সোমবার ১৮ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

Ad
x

উপমহাদেশে সংগীত জগতের কিংবদন্তি-শিল্পী রুনা লায়লা

মঙ্গলবার, ১৭ নভেম্বর ২০২০   প্রিন্ট   ৬৮৯ বার পঠিত

উপমহাদেশে সংগীত জগতের কিংবদন্তি-শিল্পী রুনা লায়লা

উপমহাদেশে সংগীত জগতের কিংবদন্তি-শিল্পী রুনা লায়লা। তার কণ্ঠে যুগের পর যুগ মুগ্ধ হয়ে আছে শ্রোতারা। কয়েক দশক ধরে খ্যাতির চূড়ায় অবস্থান করছেন তিনি। আজ এই শিল্পীর ৬৯তম জন্মদিন। ১৯৫২ সালের ১৭ নভেম্বর সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন এ গায়িকা।

রুনা লায়লার বাবার নাম এমদাদ আলী ও মায়ের নাম অনিতা সেন ওরফে আমেনা লায়লা। সংগীতময় পরিবেশে বেড়ে ওঠেন রুনা। তার মা সংগীতশিল্পী হিসেবে বেশ পরিচিত ছিলেন। বিখ্যাত সংগীতশিল্পী সুবীর সেন রুনা লায়লার মামা।

রুনা লায়লার শৈশব কেটেছে পাকিস্তানের করাচিতে। ১৯৫৫ সালের মার্চে রুনার যখন আড়াই বছর বয়স, তখন তার বাবা রাজশাহীর এমদাদ আলী বদলি হন পশ্চিম পাকিস্তানের মুলতানে। সেখানেই বড় হয়ে ওঠা তার। বড় বোন গান করতেন৷ রুনা করতেন নাচ। কিন্তু হঠাৎ বাঁকবদলে ছোট রুনাই হয়ে উঠলেন নন্দিত গায়িকা।বিগত শতাব্দীর ষাটের দশকে গানের ভুবনে যাত্রা শুরু করেন রুনা লায়লা। পাঁচ দশকের সংগীতজীবনে লোকজ, পপ, রক, গজল, আধুনিক—সব ধাঁচেই কৃতিত্ব দেখিয়েছেন রুনা। বাংলার পাশাপাশি হিন্দি, উর্দু, পাঞ্জাবি, সিন্ধি, গুজরাটি, বালুচ, অ্যারাবিক, ফারসি, মালয়, নেপালিজ, জাপানিজ, ইতালিয়ান, স্প্যানিশ, ফ্রেঞ্চ ও ইংরেজি ভাষার গানে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। বলা হয়, প্রায় ১৮টি ভাষায় গাইতে জানেন গুণী এই সংগীতশিল্পী।

বাংলাদেশের সিনেমায় রুনা লায়লার গাওয়া প্রথম গান গাজী মাজহারুল আনোয়ারের লেখা ও সুবল দাসের সুরে ‘গানেরই খাতায় স্বরলিপি লিখে…’। লাহোরে থাকাকালেই গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছিলেন তিনি। সিনেমায় প্লেব্যাক করে তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন ছয়বার। সিনেমাগুলো হলো- ‘দ্য রেইন’ (১৯৭৬), ‘জাদুর বাঁশি’(১৯৭৭), ‘অ্যাকসিডেন্ট’(১৯৮৯), ‘অন্তরে অন্তরে’ (১৯৯৪), ‘তুমি আসবে বলে’ (২০১২) এবং ‘দেবদাস’ (২০১৩)।

বলিউডের বেশ কয়েকটি ছবিতে গান গেয়েছেন রুনা লায়লা। সর্বশেষ গেয়েছিলেন ১৯৯০ সালে অমিতাভ বচ্চন অভিনীত ‘অগ্নিপথ’ ছবির ‘আলিবাবা মিল গ্যায়া চল্লিশ চোর সে’ গানটি। বলিউডে তার গাওয়া সবচেয়ে জনপ্রিয় গান ‘ও মেরা বাবু চেইল চেবিলা’। পাকিস্তানের ‘মান কি জিত’ (১৯৭২) ছবির এ গানটি ব্যবহার হয় বলিউডের ‘ঘর দুয়ার’ (১৯৮৫) ছবিতে।

রুনা লায়লা চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন। তিনি ‘শিল্পী’ নামক বাংলাদেশি চলচ্চিত্রে মূল চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসা পান তিনি। এখানে তার নায়ক ছিলেন তারই স্বামী অভিনেতা আলমগীর।

জীবনে বহু পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন রুনা লায়লা। ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে ‘স্বাধীনতা দিবস’ পুরস্কারে ভূষিত করে। সংগীতের জন্য তিনি নিজের দেশের গণ্ডি বিদেশেও নানা পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হন। রুনা লায়লা ভারতে ‘সায়গল পুরস্কার’ পেয়েছেন। পাকিস্তানে দুবার নিগার পুরস্কার, দুবার গ্র্যাজুয়েট পুরস্কার এবং ‘জাতীয় সংগীত পরিষদ স্বর্ণপদক’ পেয়েছেন। এছাড়াও নব্বইয়ের দশকে মুম্বাইয়ে পাকিস্তানি সুরকার নিসার বাজমির সুরে একদিনে ১০টি করে তিন দিনে ৩০টি গানে কণ্ঠ দিয়ে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লেখান রুনা।

Facebook Comments Box

Posted ১২:১৫ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১৭ নভেম্বর ২০২০

bankbimaarthonity.com |

আর্কাইভ ক্য

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১৩১৫
১৬১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১  
সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: ই-মেইল: bankbima1@gmail.com