অনলাইন ডেস্ক
রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ প্রিন্ট ৪ বার পঠিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : বন্যা, খরা, লবণাক্ততা ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির মতো জলবায়ুজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় দক্ষিণ এশিয়ার মৎস্য ও জলজ চাষ খাতে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ ও নীতিনির্ধারকরা। একই সঙ্গে জলবায়ু-সহনশীল উৎপাদনব্যবস্থা গড়ে তুলতে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ, গবেষণা এবং প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।
শনিবার কুমিল্লার বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে (বার্ড) ‘দক্ষিণ এশিয়ায় জনগোষ্ঠীভিত্তিক জলবায়ু-সহনশীল জলজ চাষ উন্নয়ন’ শীর্ষক তিন দিনব্যাপী আঞ্চলিক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলা হয়। সার্ক কৃষি কেন্দ্র ও শিক্ষা স্বাস্থ্য উন্নয়ন কার্যক্রম (শিশুক) যৌথভাবে এ কর্মশালার আয়োজন করে।
সার্ক কৃষি কেন্দ্রের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কর্মশালায় সার্কভুক্ত বাংলাদেশ, ভুটান, মালদ্বীপ, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার পাশাপাশি থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার প্রায় ৫০ জন প্রতিনিধি অংশ নেন। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে মৎস্য ও জলজ চাষ খাতে সৃষ্ট চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং এ খাতের দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন তারা।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল ওহাব। তিনি জলবায়ু-সহনশীল মৎস্য ও জলজ চাষের উন্নয়নে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগের সম্ভাবনা তুলে ধরেন। অভিন্ন জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় দেশগুলোর মধ্যে জ্ঞান, প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের স্বাগত জানান সার্ক কৃষি কেন্দ্রের সিনিয়র প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট (ফিশারিজ) ড. মো. শরীফুল ইসলাম। তিনি বলেন, মৎস্য ও জলজ চাষ খাতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় অভিযোজন সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। এ ক্ষেত্রে দেশভিত্তিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পাশাপাশি জনগোষ্ঠীভিত্তিক উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
শিশুকের নির্বাহী পরিচালক সাকিউল মিল্লাত মোরশেদ টেকসই জলজ চাষের উন্নয়নে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা ও মৎস্যচাষিদের সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেন। তার মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এবং মৎস্যচাষিদের ক্ষমতায়ন গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) মহাপরিচালক ড. মো. লতিফুল ইসলাম জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে মৎস্য গবেষণা ও উদ্ভাবনের ভূমিকা তুলে ধরেন। জলবায়ুজনিত চ্যালেঞ্জের কার্যকর সমাধান খুঁজতে গবেষণা কার্যক্রম ও নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ বলে আলোচনায় উঠে আসে।
সার্ক সচিবালয়ের পরিচালক ও সার্ক মহাসচিবের প্রতিনিধি তানভীর আহমেদ তরফদার দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর অভিন্ন জলবায়ু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা ও জ্ঞান বিনিময়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। সার্ক কৃষি কেন্দ্রের গভর্নিং বোর্ডের সভাপতি শবনম শিবাকোটি এ খাতে জলবায়ু-সহনশীলতা বাড়াতে আঞ্চলিক সহযোগিতা ও প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্ব জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন।
সার্ক কৃষি কেন্দ্রের পরিচালক ড. মো. গোলাম মাহবুব বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় জলবায়ু-সহনশীল জলজ চাষের বিকাশ এবং মানুষের জীবিকা সুরক্ষায় আঞ্চলিক সহযোগিতা, জ্ঞান বিনিময় ও জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। টেকসই উৎপাদনব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়াতে গবেষক, নীতিনির্ধারক ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
কর্মশালায় আলোচনার মূল লক্ষ্য হলো জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো এবং জনগোষ্ঠীকেন্দ্রিক উদ্যোগের মাধ্যমে মৎস্য ও জলজ চাষের স্থায়িত্ব বাড়ানোর পথ খুঁজে বের করা। সংশ্লিষ্টদের মতে, আঞ্চলিক সমন্বয় ও স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ জোরদার করা গেলে জলবায়ু পরিবর্তনের মধ্যেও এ খাতের উৎপাদন ও জীবিকা সুরক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব।
Posted ১০:৩১ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
bankbimaarthonity.com | Animator Alif
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com
✎ মন্তব্য করুন