নিজস্ব প্রতিবেদক
বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬ প্রিন্ট ৬০ বার পঠিত
বাংলাদেশের বেসরকারি বীমা খাতের ইতিহাস পর্যবেক্ষণ করলে যার নাম সবার আগে উঠে আসে, তা হলো ‘বাংলাদেশ জেনারেল ইনসিওরেন্স কোং পিএলসি’ (বিজিআইসি)। দেশের বীমা শিল্পের কিংবদন্তী ব্যক্তিত্ব এম. এ. সামাদ-এর দূরদর্শী দিকনির্দেশনায় গড়ে ওঠা এই প্রতিষ্ঠানটি কেবল দেশের প্রথম বেসরকারি সাধারণ (নন-লাইফ) বীমা কোম্পানিই নয়, বরং চার দশক ধরে সেবা ও নির্ভরতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। “সেবাই আমাদের শক্তি” -এই প্রতিপাদ্যকে মূলমন্ত্র হিসেবে ধারণ করে ১৯৮৫ সালের ২৯ জুলাই যাত্রা শুরু করা বিজিআইসি ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত একটি অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান।
২০০০ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি ধারাবাহিকভাবে বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণীয় মুনাফা প্রদান করে আসছে। চেয়ারম্যান তওহিদ সামাদ ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ সাইফুদ্দীন চৌধুরীর গতিশীল নেতৃত্বে ৮ সদস্যের এক অভিজ্ঞ পরিচালনা পর্ষদ এবং দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ৩৮টি শাখার মাধ্যমে বিজিআইসি বর্তমানে দেশের বীমা খাতকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে। বিগত ২৫ বছরের হিসাব পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ২০০০ সালে যেখানে কোম্পানির গ্রোস প্রিমিয়াম আয় ছিল মাত্র ১৮ কোটি ৪১ লাখ টাকা, তা ক্রমাগত বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সাল শেষে রেকর্ড ৯৪ কোটি ১৮ লাখ টাকায় গিয়ে পৌঁছেছে। একই মেয়াদে কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ৭ কোটি ২০ লাখ টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ৫৪ কোটি ৩ লাখ টাকায়। ১০০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের এই প্রতিষ্ঠানে উদ্যোক্তা পরিচালকদের অংশ ৬.৬৭ শতাংশ, পাবলিক পরিচালকদের ১৯.৩৯ শতাংশ, সাধারণ জনগণের ২৬.৪১ শতাংশ এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশ ৪৭.৫৩ শতাংশ।
প্রতিষ্ঠানের সাম্প্রতিক আর্থিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২৪ সালের ৮৫ কোটি ৪৯ লাখ টাকার বিপরীতে ২০২৫ সালে গ্রোস প্রিমিয়াম আয় বেড়েছে ৮ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। পাশাপাশি নিট প্রিমিয়াম আয় ৪৬ কোটি ৬৬ লাখ টাকা থেকে ৫ কোটি ১৮ লাখ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫১ কোটি ৮৪ লাখ টাকায়। দক্ষ পরিচালনা পর্ষদের নিখুঁত পরিকল্পনায় অবলিখন মুনাফাও আগের বছরের ৫ কোটি ৮৪ লাখ টাকা থেকে বেড়ে ৭ কোটি ১৭ লাখ টাকায় উন্নীত হয়েছে। গ্রাহকসেবা ও বীমাদাবি নিষ্পত্তিতে প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা অত্যন্ত প্রসংশনীয়। দ্রুততম সময়ে বীমাদাবি যাচাই ও পরিশোধে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ শক্তিশালী কমিটির মাধ্যমে ২০২৫ সালে বিজিআইসি নিট ১০ কোটি ৭৮ লাখ টাকার বীমাদাবি নিষ্পত্তি করেছে, যা ২০২৪ সালের (১০ কোটি ৫৬ লাখ টাকা) তুলনায় ২২ লাখ টাকা বেশি। অন্যদিকে, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, অফিস ভাড়া, জ্বালানি ও আনুষঙ্গিক খরচ বৃদ্ধি সত্ত্বেও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সুদূরপ্রসারী ব্যয় নিয়ন্ত্রণ নীতি ও মিতব্যয়িতার ফলে ২০২৫ সালে ব্যবস্থাপনা ব্যয় ১ কোটি ২৩ লাখ টাকা হ্রাস পেয়ে ২৬ কোটি ৪২ লাখ টাকায় নেমে এসেছে।
