• বাংলাদেশে ইন্টারনেটের মূল্য ভারতের চারগুণ!

    বিবিএনিউজ.নেট | ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ৩:৩১ অপরাহ্ণ

    বাংলাদেশে ইন্টারনেটের মূল্য ভারতের চারগুণ!
    apps

    বাংলাদেশে প্রতি বছর বাড়ছে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী। গত ডিসেম্বরশেষে এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০ কোটি। এর প্রায় ৯৪ শতাংশই মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট ব্যবহাকারী। তবে এ খাতের ওলিগোপলি বাজারে (সীমিত সংখ্যক অপারেটর) অনেকটাই জিম্মি হয়ে পড়েছে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা। ফলে দেশে মোবাইল ফোনে ব্যবহৃত ইন্টারনেটের মূল্য।

    বর্তমানে বাংলাদেশে এক জিবি ইন্টারনেটের গড় মূল্য ভারতের প্রায় চারগুণ। কেব্ল.কো.ইউকের ‘ওয়ার্ল্ডওয়াইড মোবাইল ডেটা প্রাইসিং: দ্য কস্ট অব ওয়ান জিবি অব মোবাইল ডেটা ইন ২৩০ কান্ট্রিজ’ শীর্ষক বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে।

    Progoti-Insurance-AAA.jpg

    যুক্তরাজ্যভিত্তিক ইন্টারনেট সেবাদানকারী এ প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের ২৩০টি দেশের ছয় হাজার ৩১৩টি এক জিবি মোবাইল ডেটা প্ল্যান যাচাই-বাছাই করে এ বিশ্লেষণটি প্রণয়ন করে। এক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশের প্রায় একই সময়ের ডেটা প্ল্যানের মূল্য বিবেচনা করা হয়েছে।

    এতে দেখা যায়, বর্তমানে বিশ্বে এক জিবি মোবাইল ডেটার সর্বনিম্ন মূল্য ভারতে। দেশটিতে এক জিবি ডেটা কিনতে গ্রাহকদের গড়ে ব্যয় হয় ২৬ সেন্ট। আর বাংলাদেশে এক জিবি মোবাইল ডেটার গড় মূল্য ৯৯ সেন্ট। আর এক জিবি ডেটার মূল্য বিবেচনায় বিশ্বে বর্তমানে ১৩তম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।


    তথ্যমতে, ভারতে বর্তমানে ৫৭টি এক জিবি মোবাইল ডেটা প্ল্যান রয়েছে। এগুলোর মূল্য দুই সেন্ট থেকে এক ডলার ৪০ সেন্টের মধ্যে, স্থানীয় মুদ্রায় যা দাঁড়ায় এক দশমিক ৭৫ রুপি থেকে ৯৯ দশমিক ৯০ রুপি। আর দেশটির এক জিবি মোবাইল ডেটার গড় মূল্য ২৬ সেন্ট তথা ১৮ দশমিক ৫০ রুপি। এদিকে বর্তমানে বাংলাদেশে এক জিবি মোবাইল ডেটা প্ল্যান রয়েছে ৫৩টি। এগুলোর মূল্য ১৮ সেন্ট থেকে তিন ডলার ৮১ সেন্টের মধ্যে, দেশীয় মুদ্রায় যা দাঁড়ায় ১৪ টাকা ৯৭ পয়সা থেকে ৩২০ টাকা। আর এক জিবি মোবাইল ডেটার গড় মূল্য ৯৯ সেন্ট তথা ৮২ টাকা ৮৫ পয়সা।

    জানতে চাইলে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘ইন্টারনেটের মূল্যের ক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের তুলনা করা বেমানান। আমাদের দেশে মুক্তবাজার অর্থনীতি রয়েছে, তাই এখানে কোনো ধরনের ইন্টারনেটের মূল্য ফিক্সড বা বেঁধে দেওয়া হয়নি। প্রতিযোগিতামূলক বাজারে অপারেটররা যে দামে পারে, সেই দামেই তারা ইন্টারনেট বিক্রি করছে। আর ভারতে আমাদের চেয়ে জনসংখ্যা অনেক বেশি। সুতরাং ভারতের সঙ্গে আমাদের যথেষ্ট পার্থক্য থাকতেই পারে, এটাই স্বাভাবিক।’

    যদিও টেলিটকের এক জিবি ইন্টারনেট প্ল্যানের মূল্য অনেক কম দাবি করে মন্ত্রী বলেন, ইন্টারনেটের গড় মূল্য বিবেচনা না করে অপারেটরভিত্তিক পর্যালোচনা করা দরকার। কারণ বেসরকারি অপারেটররা বেশি দামে ইন্টারনেট বিক্রি করলেও টেলিটকের এক জিবি ডেটা প্যাকের মূল্য মাত্র ২৩ টাকা। তাই গড় মূল্য কখনোই প্রকৃত অবস্থা নির্দেশ করে না।

    যদিও শুধু ভারতই নয়, পাশ্ববর্তী দেশ মিয়ানমার ও শ্রীলঙ্কায়ও এক জিবি মোবাইল ডেটার মূল্য বাংলাদেশের চেয়ে অনেক কম। মিয়ানমারে এক জিবি মোবাইল ডেটার গড় মূল্য ৮৭ সেন্ট ও শ্রীলঙ্কায় ৭৮ সেন্ট।

