব জানায়, এলপিজির কৃত্রিম সংকট তৈরি, মজুতদারি ও অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) এলপিজির দাম পুনর্নির্ধারণবিষয়ক গণশুনানির আগে এ দাবি জানাল সংগঠনটি। গত ২৬ অক্টোবর বিইআরসির চেয়ারম্যানকে পাঠানো চিঠিতে ক্যাবের সভাপতি এএইচএম সফিকুজ্জামান বলেন, নির্ধারিত দামে এলপিজির সরবরাহ নিশ্চিত না করে দাম বা অন্যান্য চার্জ বাড়ানো হলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারের ওপর আর্থিক চাপ আরও বাড়বে।

১২ কেজির সিলিন্ডারে অতিরিক্ত ৫০০–৬০০ টাকা

ক্যাবের চিঠিতে বলা হয়, গত ৪ অক্টোবর ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়। তবে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, নির্ধারিত দামের চেয়ে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা বেশি দিয়ে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে গ্রাহকদের।

পাইপলাইনের গ্যাস-সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলোর জন্য এলপিজি রান্নার অন্যতম প্রধান জ্বালানি। খাদ্য, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা ও যাতায়াতের ব্যয়ের চাপে থাকা পরিবারগুলোর জন্য বাড়তি দামে গ্যাস কেনা আরও কঠিন হয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছে ক্যাব।

সংগঠনটির মতে, নতুন করে দাম বা চার্জ বাড়ানোর আগে বিদ্যমান নির্ধারিত মূল্য কার্যকর করা এবং বাজারে সরবরাহ নিশ্চিত করাই অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

ব্যয় যাচাই ছাড়া কমিশন বাড়ানোর বিরোধিতা

এলপিজি আমদানিকারকদের বাড়তি ব্যয়ের দাবিও প্রকৃত লেনদেনের নথি ও নিরীক্ষিত হিসাবের মাধ্যমে যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছে ক্যাব। আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম বাড়লেও স্থানীয় পরিবহন, সংরক্ষণ ও বিতরণ ব্যয় একই অনুপাতে বাড়ে না। তাই আমদানি ব্যয়ের অজুহাতে সরবরাহব্যবস্থার প্রতিটি ধাপে চার্জ ও কমিশন বাড়ানোর যৌক্তিকতা যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করে সংগঠনটি।

ক্যাবের দাবি, নিরীক্ষিত হিসাব ও স্বাধীন কারিগরি মূল্যায়নের মাধ্যমে বাড়তি ব্যয়ের প্রয়োজনীয়তা প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো চার্জ বা কমিশন বৃদ্ধির প্রস্তাব অনুমোদন করা উচিত নয়। একই সঙ্গে অযৌক্তিক ব্যয়, অতিরিক্ত মুনাফা এবং একই ব্যয় একাধিকবার হিসাব করার প্রবণতা বাদ দিতে হবে।

সংগঠনটি আমদানি ব্যয়, সংরক্ষণ, বোতলজাতকরণ ও বিতরণ খরচের পৃথক হিসাব প্রকাশ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে তার সুফল দ্রুত ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ারও দাবি জানিয়েছে। সরকারি এলপিজির ব্যয় নির্ধারণ ও বিতরণব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আহ্বানও জানিয়েছে তারা।

মূল্যতালিকা ও রসিদ বাধ্যতামূলক করার দাবি

বিক্রয়কেন্দ্রে হালনাগাদ মূল্যতালিকা প্রদর্শন, প্রতিটি বিক্রিতে রসিদ দেওয়া এবং বাসায় সরবরাহের চার্জ সম্পর্কে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়ার দাবি জানিয়েছে ক্যাব। পাশাপাশি অতিরিক্ত দাম আদায়, সিলিন্ডারের সংকট, ওজনে কম দেওয়া এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত অভিযোগ জানানোর সহজ ব্যবস্থা চালু করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

বিইআরসির গণশুনানিতে ভোক্তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতার পাশাপাশি আবেদনকারীদের প্রস্তাব ও কমিশনের কারিগরি মূল্যায়ন বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছে ক্যাব। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে কোন ব্যয় গ্রহণ বা বাতিল করা হয়েছে এবং ভোক্তাদের আপত্তিগুলো কীভাবে বিবেচনা করা হয়েছে, তা স্পষ্টভাবে প্রকাশেরও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

এলপিজির মূল্য পুনর্নির্ধারণের আগে বাজারে নির্ধারিত দামে সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং মূল্য নির্ধারণের প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠাই এখন ভোক্তাদের প্রধান দাবি।

Facebook Comments Box
✎ মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Posted ০১:১৫ অপরাহ্ণ | বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

bankbimaarthonity.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: bankbima1@gmail.com