ব্যবসায়িক পরিচালনায় নানা প্রতিকূলতা থাকা সত্ত্বেও কোম্পানির সার্বিক মুনাফায় অর্জিত হয়েছে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি। ২০২৪ সালের ১০ কোটি ৯৯ লাখ টাকার করপূর্ব মুনাফা ২০২৫ সালে ৮৮ লাখ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ১১ কোটি ৮৭ লাখ টাকায় পৌঁছেছে। একই সাথে করপরবর্তী মুনাফা ৫ কোটি ৭৬ লাখ টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৬ কোটি ২২ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ১.৪০ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১.৫১ টাকায়। কোম্পানির মোট সম্পদ এবং সার্বিক কাঠামোগত ভিত্তি ক্রমান্বয়ে শক্তিশালী হচ্ছে। ২০২৫ সালে কোম্পানির মোট সম্পদ দাঁড়িয়েছে ১৯৫ কোটি ৪৪ লাখ টাকা, যা আগের বছর ছিল ১৮১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। বিগত বছরের তুলনায় সম্পদ বৃদ্ধি পেয়েছে ১৩ কোটি ৭৮ লাখ টাকা, যেখানে ২০২১ সালেও মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১৭০ কোটি ৬২ লাখ টাকা। মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ১২৬ কোটি ৪৮ লাখ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩২ কোটি ৯৭ লাখ টাকায়, যার মধ্যে পুঁজিবাজারের শেয়ার ও ডিভেঞ্চারে ১৩ কোটি ৪২ লাখ টাকা এবং সরকারি ট্রেজারি বন্ডে ৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা নিয়োজিত রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির শক্তিশালী সঞ্চিতি ব্যবস্থা আর্থিক স্থায়িত্বের পরিচয় দেয়। ২০২৫ সালে কর সঞ্চিতি পূর্ববর্তী বছরের ১৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা থেকে ১ কোটি ৯৪ লাখ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ১৫ কোটি ৫৪ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। শেয়ারহোল্ডারদের ইক্যুইটিও ১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ১০৫ কোটি ৪৯ লাখ টাকায় পৌঁছেছে। তবে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের ফলে বিজিআইসি-র মোট দায় কিছুটা বৃদ্ধি পেয়ে ৮৯ কোটি ৮৯ লাখ টাকা হয়েছে, যা আগের বছর ছিল ৭৮ কোটি ১১ লাখ টাকা। আর্থিক স্বচ্ছতা, দক্ষ ব্যবস্থাপনা, উচ্চ দাবি পরিষদের ক্ষমতা ও তারল্য পরিস্থিতির স্বীকৃতিস্বরূপ ক্রেডিট রেটিং এজেন্সী অজএটঝ বিজিআইসি-কে ২০২৫ সালের আর্থিক হিসাবের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ‘ট্রিপল এ’ (এএএ) ক্রেডিট রেটিং প্রদান করেছে। শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ সুরক্ষায় বদ্ধপরিকর বিজিআইসি পরিচালনা পর্ষদ ২০২৫ সালের অর্জিত মুনাফার ওপর ভিত্তি করে নগদ ১১ শতাংশ লভ্যাংশ অনুমোদন করেছে, যা ২০২৪ সালে ছিল ১০ শতাংশ।
অতীতের গৌরবময় ইতিহাস, অভিজ্ঞ নেতৃত্ব এবং ধারাবাহিক অর্থনৈতিক সাফল্যের ওপর ভর করে ২০২৬ সালেও উন্নত প্রবৃদ্ধি ও নতুন অর্জনের প্রত্যাশা করছে বিজিআইসি। বছরের প্রাথমিক মাসগুলোর উৎসাহব্যঞ্জক ব্যবসায়িক সাফল্য ও প্রিমিয়াম আয়ের ধারা প্রমাণ করে যে, উদ্ভাবনী কলাকৌশল ও সুপরিকল্পিত প্রচার অভিযানের মাধ্যমে বিজিআইসি আগামী দিনেও বাংলাদেশের বীমা খাতে তার শীর্ষস্থানীয় অবস্থান ও নেতৃত্বের ভূমিকা অক্ষুণ্ন রাখবে।
Posted ০৬:২৮ অপরাহ্ণ | বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com
✎ মন্তব্য করুন