নিজস্ব প্রতিবেদক
বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬ প্রিন্ট ৫৭ বার পঠিত
জাল শেয়ারকে জামানত হিসেবে গ্রহণ করে ঋণ অনুমোদনের মাধ্যমে ব্যাংকের অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ঢাকা ব্যাংক লিমিটেডের সাবেক চার কর্মকর্তাকে পৃথক তিন ধারায় মোট ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তবে সাজাগুলো একসঙ্গে কার্যকর হওয়ায় তাদের সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাভোগ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১-এর বিচারক মুহা. হাসানুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন ব্যাংকের কেন্দ্রীয় হিসাব বিভাগ ও ইনভেস্টমেন্ট বিভাগের সাবেক নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট কাজী ফরিদ উদ্দিন আহমেদ (এফসিএ), সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আবু মোহাম্মদ সাঈদ খান, সাবেক সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার প্রবীর কুমার ভৌমিক এবং শওকত আলী।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রসিকিউটর মীর আহম্মেদ আলী জানান, অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের দায়ে প্রত্যেককে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। এছাড়া জালিয়াতির অভিযোগে প্রত্যেককে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থ আত্মসাতের অভিযোগেও প্রত্যেককে আরও পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ জরিমানা পরিশোধ না করলে অতিরিক্ত তিন মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
তিনি জানান, তিনটি ধারার সাজা একই সঙ্গে কার্যকর হবে। ফলে দণ্ডপ্রাপ্তদের কার্যকর কারাদণ্ডের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ ১০ বছর।
রায় ঘোষণার সময় আসামি শওকত আলী আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তাঁর আইনজীবী সময়ের আবেদন করলেও আদালত তা নাকচ করেন। পরে তাঁর জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। অপর তিন আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পর তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০০২ সালের ৪ নভেম্বর মোহাম্মদ ইউসূফ আলী ঢাকা ব্যাংকে একটি হিসাব খুলে ওভারড্রাফট সুবিধার জন্য আবেদন করেন। পরে তাঁকে ১৭ লাখ টাকা ঋণ দেওয়া হয়। ঋণের নিরাপত্তা হিসেবে কনফিডেন্স সিমেন্ট লিমিটেডের এক হাজার এবং মেঘনা সিমেন্ট লিমিটেডের সাড়ে সাত হাজার শেয়ার জমা দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে ঋণ সমন্বয়ের সময় যাচাই-বাছাই করে দেখা যায়, জামানত হিসেবে দেওয়া সব শেয়ারই জাল। অভিযোগে বলা হয়, ভুয়া শেয়ার ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে ঋণ নিয়ে ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ করা হয় এবং এতে শওকত আলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যোগসাজশে সহায়তা করেন।
ঘটনার পর ২০০৮ সালের ৩১ মে ঢাকা ব্যাংকের তৎকালীন সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট সিরাজুল হক মতিঝিল থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই বছরের ১৪ ডিসেম্বর তদন্ত শেষে প্রথম অভিযোগপত্রে কেবল শওকত আলীকে আসামি করা হলেও পরে মামলাটি অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।
অধিকতর তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ২২ আগস্ট দুদকের সহকারী পরিচালক কামিয়াব আফতাহি-উন-নবী চারজনকে আসামি করে নতুন অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০২৫ সালের ১৬ জানুয়ারি তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। বিচার চলাকালে আদালত ১৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের পর এ রায় দেন।
Posted ০৭:২৪ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com