নিজস্ব প্রতিবেদক
বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬ প্রিন্ট ২ বার পঠিত
বাংলাদেশের পর্যটন খাতে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ নিয়ে কক্সবাজার-টেকনাফ অঞ্চলে আন্তর্জাতিক মানের পাঁচ তারকা পরিবেশবান্ধব অবকাশকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ লক্ষ্যে মালয়েশিয়ার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও হোটেল-রিসোর্ট উদ্যোক্তা তান শ্রী সৈয়দ ইউসুফ জোজো, মালদ্বীপের সাবেক উপরাষ্ট্রপতি ও পর্যটনমন্ত্রী আহমেদ আদিব এবং বাংলাদেশের ভার্সাটিলো গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. কামরুল আহসান একটি সমঝোতা স্মারকে (MoU) স্বাক্ষর করেছেন।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। কুয়ালালামপুরের পুলম্যান হোটেলে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয় বলে জানা গেছে।
প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, কক্সবাজার-টেকনাফ অঞ্চলে বৃহৎ পরিসরে একটি টেকসই, বিলাসবহুল ও পরিবেশবান্ধব অবকাশকেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশে একটি যৌথ বিনিয়োগ কোম্পানি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত প্রকল্পের আন্তর্জাতিক পরিচালনা ও ব্র্যান্ড অংশীদারিত্বের বিষয়ে বিশ্বখ্যাত কয়েকটি হোটেল ব্র্যান্ডের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে মুভেনপিক, নভোটেল ও গ্র্যান্ড হায়াত-এর নাম রয়েছে। বাণিজ্যিক আলোচনা ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে প্রকল্পের জন্য হোটেল ব্র্যান্ড ও পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান চূড়ান্ত করা হবে।
প্রস্তাবিত অবকাশকেন্দ্রে বিলাসবহুল হোটেল ও ভিলা, আন্তর্জাতিক মানের রেস্তোরাঁ, স্বাস্থ্য ও সুস্থতা কেন্দ্র, বিনোদন সুবিধা এবং প্রকৃতিনির্ভর পর্যটন অবকাঠামো রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
তান শ্রী সৈয়দ ইউসুফ জোজো মালয়েশিয়ার হোটেল ও পর্যটন খাতের একজন বিশিষ্ট উদ্যোক্তা। বিভিন্ন আন্তর্জাতিকমানের হোটেল ও অবকাশকেন্দ্রের উন্নয়ন ও প্রতিষ্ঠার সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে। এর মধ্যে ফোর সিজনস কুয়ালালামপুর, কনকর্ড হোটেল, কাসা ডেল মার লাংকাউই, কাসা ডেল রিও মালাক্কা, জেডব্লিউ ম্যারিয়ট রিসোর্ট, হার্ড রক হোটেল পেনাং ও হার্ড রক ক্যাফেসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর তান শ্রী সৈয়দ ইউসুফ জোজো বলেন, ‘বাংলাদেশের পর্যটন খাতের একটি নতুন অধ্যায়ের অংশ হতে পেরে তিনি আনন্দিত ও সম্মানিত।’ কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক মানের পাঁচ তারকা পরিবেশবান্ধব অবকাশকেন্দ্র গড়ে তোলার সম্ভাবনাকে তিনি আকর্ষণীয় ও বিনিয়োগবান্ধব হিসেবে উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পর্যটন সম্ভাবনাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে তার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর আগ্রহের কথাও জানান তিনি।
মালদ্বীপের সাবেক উপরাষ্ট্রপতি ও পর্যটনমন্ত্রী আহমেদ আদিবও প্রকল্পটিতে তার সরকারি ও পর্যটন খাতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
তিনি বলেন, ‘মালদ্বীপের পর্যটন উন্নয়নের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশে কাজে লাগানোর এটি একটি অসাধারণ সুযোগ।’ বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তোলার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নিজের অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও বিনিয়োগের মাধ্যমে এ উদ্যোগে অবদান রাখার প্রতিশ্রুতিও ব্যক্ত করেন আহমেদ আদিব।
ভার্সাটিলো গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. কামরুল আহসান বলেন, ‘বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আনা এবং বৈশ্বিক ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা নিয়ে আসা দেশের প্রতি দায়িত্ব ও দেশপ্রেমের অংশ।’
তান শ্রী সৈয়দ ইউসুফ জোজো এবং সাবেক উপরাষ্ট্রপতি আহমেদ আদিবের মতো আন্তর্জাতিকভাবে অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্বরা বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদার হতে আগ্রহী হওয়াকে তিনি আনন্দ ও গর্বের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন।
ড. কামরুল আহসান বলেন, ‘আমরা শুধু একটি হোটেল নির্মাণ করতে চাই না। আমাদের লক্ষ্য কক্সবাজারে এমন একটি আন্তর্জাতিক মানের পরিবেশবান্ধব অবকাশকেন্দ্র তৈরি করা, যা বাংলাদেশের পর্যটনকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে বাংলাদেশকে নতুনভাবে তুলে ধরবে।’
তবে প্রস্তাবিত প্রায় ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ এখনো সম্ভাব্যতা যাচাই, বিস্তারিত পর্যালোচনা, প্রকল্পের স্থান নির্বাচন, প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন এবং চূড়ান্ত বিনিয়োগ চুক্তির ওপর নির্ভরশীল।
কক্সবাজারের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকতের পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য একটি বিশ্বমানের, টেকসই ও বিলাসবহুল পর্যটন গন্তব্য গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
Posted ০৮:০৯ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com