|

Advertisement
×

বীমা ব্যক্তিত্ব আবদুল জব্বার মেহমানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬   প্রিন্ট   ৯১ বার পঠিত

বীমা ব্যক্তিত্ব আবদুল জব্বার মেহমানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

আজ ৬ জুলাই, বীমা ব্যক্তিত্ব আবদুল জব্বার মেহমানের মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১৭ সালের এই দিনে তিনি না ফেরার দেশে চলে যান।

১৯৩৪ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তার জন্ম। বাবা মরহুম মুন্সি মোবারক আলী এবং মা মরহুমা আছিয়া খাতুন। পড়াশোনা করেছেন বরিশাল বিএম কলেজে। মিল্লাত পত্রিকায় সাংবাদিকতার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। তখন তার এক বন্ধু তাকে এজেন্ট করে মুসলিম ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে নিয়ে যান। সেখানেই ‘ইফু’ এবং এ উপমহাদেশের জীবনবীমার কিংবদন্তি বীমাবিদ খোদা বক্সের নামের সাথে পরিচিত হন। তিনি নিজ আগ্রহে খোদা বক্সের সাথে যোগাযোগ করেন এবং তাঁর কোম্পানিতে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন; খোদা বক্সও তাকে সাগ্রহে গ্রহণ করেন। তারই হাত ধরে আবদুল জব্বার মেহমানের ইন্স্যুরেন্সে পথচলা শুরু। একসাথে কাজ করার মাধ্যমে তাদের মাঝে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। বাড়ে সম্পর্কের গভীরতা; হয় সুদৃঢ়। মেহমানের ড্যাসিং-পুশিংয়ের ক্ষমতা ছিল অসাধারণ। খোদা বক্স তার এই ক্ষমতাটাকে খুব এডমায়ার করতেন। সব সময় তিনি আলাদা ইমেজ তৈরি করে চলতেন। ছিলেন স্টেট ফরওয়ার্ড, ছিলেন সৎ এবং সাহসী। সচেতনতা বোধটাও তার মধ্যে ছিল দৃঢ়।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর খোদা বক্সই মেহমানকে জীবনবীমা করপোরেশনের গ্রুপ ইন্স্যুরেন্স বিভাগের ইনচার্জ করে দেন। প্রিমিয়ার আদায়ের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন দারুণ দক্ষ। ছিলেন তিনি মিশুক প্রকৃতির মানুষ। ইন্স্যুরেন্স সেক্টরে আধিপত্য বিস্তার করতে তিনি সক্ষম হয়েছিলেন। সচেতনতাবোধটা তার ভেতরে ছিল, আর দৃষ্টি ছিল তার সর্বদা ওপরের দিকে।

একটা সময়ে বীমা দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও এর কার্যপরিধি অজ্ঞতার বেড়াজালেই আবদ্ধ ছিল। হাতেগোনা ব্যাংক ছিল ৫-৬টি আর অবহেলিত ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির সংখ্যাও ছিল ৫-৬টি। ব্যাংকবীমার তথ্য সংবলিত কোনো ইয়ার বুক বা কোনো পত্রিকা প্রকাশ হতো না তখন। এই অভাববোধ থেকেই বীমা সেক্টরকে বিকশিত করার লক্ষ্যে নব্বই দশকের প্রথম দিকে পাক্ষিক ব্যাংক বীমা পত্রিকা বের করার উদ্যোগ নেন। যার প্রতিষ্ঠাতা- প্রকাশক এবং সম্পাদক ছিলেন তিনি। অর্থনৈতিক সেক্টরে ব্যাংক বীমার মতো একটি মুখপত্রের যে প্রয়োজন, তা কতটা দূরদর্শী হলে অনুধাবন করা যায়, তার সাক্ষ্য রেখে গেছেন আবদুল জব্বার মেহমান। এ পত্রিকাটি প্রকাশ করে তিনি সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছিলেন; যা আজও পাঠকের কাছে সমাদৃত। দৈনিক ব্যাংক বীমা অর্থনীতি পত্রিকার সম্পাদক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানও এক সময় আবদুল জব্বার মেহমানের পত্রিকায় নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন; তার কাছ থেকে কাজ শিখে তিনি আজ বর্তমান অবস্থানে রয়েছেন। কেবল তিনি নন, মেহমানের অধীনে যারা কাজ করেছেন এবং কাজ শিখেছেন তাদের অনেকেই প্রতিষ্ঠিত, প্রকাশ করছেন পত্রিকাও।

ইকোনোমিক মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশন ২০১৯ সালের ১১ মার্চ আবদুল জব্বার মেহমানকে গুণীজন সম্মাননা (মরণোত্তর) প্রদান করে।

মেহমান ছিলেন ঢাকার গুলশান কেন্দ্রীয় মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। তিনি গুলশান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং গুলশান ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। তিনি ঢাকা ক্লাব সুইমিং পুল সংলগ্ন চিলড্রেন কমপ্লেক্সের দাতা সদস্য এবং বাংলাদেশ বুক ক্লাব ট্রাস্ট বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি রেড ক্রিসেন্ট, নজরুল একাডেমি ও বাংলা একাডেমির আজীবন সদস্য ছিলেন। ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন পেয়ে সংসদ সদস্য নিবাচনে অংশ নেন। এ নির্বাচনে তিনি জয়ী হতে না পারলেও নিজ এলাকায় জনহিতকর কাজ করে যথেষ্ট সুনাম অর্জন করেছেন। বরিশাল জেলার হিজলা উপজেলাধীন ‘আবদুল জব্বার মেহমান কলেজ’ তার সৃষ্টি। কলেজের অধীন আছে একটি ছাত্রাবাসও। সব সময় মানুষের কথা ভাবতেন, ভাবতেন নিজগ্রামের মানুষের কথা। পেয়েছিলেন আমেরিকার সিটিজেনশিপ, বছরে দু’বার ঘুরে আসতেন । তার চিকিৎসা হতো সেখানে। ওপেন হার্ট সার্জারিও হয়েছিল তার। কিন্তু এই সাহসী মানুষটি শেষমেশ হেরে গেলেন চিকুনগুনিয়া নামক রোগটির কাছে।

Facebook Comments Box

Posted ০৯:৪৫ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬

bankbimaarthonity.com |

সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: bankbima1@gmail.com