নিজস্ব প্রতিবেদক
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রিন্ট ৮ বার পঠিত
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিতে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ গঠন, ব্যাংকের কথিত লুণ্ঠিত অর্থ উদ্ধার এবং গ্রাহকদের ওপর হামলার বিচারসহ সাত দফা দাবি জানিয়েছে ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’। দাবি বাস্তবায়নে ২১ সেপ্টেম্বর ইসলামী ব্যাংক টাওয়ার থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাব অভিমুখে মিছিলসহ তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সংগঠনটি।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংক টাওয়ার প্রাঙ্গণে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি ও কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে গ্রাহক ফোরামের নেতারা বলেন, ইসলামী ব্যাংক শুধু একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান নয়, এটি দেশের বিপুলসংখ্যক গ্রাহক, আমানতকারী, প্রবাসী, উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীর আস্থা ও আর্থিক নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত। তাদের অভিযোগ, ২০১৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ব্যাংকটি দখল ও অনিয়মের শিকার হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশ ব্যাংক আগের পরিচালনা পর্ষদ বাতিল, এস আলমের শেয়ার স্থগিত এবং তারল্য সহায়তা দেওয়ার পর ব্যাংকে আস্থা ফেরার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল বলেও দাবি করেন তারা।
তবে ২০২৬ সালের এপ্রিল-মে মাসে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন এবং বিতর্কিত ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন গ্রাহক ফোরামের নেতারা। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৩ জুন বাংলাদেশ ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকের পুরো পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক জহির হোসেনকে দিয়ে এক সদস্যের অন্তর্বর্তীকালীন বোর্ড গঠন করে।
গ্রাহক ফোরামের অভিযোগ, তিন মাসের বেশি সময় পার হলেও ব্যাংকের জন্য পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠনের দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওপর দায় চাপিয়ে দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে বলেও তারা দাবি করেন।
সংগঠনটির নেতারা জানান, গত ২৪ মে থেকে ইসলামী ব্যাংকে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত, সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিচালনা পর্ষদ গঠন, কথিত লুণ্ঠিত অর্থ উদ্ধার এবং দায়ীদের বিচারের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন তারা। এ ছাড়া গত ১৭ জুন বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে ব্যাংকের পরিস্থিতি তুলে ধরে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠনের দাবি জানানো হয়।
গ্রাহক ফোরামের সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে সৎ, যোগ্য, অভিজ্ঞ ও পেশাদার ব্যক্তিদের সমন্বয়ে পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ গঠন; ২০১৭ সালে কথিতভাবে পরিবর্তিত মালিকানা কাঠামো পুনর্বিবেচনা; এস আলমের কথিত অবৈধভাবে অর্জিত শেয়ার ও পাচারকৃত সম্পদ আইন অনুযায়ী বাজেয়াপ্ত করে ব্যাংকের দায় পরিশোধ; এবং ব্যাংক লুটের সঙ্গে জড়িতদের বিচারে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন।
এ ছাড়া আগামী দুই বছর ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন নির্বাহীদের চাকরি থেকে অব্যাহতি না দেওয়া, অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের চুক্তিভিত্তিক মেয়াদ নবায়ন, কথিত সুবিধাভোগী কর্মকর্তাদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া, ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার বন্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিশেষ টাস্কফোর্সের মাধ্যমে ব্যাংকের কথিত লুণ্ঠিত অর্থ উদ্ধারের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
গ্রাহক ফোরামের দাবি, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে এনে ব্যাংকের দায় পরিশোধের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি ঋণখেলাপি ও অর্থ লুটের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ আইন অনুযায়ী জব্দ ও বিক্রির মাধ্যমে ব্যাংকের দেনা পরিশোধের ব্যবস্থা করার কথাও বলা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা প্রতিনিধি পরিচালক নিয়োগসংক্রান্ত নির্দেশনার কথাও তুলে ধরে সংগঠনটি। গত ১৭ সেপ্টেম্বর ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারার আওতায় জারি করা ওই নির্দেশনার আলোকে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে স্বচ্ছতা, সুশাসন ও আমানতকারীদের স্বার্থ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
গ্রাহক ফোরামের নেতারা বলেন, ইসলামী ব্যাংক কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা গোষ্ঠীর সম্পদ নয়। এটি দেশের বিপুলসংখ্যক গ্রাহকের আমানত ও আর্থিক স্বার্থের সঙ্গে জড়িত একটি প্রতিষ্ঠান। তাই ব্যাংকের ভবিষ্যৎ পরিচালনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করা জরুরি।
দাবি বাস্তবায়নে তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামীকাল ২১ সেপ্টেম্বর ইসলামী ব্যাংক টাওয়ার থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাব অভিমুখে মিছিল করা হবে। ২২ সেপ্টেম্বর ঢাকা ছাড়া দেশের সব জেলা সদর ও মহানগরীতে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান শাখার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। ২৪ সেপ্টেম্বর দেশের সব উপজেলা শাখার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান চেয়ারম্যান জহির হোসেনকে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়। তাদের দাবি, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থাপনায় ব্যাংকের কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হচ্ছে না।
গ্রাহক ফোরামের নেতারা বলেন, এসব কর্মসূচির পরও দাবি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়া হলে ঢাকায় গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডারদের মহাসমাবেশ করা হবে। একই সঙ্গে সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত ইসলামী ব্যাংকের সুশাসন, স্থিতিশীলতা এবং গ্রাহকদের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।
Posted ০৫:৪৩ অপরাহ্ণ | রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com