অনলাইন ডেস্ক
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬ প্রিন্ট ১৯ বার পঠিত
দুই অর্থবছরে ৫০ কোটি ডলার করে চায় ঢাকা, জ্বালানি ব্যয় মেটাতে বাড়ছে বিদেশি ঋণের নির্ভরতা
জাপানের কাছে ১০০ কোটি মার্কিন ডলার বাজেট সহায়তা চাইতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চলতি মাসের শেষ দিকে জাপান সফরে এ বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৫০ কোটি ডলার এবং আগামী অর্থবছরে আরও ৫০ কোটি ডলার সহায়তা চাওয়া হবে।
সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২৬ অক্টোবর চার দিনের সফরে জাপান যেতে পারেন। সফরে দুই দেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এর পাশাপাশি বাজেট সহায়তার বিষয়টিও গুরুত্ব পেতে পারে।
জ্বালানি ও খাদ্যপণ্য আমদানির ব্যয় বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার কারণে সরকারের আর্থিক চাপ বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে বৈদেশিক অর্থায়নের মাধ্যমে বাজেটের বাড়তি ব্যয় সামাল দিতে চায় সরকার।
অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে প্রায় ৩১১ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা পেয়েছে বাংলাদেশ। মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক ধাক্কা সামলাতে এ অর্থ ব্যবহার করা হয়েছে।
এর বড় অংশ ব্যয় হয়েছে জ্বালানি তেল, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও খাদ্যপণ্যের বাড়তি আমদানি ব্যয় মেটাতে।
বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) এবং এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক (এআইআইবি) থেকে এসব সহায়তার বড় অংশ এসেছে।
এর আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরেও উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে প্রায় ৩০০ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা পেয়েছিল বাংলাদেশ।
তবে অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি অর্থবছরের গত তিন মাসে সরকার এখনো কোনো বাজেট সহায়তার ঋণ পায়নি।
জ্বালানি সংকটের ধাক্কা সামলাতে গত বছর ওপেক ফান্ড ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের (ওএফআইডি) কাছে বাজেট সহায়তা চেয়েছিল বাংলাদেশ। সংস্থাটি থেকে প্রায় ১০ কোটি ডলার পেতে এখন চূড়ান্ত আলোচনা শুরুর প্রস্তুতি চলছে।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ সংস্থার কাছ থেকে ১১ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা পেয়েছিল বাংলাদেশ।
অন্যদিকে, চলতি সময়ে জাইকার সঙ্গে নতুন কোনো বাজেট সহায়তা ঋণ নিয়ে আলোচনা চলছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জাইকার কাছ থেকে ৩১ কোটি ৬০ লাখ ডলার এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৪১ কোটি ৪০ লাখ ডলার পেয়েছিল বাংলাদেশ।
তবে জ্বালানি তেল ও এলএনজি আমদানির ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় জাইকার কাছ থেকে আবারও বাজেট সহায়তা নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
এ ছাড়া এডিবির সঙ্গে কয়েকটি বাজেট সহায়তা ঋণ নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা চলছে। তবে আগামী বছরের মার্চের আগে এসব ঋণ চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
বাংলাদেশের অর্থনীতি ২০২২ সালের শুরু থেকে বড় ধরনের চাপের মুখে পড়ে। ওই বছরের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যায়। এর প্রভাবে দেশে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পায় এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ তৈরি হয়।
একই সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ ও রপ্তানি আয় কমে যাওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও চাপ বাড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারকে কঠোর ব্যয়সাশ্রয়ী পদক্ষেপ নিতে হয়।
অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সহায়তা চায় বাংলাদেশ। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে সংস্থাটি বাংলাদেশের জন্য ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ অনুমোদন করে।
চলতি বছরের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত জ্বালানি উৎপাদন ও পরিবহনব্যবস্থায় বিঘ্ন সৃষ্টি করায় তেল ও এলএনজির দাম আরও বেড়ে যায়। এতে জ্বালানি খাতে সরকারের ভর্তুকি ব্যয় বৃদ্ধি পায়।
বছরের পর বছর ভর্তুকির চাপ বাড়ায় সরকারের পরিচালন ব্যয়ও বেড়েছে। ফলে জ্বালানির বাড়তি দামের ধাক্কা সামলাতে আরও বেশি বাজেট সহায়তা সংগ্রহের চেষ্টা করছে সরকার।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন এর আগে দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসকে বলেছিলেন, উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে বাজেট সহায়তা পাওয়ার বিষয়টি অনেকাংশে আইএমএফের সঙ্গে সরকারের অবস্থান ও সমঝোতার ওপর নির্ভর করে।
তিনি বলেন, সংকট মোকাবিলায় যতটা সম্ভব বাজেট ব্যয় কমাতে হবে। সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করা গেলে আমদানির প্রয়োজন কমবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদাও হ্রাস পাবে।
জাহিদ হোসেন বিনিময় হারকে পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখার পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক জ্বালানির দামের মধ্যে ব্যবধান না রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।
সব মিলিয়ে, জাপানের কাছে প্রস্তাবিত ১০০ কোটি ডলারের বাজেট সহায়তা চাওয়ার উদ্যোগ সরকারের বৈদেশিক অর্থায়ন সংগ্রহের চলমান প্রচেষ্টার অংশ। তবে অর্থায়ন চূড়ান্ত করতে আলোচনা, ঋণদাতাদের শর্ত এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
Posted ১০:২৯ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
bankbimaarthonity.com | Animator Alif
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com