এম এ খালেক
সোমবার, ১২ মে ২০২৫ প্রিন্ট ৪৩৮ বার পঠিত
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এক নির্দেশনা বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার কার্য শেষ না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনগুলোর রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে। এই মুহূর্তে দেশের রাজনীতিতে এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ। বেশ কিছু দিন ধরে বিভিন্ন সংগঠন আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধকরণের দাবি জানিয়ে আসছিল। এমনকি তারা প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবনের সামনে অবস্থান করে তাদের দাবি আদায়ের চেষ্টা করছিলেন। তারা বলছিলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যদি আওয়ামী লীগেকে নিষিদ্ধ না করে তাহলে তারা ঘরে ফিরে যাবেন না। রাস্তাতেই অবস্থান করবেন। শেষ পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আন্দোলনকারীদের দাবির মুখে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনগুলোর রাজনীতি সাময়িকভাবে বন্ধ বা নিষিদ্ধ করেছে। ছাত্র লীগকে আগেই নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাকিস্তান আমলে বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রম বন্ধ বা স্থগিত করা হলেও এভাবে কোনো একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার ঘটনা নেই বললেই চলে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এখন একটি নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে বিভিন্ন অপরাধে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতাদের বিচার কার্য সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না। এর মধ্যে দিয়ে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিযোগিতা করার আর কোনো সুযোগ রইলো না।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ ঘোষিত হবার ফলে কি কি অসুবিধা হবে তা এখনই সুস্পষ্টভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এটি একটি নতুন ঘটনার জন্ম দিয়েছে। এর আগে বিগত সরকার আমলে জামায়াতে ইসলামি বাংলাদেশ এর নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছিল। নিবন্ধন বাতিল করা হলে সেই রাজনৈতিক দলের ব্যানারে নির্বাচন করার সুযোগ থাকে না। তবে দলটি তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে। কিন্তু নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি রাজনৈতিক দলের কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ গ্রহণের সুযোগ থাকে না। এখন থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বা তার কোনো অঙ্গসংগঠনের ব্যানারে রাজনৈতিক কর্মকান্ড চালাতে গেলেই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নিতে পারবে।
যারা একবার রাজনৈতিক কর্মকান্ডে যুক্ত হয়ে পড়েন তারা সাধারণত সেই কার্যক্রম থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন না। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ ঘোষিত হবার ফলে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টগণ দলীয় ব্যানারে আর কোনো রাজনৈতিক কর্মকান্ডে পরিচালনা করতে পারবেন না। তাহলে নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সব নেতা-কর্মীরা কি রাজনীতি চর্চা ছেড়ে দেবেন? মাঝে মাঝে পত্রিকায় দেখা যায়, কোনো একজন নেতা তার সমর্থিত রাজনৈতিক দলের প্রতি বিরূপ হয়ে রাজনীতি ত্যাগ করেন। রাজনীতি ত্যাগ করার সময় দুধ নিয়ে গোসল করেন। দুধ দিয়ে গোসল করার সঙ্গে রাজনীতি ত্যাগ করার সম্পর্ক কি তা আমি ভেবে পাই না। যে দুধ দিয়ে গোসল করা হয় সেই দুধেও তো ভেজাল থাকতে পারে। যা হোক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের শত শত নেতা-কর্মী এখন কি করবেন? তাদের সবাই নিশ্চয়ই রাজনীতির মাঠ ত্যাগ করবেন না। তারা আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে যেতে পারেন। অবশ্য গত বছর ৫ আগস্টের পর থেকে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা আত্মগোপনেই আছেন। তারা দৃশ্যত কোনো প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মকান্ডে অংশ গ্রহণ করছেন না। রাজনৈতিক কর্মকান্ডে অংশ নিলেই তাদের আটক করা হচ্ছে।
দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (বিএনপি) বা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদি দল দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মী সংগ্রহ অভিযান শুরু করেছে। আগামী ১৫ মে থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত সময়ে এই সদস্য সংগ্রহ অভিযান চালানো হবে। বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছেন, সমাজের ফ্রেশ মানুষ, অবসরে যাওয়া ব্যক্তি, যিনি শিক্ষক, সরকারি কর্মকর্তা এবং ব্যাংকার হতে পারেন, এনজিও কর্মী, কৃষক-শ্রমিক হতে পারেন। যদি তারা আমাদের আদর্শে বিশ্বাসী হন তাহলে তারা বিএনপি’তে যোগ দিতে পারবেন। আওয়ামী লীগ থেকে কেউ নিএনপি’তে আসতে পারবেন কিনা এ মর্মে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, যারা এক সময় আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতেন কিন্তু আওয়ামী লীগের দুঃশাসন, লুটপাট, টাকাপাচার পছন্দ করেনি আওয়ামী লীগ থেকে সরে গেছেন তারা কেনো আসতে পারবেন না। শোনা যাচ্ছে, বিএনপি এই সদস্য সংগ্রহ অভিযান চলাকালে এক কোটি নতুন সদস্য তালিকাভুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশে যারা রাজনীতি চর্চা করেন বা করতে চান তাদের মধ্য থেকে এক কোটি সৎ মানুষ কি খুঁজে পাওয়া যাবে? বর্তমানে যারা রাজনীতি চর্চা করেন তাদের অনেকের বিরুদ্ধেই নানা ধরনের দুর্নীতি-অনাচারের অভিযোগ রয়েছে। আর বিএনপি আহ্বান করলেই এক কোটি নতুন মানুষ রাজনীতিতে যুক্ত হবেন এমনটা ভাবা ঠিক হবে না। বর্তমানে আওয়ামী লীগের যেসব নেতা-কর্মী সমস্যার মধ্যে রয়েছেন তারা নিজেদের রক্ষা করার জন্য বিএনপি’তে যোগ দিতে পারেন। ইতিমধ্যেই দেশের কোনো কোনো এলাকা থেকে আওয়ামী লীগ কর্র্মীদের বিএনপি’তে যোগদানের খবর পাওয়া যাচ্ছে। অনেকেই আন্ডারগ্রাউন্ডে সমঝাতার মাধ্যমে বিএনপি’তে যোগদান করছেন বলেও শোনা যাচ্ছে। বাংলাদেশ এমনই এক দেশ যেখানে টাকা ব্যয় করলে সোনার হরিণও পাওয়া যায়। যারা সদস্য সংগ্রহের দায়িত্বে থাকবেন তারা যে সততার সঙ্গে কর্মী বাচাই করবেন তার নিশ্চয়তা কি?
আমি একটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিশেষায়িত ব্যাংকে দীর্ঘ ৩৪ বছর বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছি। সেই সময় প্রত্যক্ষ করেছি কিভাবে একজন কর্মকর্তা স্বীয় স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় থেকে তৎপরতা চালিয়ে যান। ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় থাকাকালে জিয়া পরিষদ তৎপরতা চালাতো। সেই সময় ব্যাংকের সুবিধাবাদি কর্মকর্তাদের অথিকাংশই জিয়া পরিষদে যোগাদান করে তাদের স্বার্থ সিদ্ধির চেষ্টা চালাতেন। ২০০৯ সালে যখন আওয়ামী লীগ রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসীন হয় তখন ব্যাংকে জিয়া পরিষদ বলে কোনো কিছুটা অস্তিত্ব আর থাকলো না। সবাই বঙ্গবন্ধু পরিষদে যোগাদান করে প্রতিষ্ঠান অভ্যন্তরে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালাতে থাকলেন। আওয়ামী লীগ আমলে অর্থের বিনিময়ে রাজনৈতিক কর্মী পরিচয়ে যে ব্যক্তিটি চুক্তিভিত্তিক চাকরিতে প্রবেশ করেন সেই ব্যক্তিটি এখন জিয়া পরিষদের বড় নেতায় পরিণত হয়েছে। বিএনপি যে সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে তাতে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের দলে টানার চেষ্টা করা হবে। যারা রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন তারা কোনোভাবেই রাজনীতিতে যুক্ত হতে পারেন না। এটা তাদের চাকরি বিধিতে নেই। কিন্তু দেখা যায়, প্রতিটি সরকারের আমলেই সরকার সমর্থক বিভিন্ন সংগঠনে যুক্ত হয়ে এরা রাজনীতি চর্চা করেন। কোনো সৎ এবং দায়িত্বশীল কর্মকর্তা কখনোই দলীয় রাজনীতি চর্চা করতে পারেন না। একজন ছাত্রকে তার শিক্ষা জীবন শেষ করার আগেই সিদ্ধান্ত নিতে হয় তিনি কি রাজনীতি করবেন, নাকি চাকরি করবেন নাকি ব্যবসায়ে যুক্ত হবেন। