|

Advertisement
×

চালের বাজারে অস্থিরতা

মঙ্গলবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২০   প্রিন্ট   ৭৩৯ বার পঠিত

চালের বাজারে অস্থিরতা

পরিকল্পিতভাবে সরবরাহ বন্ধ রেখে দেশব্যাপী চালের বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে মিল মালিকদের বিরুদ্ধে। বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের চালের পাইকারি বাজার চাক্তাই ও পাহাড়তলীতে সপ্তাহের ব্যবধানে চালের দাম বস্তায় (৫০ কেজি) বেড়েছে ২০০-৩৫০ টাকা পর্যন্ত। পাইকারদের অভিযোগ, অর্ডারের টাকা নিয়েও চাল দিচ্ছে না মিলাররা। এ অবস্থায় শুল্ক তুলে দিয়ে আমদানি উš§ুক্ত করে দেয়ার পরামর্শ পাইকারি ব্যবসায়ীদের।

এদিকে মিলমালিকদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করে চালের দর বেঁধে দিয়েও বাজারে তা কার্যকর করতে পারেনি সরকার। উল্টো পাইকারি পর্যায়ে সরকারের বেঁধে দেয়া ৫১ টাকা ৫০ পয়সার প্রতি কেজি সরু চালের দর ওঠে ৫৯-৬০ টাকা আর ৪৬ টাকা কেজির মাঝারি চালের দর ওঠে ৫১ টাকা পর্যন্ত। মিলমালিকদের লাগাম টানতে ব্যর্থ হওয়ায় আমনের ভরা মৌসুমে আমদানির পথে হাঁটছে সরকার।

পাহাড়তলী পাইকারি বাজারের আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন শেয়ার বিজকে বলেন, ‘চালের দাম সপ্তাহ ব্যবধানে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রায় সব ধরনের চালের ওপর বস্তায় ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। চালের বাজারের নিয়ন্ত্রণ সরকারের হাতে নেই। চালের বাজার পাবলিকের হতে চলে যাওয়া নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের মিলমালিকরা সিন্ডিকেট করে চালের দাম বৃদ্ধি করে। তাই পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে সরকার আমদানির বিষয়ে চিন্তা করতে পারে।’

চাক্তাই ও পাহাড়তলী পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা যায়, স্বর্ণ সিদ্ধ চাল চাক্তাই বাজারে ৫০ কেজির বস্তা বিক্রয় হচ্ছে ২ হাজার ৩৫০ টাকা, যা গত সপ্তায় ছিল ২ হাজার ২০০ টাকা। যদিও এসব চাল চলতি বছরের শুরুতে ১ হাজার ৪৭০ থেকে ১ হাজার ৪৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। আর পাইজাম বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ২৫০ টাকায়, যা ১৫ দিন আগে বিক্রি হয়েছিল দুই হাজার টাকা। এ চালও বছরের শুরুতে বিক্রি হয়েছিল ১ হাজার ৬০০ টাকায়।

এছাড়া বেতিআতপ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৪০০ টাকা, যা গত সপ্তায় ২ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। আর বেতি সিদ্ধ চাল বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৫০০ টাকায় ৫০ কেজির বস্তা, যা এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয়েছিল ২ হাজার ৩০০ টাকা। তবে বছরের শুরুতে বেতিআতব ১ হাজার ৬০০ টাকা ও বেতি সিদ্ধ ১ হাজার ৭০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল।

এদিকে সরু চালের মধ্যে মিনিকেট সিদ্ধ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৫৫০ টাকায়, যা ১৫ দিন আগে ছিল ২ হাজার ৩০০ টাকা। আর মিনিকেট আতব বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৭৫০ টাকায় ৫০ কেজির বস্তা, যা ১৫ দিন আগে ছিল ২ হাজার ৪০০ টাকা। এসব চাল বছরের শুরুতে ১ হাজার ৮০০ টাকায় পাইকারি বাজারে বিক্রি হয়েছিল। জিরাশাইল এক সপ্তার আগে ২ হাজার ৬০০ টাকায় বস্তা বিক্রি হলেও বর্তমানে ২৯৫০-৩০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে পাইকারি বাজারে। সরু চালের মধ্যে কাটারি বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৮০০ টাকায়, যা গত সপ্তায় ছিল ২ হাজার ৪০০ টাকা।

পাশাপাশি মোটা চালের দাম বস্তায় ১০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে পাইকারি বাজারে। অথচ বছরের শুরুতে এসব চাল বিক্রি হয়েছিল ১ হাজার ২০০ টাকায়।
ব্যবসায়ীরা জানান, ২৯৫০-৩০০০ টাকা পর্যন্ত চালের দাম উঠেছে। কিন্তু ১৫ দিন আগের অর্ডার করা চাল এখনও পাইনি। তারা বলেন, মিলে যদি চালের বস্তা দুদিন পরে থাকে। তাহলে তো ১০০ টাকা দাম বাড়বে। তাই মিলমালিকরা আমাদের কাছে কম চাল সরবরাহ করছে।

এ বিষয়ে চাক্তাই চাল আড়তদার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ওমর আজম শেয়ার বিজকে বলেন, ভরা মৌসুমে চালের দাম বৃদ্ধি পাওয়া সবার জন্য চিন্তার বিষয়। মিলমালিকেদর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে মাঠ পর্যায়ে ধানের দাম বেশি, তাই চালের দাম বাড়ছে।

এ বিষয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয় বলছে, অস্থির বাজার নিয়ন্ত্রণে ইতোমধ্যে এক লাখ টন চাল আমদানির প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে; যা কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই দেশে আসবে বলে আশা করছে খাদ্য মন্ত্রণালয়।

 

Facebook Comments Box
✎ মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Posted ০৪:৪৩ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২০

bankbimaarthonity.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: bankbima1@gmail.com