নিজস্ব প্রতিবেদক | বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | 320 বার পঠিত

তড়িঘড়ি করে বীমা আইন ২০১০ সংশোধনের উদ্যোগে আপত্তি জানিয়েছেন বীমা খাতের অংশীজনরা। তারা মনে করেন, বীমা খাতের মতো সংবেদনশীল একটি খাতে আইন পরিবর্তনের আগে পর্যাপ্ত আলোচনা, পর্যালোচনা ও বিশেষজ্ঞদের মতামত গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।
সম্প্রতি বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন (বিআইএ)র এক বিশেষ সভায়ও অংশীজনরা এই অবস্থানের কথা তুলে ধরেছেন। সূত্র জানায়, গত ৫ নভেম্বর রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে বিভিন্ন বীমা কোম্পানির চেয়ারম্যান ও মুখ্য নির্বাহীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত ওই সভায় উপস্থিত অংশীজনরা জাতীয় নির্বাচনের আগে তড়িঘড়ি করে বীমা আইন ২০১০ সংশোধনের এই উদ্যোগে আপত্তি জানান। তারা বলেন, যেহেতু সামনে নির্বাচন রয়েছে, তাড়াহুড়া না করে ভোটের পরেই এটি সংশোধন করা উচিত।
সভায় বিআইএ’র নির্বাহী সদস্য ও বেঙ্গল ইসলামি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ভাইস চেয়ারম্যান আমিন হেলালী জাতীয় নির্বাচনের পরে বীমা আইন সংশোধনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “বীমা আইন সংশোধনের বিষয়ে আমরা আগ্রহী, তবে তড়িঘড়ি নয়। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত নিয়ে, সময় নিয়ে একটি বাস্তবসম্মত ও টেকসই আইন প্রণয়ন করতে হবে। যেহেতু সামনে জাতীয় নির্বাচন, সেহেতু ভোট সম্পন্ন হলে রাজনৈতিক সরকারের সময় এটি সংশোধন করা হোক।”
অংশীজনরা মনে করেন, বীমা খাতের স্থিতিশীলতা, গ্রাহক আস্থা এবং বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তা বজায় রাখতে আইন সংশোধনের আগে বিস্তৃত আলোচনার বিকল্প নেই। তারা বলেন, নতুন আইন এ খাতের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবে তাই এতে কোনো তাড়াহুড়ো করা উচিত নয়।
বীমা খাতের অংশীজনরা বলছেন, বীমা আইনে সংশোধন প্রস্তাব খসড়া তৈরিতে খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও আইনজ্ঞদের সমন্বয়ে কমিটি করে মতামত ও পরামর্শ নেয়া উচিত ছিল। যা এখানে উপেক্ষিত হয়েছে। তারা বলছেন, “আইনটি যদি নির্বাচনের আগে ত্রুটিপূর্ণভাবে সংশোধন করা হয়, তাহলে পরবর্তী সরকার সেটি পুনরায় সংশোধন করতে বাধ্য হবে। এতে খাতে অনিশ্চয়তা তৈরি হবে, যা কারও জন্যই ভালো নয়।”
বিআইএর সভায় অংশীজনরা জানান, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) প্রস্তাবিত খসড়া সংশোধনীর কিছু ধারা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের আপত্তি রয়েছে। তাই তারা পরামর্শ দেন নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর খসড়াটি পুনর্বিবেচনা করে অংশীজনদের মতামত সংযোজন করা হোক।
সভায় উপস্থিত নেতারা বলেন, বীমা শিল্প দেশের আর্থিক খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। সুতরাং এ খাতের আইন ও নীতিমালা পরিবর্তনের আগে অংশীজনদের সম্মিলিত পর্যালোচনা অপরিহার্য।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বীমা খাতের একাধিক অংশীজন বলেন, আইনে সংশোধনীর প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু তাড়াহুড়া করে নয়। শুধু নিয়ন্ত্রণের জন্য নয়, আইন সংশোধন করতে হবে গ্রাহকের স্বার্থ সুরক্ষা ও বীমা খাতের উন্নয়নের জন্য। তারা বলেন, সংশোধিত আইনের খসড়া আরো পর্যালোচনা করে গ্রাহকবান্ধব করতে হবে।
বিআইএ সূত্র জানায়, বীমা আইন ২০১০ এর সংশোধন প্রস্তাবের খসড়া নিয়ে ইতিমধ্যে বৈঠক করেছে সংগঠনটির টেকনিক্যাল কমিটি। ওই কমিটি প্রস্তাবিত সংশোধনীর বেশ কিছু দিক নিয়ে আলোচনা -পর্যালোচনা করেছে। আইনে যেসব সংশোধনী আনা হয়েছে তার অনেক কিছুর সঙ্গেই কমিটি দ্বিমত পোষণ করেছে। তারা মনে করছেন, এটি আরো গভীরভাবে পর্যালোচনা করতে হবে। তাড়াহুড়া করে চূড়ান্ত মতামত দেয়া ঠিক হবে না।
এদিকে বিআইএর সভার পরপরই অংশীজনের সঙ্গে আইনের সংশোধিত খসড়া নিয়ে ডাকা সভা স্থগিত করেছে আইডিআরএ। সূত্র জানায়, অংশীজনদের সঙ্গে সভা শেষে মতামতসহ সংশোধন প্রস্তাবের খসড়া আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পাঠাবে আইডিআরএ। এরপর আবারও মন্ত্রণালয় অংশীজনদের মতামত নেবে। এরপর আইনমন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। পরে অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় পাঠানো হবে। #
Posted ৯:১৮ অপরাহ্ণ | বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫
bankbimaarthonity.com | Reporter Rasel