    বাংলাদেশে ইন্টারনেটের উচ্চ মূল্য প্রসঙ্গে এমটবের (অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশ) মহাসচিব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এসএম ফরহাদ (অব.) বলেন, ‘একটি পণ্যের দাম নির্ধারণে অনেক ব্যাপার জড়িত থাকে। টেলিযোগাযোগ খাতে ডেটার মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রথমেই বিবেচনা করতে হয় বাল্ক (পাইকারি) ব্যান্ডউইড্থের দাম। এছাড়া স্পেকট্রামের দাম, ব্যবহারকারীর সংখ্যা ও ব্যান্ডউইড্থের পরিমাণ, টান্সমিশন খরচ, বিনিয়োগ, ভ্যাট, ট্যাক্স ও রেভিনিউ শেয়ারিং, প্রতিযোগিতা প্রভৃতি বিষয়ও উল্লেখ্যযোগ্য। সুতরাং এক দেশের সঙ্গে আরেক দেশের ইন্টারনেটের দামের তুলনা করা সম্ভব নয়।’

    এর বিরোধিতা করে মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ‘গ্রাহকদের ইন্টারনেটের সুবিধার আওতায় আনার পাশাপাশি ইন্টারনেটের ব্যবহার বাড়াতে সরকার ব্র্যান্ডউইড্থ ও ফাইবারের দাম অনেক কমিয়েছে। তবে গ্রাহকরা সেই সুবিধা পাচ্ছে না। যদিও মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো অজুহাত দেখিয়ে বলছে, কর অব্যাহতি বা রেওয়াত না থাকায় অপারেটরগুলো ইন্টারনেটের মূল্য কমাতে পারছে না। আর অতিরিক্ত মুনাফা করতে গিয়ে অপারেটগুলো শুভঙ্করের ফাঁকি দিচ্ছে।’

    বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) তথ্যানুযায়ী, ২০০৮ সালে দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ছিল আট লাখ। বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ কোটি ৯৪ লাখ। অর্থাৎ দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা গত ১২ বছরে প্রায় ১২৫ গুণ হয়েছে। এর মধ্যে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারী প্রায় ৯ কোটি ৩৭ লাখ।

    এদিকে গত এক যুগের ইন্টারনেটের বাল্ক (পাইকারি) মূল্য তথা ব্যান্ডউইড্থের মূল্য প্রায় ৯৯ শতাংশ কমানো হয়েছে। ২০০৮ সালে দেশে এক এমবিপিএস (মেগাবাইট পার সেকেন্ড) ব্যান্ডউইড্থের মূল্য ছিল ২৭ হাজার টাকা। সর্বশেষ গত জুনে তা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫০ টাকা। এর পরও ইন্টারনেটের মূল্য কমাচ্ছে না অপারেটররা। যদিও ২০১৮ সালে মোবাইল ইন্টারনেটের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন দাম বেঁধে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার। তবে দুই বছরেও তা কার্যকর হয়নি।

    বিটিআরসির চেয়ারম্যান জহুরুল হক এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘ইন্টারনেটের দাম নির্ধারণে আমাদের কাজ চলমান রয়েছে। এখানে অনেক বিষয় জড়িত থাকায় একটু সময় লাগছে। একজন গ্রাহক কী পরিমাণ ইন্টারনেট ব্যবহার করছে, তার সব তথ্যই আমাদের কাছে থাকবে। আশা করছি দ্রুতই এটি সম্পূর্ণ হবে। এটি সম্পূর্ণ হলে গ্রাহকদের ইন্টারনেট মূল্য নিয়ে আর অভিযোগ থাকবে না।’

    কেব্ল.কো.ইউকের বিশ্লেষণে দেখা যায়, বর্তমানে বিশ্বে মোবাইল ডেটার দ্বিতীয় সর্বনিম্ন মূল্য কিরগিজিস্তানে। দেশটিতে এক জিবি ডেটা কিনতে গ্রাহকদের গড়ে খরচ হয় ২৭ সেন্ট। আর তৃতীয় স্থানে থাকা কাজাখস্তানে এক জিবি ডেটার গড় মূল্য ৪৯ সেন্ট। এরপর রয়েছে যথাক্রমে ইউক্রেন (চতুর্থ), রুয়ান্ডা (পঞ্চম), সুদান (ষষ্ঠ), শ্রীলঙ্কা (সপ্তম), মঙ্গোলিয়া (অষ্টম), মিয়ানমার (নবম), কঙ্গো (দশম), ইসরাইল (একাদশ) ও রাশিয়া (দ্বাদশ)। দেশগুলোর এক জিবি ডেটার গড় মূল্য ৫১ সেন্ট থেকে ৯১ সেন্ট। এছাড়া বিশ্বের অন্যান্য দেশে এক জিবি ডেটার গড় মূল্য এক ডলারের বেশি।

    Facebook Comments Box

    বাংলাদেশ সময়: ৩:৩১ অপরাহ্ণ | বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০

    bankbimaarthonity.com |

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    Archive Calendar

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০৩১  
  • ফেসবুকে ব্যাংক বীমা অর্থনীতি