নিজস্ব প্রতিবেদক
বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬ প্রিন্ট ৩৩ বার পঠিত
বীমা দাবি নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে রাষ্ট্রায়ত্ত পুনঃবীমা প্রতিষ্ঠান সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের (এসবিসি) চেকলিস্টে বাধ্যতামূলক অডিট রিপোর্ট জমা দেওয়ার শর্ত নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে দেশের বীমা কোম্পানিগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন (বিআইএ)। সংগঠনটির দাবি, দাবি নিষ্পত্তির সঙ্গে অডিট রিপোর্টের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই; ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণে সার্ভেয়ার বা জরিপকারীর প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত।
সম্প্রতি বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) নন-লাইফ অনুবিভাগের উদ্যোগে সাধারণ বীমা কর্পোরেশন (এসবিসি) ও বিআইএর প্রতিনিধিদের নিয়ে বীমা দাবির পলিসিভিত্তিক চেকলিস্ট সহজীকরণ বিষয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় এসবিসির বিদ্যমান চেকলিস্টে অডিট রিপোর্ট বাধ্যতামূলক রাখার বিষয়ে তীব্র আপত্তি জানায় বিআইএ।
সভা সূত্রে জানা যায়, বিআইএর নেতারা যুক্তি দেন, বিদেশি পুনঃবীমাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো পুনঃবীমা দাবি নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের কাছে অডিট রিপোর্ট চায় না। ফলে দেশীয় বীমা কোম্পানিগুলোর কাছেও একই ধরনের শর্ত আরোপ যৌক্তিক নয়। তাদের মতে, বাধ্যতামূলক অডিট রিপোর্টের কারণে দাবি নিষ্পত্তিতে অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়। তারা বলেন, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে আগে থেকেই প্রি-ইন্সপেকশন এবং পরে সার্ভেয়ার জরিপ করেন। তাই অতিরিক্তভাবে অডিট রিপোর্ট চাওয়ার প্রয়োজন নেই।
গত ১৭ জুলাই আইডিআরএর সদস্য (নন-লাইফ) মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের বিদ্যমান দাবি নিষ্পত্তির চেকলিস্ট সদস্যদের সামনে উপস্থাপন করা হয়। চেকলিস্টের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শেষে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, বীমা দাবির পলিসিভিত্তিক দলিলাদির চেকলিস্ট বিষয়ে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন (বিআইএ) ও সাধারণ বীমা কর্পোরেশন (এসবিসি) নিজস্বভাবে আলোচনা করে আগামী ১০ আগস্টের মধ্যে আইডিআরএর কাছে তাদের মতামত ও সংশোধনী প্রস্তাব জমা দেবে। প্রাপ্ত মতামতের ভিত্তিতে আইডিআরএ পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে। একই সঙ্গে যে বছরের দাবি, সে বছরের অনুমোদিত চেকলিস্ট অনুযায়ী দাবি নিষ্পত্তির নীতিগত সিদ্ধান্তও সভায় গৃহীত হয়।
সভায় সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের পরিচালক ড. নিখিল চন্দ্র শীল বলেন, বীমা জরিপ কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে অনেক সময় বীমাগ্রহীতার অডিট রিপোর্ট প্রয়োজন হতে পারে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, বীমা আইনের বিধি-বিধান অনুসারে লস অ্যাডজাস্টমেন্ট করতে হবে; কেবল অডিট রিপোর্ট বা ব্যালেন্স শিটের তথ্যের ওপর নির্ভর করে ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা যাবে না।
সিটি ইন্স্যুরেন্স পিএলসির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শামীম হোসেন বলেন, অনেক ক্ষেত্রে অডিট রিপোর্ট সংগ্রহ করতে গিয়ে দাবি নিষ্পত্তিতে বিলম্ব হয়। বিশেষ করে সম্পদ (প্রপার্টি) ক্ষতির দাবির ক্ষেত্রে ব্যালেন্স শিটের প্রয়োজনীয়তা নেই বলেও তিনি মত দেন। তিনি বিদ্যমান চেকলিস্ট আরও পর্যালোচনা করে পরবর্তী সভায় উপস্থাপনের প্রস্তাব দেন।
বিআইএর প্রতিনিধি ও ইস্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্স পিএলসির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সেলিম বলেন, অতীতের দাবিগুলো সে সময়ের বিদ্যমান চেকলিস্ট অনুযায়ী নিষ্পত্তি করা উচিত। অর্থাৎ যে বছরে দাবি উত্থাপিত হয়েছে, সে বছরের অনুমোদিত চেকলিস্টই অনুসরণ করা উচিত।
রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্স পিএলসির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিআইএর প্রতিনিধি ড. এ কে এম সরওয়ার জাহান জামিল জানান, গত বছরের ৩০ জুলাই বিআইএ ও সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক সভায় পুনঃবীমা দাবি আদায়ের জন্য প্রয়োজনীয় দলিলপত্রের চেকলিস্ট সংশোধনের প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু অডিট রিপোর্টসহ কিছু বিষয়ে মত ভিন্নতা থাকায় সে সময় চেকলিস্টটি চূড়ান্ত হয়নি।
আইডিআরএর নির্বাহী পরিচালক (যুগ্মসচিব) মনিরা বেগম বলেন, বর্তমানে নির্ধারিত চেকলিস্টের পাশাপাশি অতিরিক্ত আনুষঙ্গিক কাগজপত্র চাওয়ার কারণে অনেক ক্ষেত্রে দাবি নিষ্পত্তি জটিল হয়ে পড়ে। তিনি সুনির্দিষ্ট ও বাস্তবসম্মত চেকলিস্ট প্রণয়ন এবং তালিকাভুক্ত নথির বাইরে অতিরিক্ত কাগজপত্র না চাওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে চেকলিস্টটি আরও যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী সভায় উপস্থাপনের মত দেন।
বীমা খাতসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আইডিআরএ, সাধারণ বীমা কর্পোরেশন ও বীমা কোম্পানিগুলোর আলোচনার মাধ্যমে একটি সহজ, স্বচ্ছ ও সময়োপযোগী চেকলিস্ট চূড়ান্ত করা গেলে দাবি নিষ্পত্তির দীর্ঘসূত্রতা কমবে এবং গ্রাহকসেবার মানও উন্নত হবে।
Posted ০৬:৩৫ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com