|

Advertisement
×
প্রস্তাবিত বীমাকারীর রেজুলেশন অধ্যাদেশ

আইডিআরএ’র নজিরবিহীন কর্তৃত্বে আস্থার বদলে শঙ্কা!

রবিবার, ১১ জানুয়ারি ২০২৬   প্রিন্ট   ৫৫৬ বার পঠিত

আইডিআরএ’র নজিরবিহীন কর্তৃত্বে আস্থার বদলে শঙ্কা!

বীমা খাতের দীর্ঘদিনের সংকট মোকাবিলায় প্রণীত হতে যাওয়া ‘বীমাকারীর রেজুলেশন অধ্যাদেশ, ২০২৫’ এর খসড়া একদিকে যেমন কঠোর নিয়ন্ত্রণের বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে তেমনি নিয়ন্ত্রক সংস্থার অতিরিক্ত ক্ষমতা নিয়ে নতুন করে শঙ্কাও তৈরি করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক ভারসাম্য ও জবাবদিহি না থাকলে এই অধ্যাদেশ বীমা খাতে আস্থা ফেরানোর বদলে অনিশ্চয়তা বাড়াতে পারে।

 

খসড়া অধ্যাদেশ অনুযায়ী, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এককভাবে কোনো বীমা কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ বাতিল, শীর্ষ কর্মকর্তাদের অপসারণ, প্রশাসক নিয়োগ এমনকি অবসায়নের সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের ব্যাপক ক্ষমতা একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থার হাতে কেন্দ্রীভূত হলে তা ক্ষমতার অপব্যবহারের ঝুঁকি বাড়ায়। স্বাধীন পর্যালোচনা বা শক্তিশালী আপিল ব্যবস্থার স্পষ্ট কাঠামো না থাকলে ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

 

অধ্যাদেশের অন্যতম নতুন সংযোজন ব্রিজ বীমাকারী প্রতিষ্ঠান গঠনের বিধান। তবে এই ধারণা বাংলাদেশে সম্পূর্ণ অপরীক্ষিত।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, সমস্যাগ্রস্ত কোম্পানির দায় ও সম্পদ ব্রিজ বীমাকারীতে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া যদি স্বচ্ছ না হয়, তাহলে দায় লুকানো, সম্পদ অবমূল্যায়ন বা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ উঠতে পারে। তাছাড়া এই ব্রিজ প্রতিষ্ঠানের তদারকি কাঠামো কেমন হবে, তা খসড়ায় এখনো স্পষ্ট নয়।

পরিচালকদের ব্যক্তিগত সম্পদ বিক্রি: আইনি জটিলতা

অধ্যাদেশে পরিচালকদের ব্যক্তিগত সম্পদ বিক্রি করে দাবি পরিশোধের বিধান রাখা হয়েছে, যা আইনগতভাবে সবচেয়ে বিতর্কিত অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যক্তিগত সম্পদের দায় নির্ধারণে দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া, মালিকানা প্রমাণ এবং আপিল-সব মিলিয়ে বাস্তবে এই বিধান কার্যকর করা কঠিন হবে। এতে একদিকে দাবি নিষ্পত্তি বিলম্বিত হতে পারে, অন্যদিকে আইনি জটিলতায় পুরো রেজুলেশন প্রক্রিয়াই স্থবির হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব:

বীমা খাতের উদ্যোক্তারা মনে করছেন, অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ ও অনিশ্চিত রেজুলেশন প্রক্রিয়া নতুন বিনিয়োগকারীদের নিরুৎসাহিত করতে পারে।
কোন পরিস্থিতিতে একটি কোম্পানিকে রেজুলেশনের আওতায় আনা হবে-সে বিষয়ে নির্দিষ্ট ও পরিমাপযোগ্য মানদণ্ড না থাকলে, সুস্থ ও দুর্বল কোম্পানির মধ্যে পার্থক্য অস্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে।

জবাবদিহির প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে:

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন-আইডিআরএ এই বিপুল ক্ষমতার জন্য কতটা জবাবদিহির আওতায় থাকবে?
স্বাধীন তদারকি বোর্ড, সংসদীয় নজরদারি বা বিচারিক পর্যালোচনার স্পষ্ট বিধান না থাকলে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষের প্রতিকার পাওয়ার পথ সীমিত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বীমাকারীর রেজুলেশন অধ্যাদেশ একটি প্রয়োজনীয় উদ্যোগ হলেও এর নেতিবাচক দিকগুলো উপেক্ষা করলে তা খাতের জন্য উল্টো ফল বয়ে আনতে পারে। শক্ত আইন যেমন জরুরি, তেমনি জরুরি ক্ষমতার ভারসাম্য, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি।
নইলে এই অধ্যাদেশ বীমা খাতে স্থিতিশীলতা আনার বদলে নতুন বিতর্ক ও অনিশ্চয়তার জন্ম দিতে পারে।

Facebook Comments Box

Posted ০৮:৫১ অপরাহ্ণ | রবিবার, ১১ জানুয়ারি ২০২৬

bankbimaarthonity.com |

সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: bankbima1@gmail.com