বিবিএনিউজ.নেট
মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০ প্রিন্ট ৬৮০ বার পঠিত
দেশের একজন সঙ্গীত গবেষক ও লেখক মোবারক হোসেন খান ১৯৩৮ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার শিবপুর গ্রামের সংগীত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা ওস্তাদ আয়েত আলী খাঁ প্রখ্যাত শাস্ত্রীয় সংগীতশিল্পী। মা উমার উন-নেসা। তাঁর চাচা ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতজ্ঞ। ছয় ভাইবোনের মধ্যে মোবারক হোসেন খান সবার ছোট। তাঁর বড় তিন বোন আম্বিয়া, কোহিনূর ও রাজিয়া এবং বড় দুই ভাই প্রখ্যাত সংগীতজ্ঞ আবেদ হোসেন খান ও বাহাদুর হোসেন খান।
পারিবারিক ঐতিহ্য অনুযায়ী বড় দুই ভাই সঙ্গীতে মগ্ন ছিলেন। তাই বাবা চেয়েছিলেন, মোবারক হোসেন খান যেন সংগীতের পাশাপাশি পড়াশোনা করেন। এ জন্য সঙ্গীতে দীক্ষা গ্রহণের পূর্বে তিনি মাইনর স্কুলে প্রথম থেকে ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ গ্রহণ করেন। দেশ বিভাগের পূর্ব থেকে তাঁর বাবার গান শেখানোর উদ্দেশে কুমিল্লা জেলায় যাতায়াত ছিল এবং ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর তাঁরা সপরিবারে সেখানে চলে যান।
মোবারক হোসেন খান কুমিল্লা জেলা স্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তি হন এবং সেখান থেকে ১৯৫২ সালে মেট্রিক পাস করেন। পরে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে বিএ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাস বিষয়ে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৬২ সালের ২০ অক্টোবর বাংলাদেশ বেতারের অনুষ্ঠান প্রযোজক হিসেবে মোবারক হোসেন খানের কর্মজীবন শুরু হয়। পরে তিনি বাংলাদেশ বেতারের পরিচালক হিসেবে ৩০ বছর কর্মরত ছিলেন। এ সময় তিনি কয়েকটি বই লিখেছেন। লেখালেখি সূত্রে পরিচয় হয় কবি আল মাহমুদের সঙ্গে। আল মাহমুদ ছিলেন তখন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সহকারী পরিচালক। তাঁর মাধ্যমে ১৯৮০ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি থেকে প্রকাশ করেন তাঁর প্রথম সংগীতবিষয়ক বই ‘সঙ্গীত প্রসঙ্গ’। বিভিন্ন পত্রিকায় তাঁর সংগীতবিষয়ক লেখা নিয়ে বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত হয় তাঁর দ্বিতীয় বই ‘বাদ্যযন্ত্র প্রসঙ্গ’। এরপর তিনি রচনা করেন ‘সংগীত মালিকা’। এই বইটিও প্রকাশ করে বাংলা একাডেমি। পরে তিনি সংগীত ও শিশুবিষয়ক ৫০টি গ্রন্থ রচনা করেন। তিনি ১৯৯২ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন।

মোবারক হোসেন খান জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী সাবিনা ইয়াসমীনের বড় বোন সঙ্গীতশিল্পী ফৌজিয়া ইয়াসমীনকে বিয়ে করেন। তাঁদের তিন সন্তানের মধ্যে কন্যা রিনাত ফৌজিয়া সঙ্গীতশিল্পী আর দুই ছেলে তারিফ হায়াত খান ও তানিম হায়াত খান। তিনি একুশে পদক পেয়েছেন ১৯৮৬ সালে। এ ছাড়া পেয়েছেন স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার (১৯৯৪) ও বাংলা একাডেমি পুরস্কার (২০০২)। ২০১৯ সালের ২৪ নভেম্বর তিনি পরলোকগমন করেন।
Posted ০১:৫৬ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০
bankbimaarthonity.com | Sajeed
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com
✎ মন্তব্য করুন