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন এমন কেউ যদি রাজনীতিতে যুক্ত হতে চান তাহলে তাকে চাকরি ত্যাগ করতে হবে। এমন কি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান থেকে অবসর গ্রহণের পরও যদি রাজনীতি চর্চা করতে চান তাকে পেনশন এবং অন্যান্য বেনিফিট সারেন্ডার করেই তা করতে হবে। আপনি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান থেকে আর্থিক সুবিধা ভোগ করবেন আবার রাজনীতিতে যুক্ত হবেন এটা কোনোভাবেই হতে পারে না। একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দেখলাম, একজন ট্রেড ইউনিয়ন নেতা,যিনি কয়েক বছর আগে অবসরে গমন করেছেন তিনি জিয়া পরিষদের শীর্ষ নেতা মনোনীত হয়েছেন। এখন প্রশ্ন হলো, যে ব্যক্তি চাকরি থেকে অবসরে গেছেন তিনি কি করে জিয়া পরিষদের শীর্ষ নেতা হন? যারা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার পর রাজনৈতিক দলে যোগ দিয়ে সংসদ সদস্য হবার জন্য প্রতিযোগিতা করেন তিনি নির্বাচনি ব্যয় নির্বাহ করেন কিভাবে? কারণ নির্বাচন করার জন্য এখন প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হয়। কোনো সাধারণ মানুষের পক্ষে এত বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে নির্বাচনে অংশ নেয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত নেতাদের বিচার আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনালে সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ করেছেন। খুবই ভালো কথা। কিন্তু অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা অন্য রাজনৈতিক দলে অন্তর্ভুক্ত হয়ে রাজনীতি চর্চা করবেন না তার নিশ্চয়তা কি? এটা কি মাথা ব্যথার জন্য মাথা কেটে ফেলার মতো হলো না? রাজনৈতিক দল বিমুর্ত ধারনা মাত্র। রাজনৈতিক দল কখনোই অন্যায় করতে পারে না। বরং অন্যায় করেন তারা যারা রাজনৈতিক দল পরিচালনা করেন। বা নেতৃত্বে দেন। রাজনৈতিক দল একজন মানুষকে মহিমান্বিত বা কলুষিত করতে পারে না। বরং নেতারাই রাজনৈতিক দলকে কলুষিত করে। কাজেই রাজনৈতিক দলকে শাস্তি না দিয়ে যারা রাজনৈতিক পরিচালনা করেন তাদের শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা যেতে পারে।
অন্তর্বর্তীকালিন সরকার জাতীয় নির্বাচন এবং রাজনৈতিক সংস্কার প্রশ্নে এতটাই মগ্ন যে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে তেমন একটা মনোযোগ দিতে পারছেন না। ২০০৯ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত যারা বিদেশে অর্থ পাচার করেছেন তাদের বিচার কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার তেমন কোনো উদ্যোগ পরিলক্ষিত হচ্ছে না। যারা বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত তারা ধরা ছোঁয়ার বাইরে আছেন। কেউ কেউ হয়তো আটক হয়ে জেলে আছেন। কিন্তু এদের জন্য জেলে থাকা কোনো শাস্তি নয় বরং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। যারা রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাৎ বা দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ-বিত্ত গড়ে তোলার অভিযোগে অভিযুক্ত তাদের দ্রুত বিচারেই ব্যবস্থা করা যেতে পারে। একই সঙ্গে তাদের আওতাধীন যাবতীয় স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করতে হবে। সম্পদহারা মানুষের কোনো জাগতিক শক্তি থাকে না। তাই অপরাধিকে প্রথমেই সম্পদ হারা করা যেতে পারে। রাষ্ট্রের অনুকূলে অভিযুক্ত ব্যক্তির সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার পর তিনি যদি উপযুক্ত আদালত কর্তৃক নির্দোষ প্রমানিত হন তাহলে তার সম্পদ ফিরিয়ে দেয়া যেতে পারে। আর যদি নির্দোষ প্রমানিত না হন তাহলে বাজেয়াপ্তকৃত সম্পদ বিক্রি করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করা যেতে পারে। যারা দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত হয়েছেন উপযুক্ত আদালত কর্তৃক নিজেকে নির্দোষ প্রমান না করা পর্যন্ত তাদের রাষ্ট্রীয় ভাবে বয়কট করা যেতে পারে। তাদের সঙ্গে কোনো পারিবারিক সম্পর্ক স্থাপন করা উচিৎ হবে না।
আমরা যদি নির্মোহভাবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারি তাহলেই কেবল রাজনীতি শুদ্ধ হতে পারে। বিদ্যমান ব্যবস্থায় অনেকেই মনে করেন, রাজনীতি হচ্ছে স্বল্প সময়ে অর্থবিত্ত অর্জনের সবচেয়ে সহজ পন্থা।
Posted ০৬:৩৪ অপরাহ্ণ | সোমবার, ১২ মে ২০২৫
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com