মঙ্গলবার ১৬ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২ আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

Ad
x
আগামী অর্থবছরের বাজেট

টেনে ধরা হবে কর অব্যাহতির লাগাম

সোমবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৫   প্রিন্ট   ৬৯৮ বার পঠিত

টেনে ধরা হবে কর অব্যাহতির লাগাম

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সংকুচিত মুদ্রানীতির সঙ্গে সমন্বয় করে সরকারি ব্যয় কমাতে নতুন বাজেট প্রণয়ন করতে যাচ্ছে সরকার। আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটের আকার আগের অর্থবছরের তুলনায় ছোট হবে বলে জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র।
কর অব্যাহতির লাগাম টেনে ধরা, কৃষিপণ্য বিপণনে উৎসে কর কমানো, এককভাবে ভ্রমণ কর আদায়, ব্যক্তিগত করহার বৃদ্ধি, কালো টাকা সাদা করার সুযোগ না রাখাসহ বাজেটে একগুচ্ছ সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার।

আগামী অর্থবছরের (২০২৫-২৬) জন্য ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেট দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। বাজেটের এই আকার চলতি অর্থবছরের তুলনায় ৭ হাজার কোটি টাকা কম। উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ কমায় আগামী অর্থবছরের বাজেটের আকার ছোট হচ্ছে। অন্যদিকে রাজস্ব আহরণ বাড়াতে কৃষি, মৎস্য ও পোল্ট্রি খাতে হ্রাসকৃত করহার উঠিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি পোশাক খাতের কর সুবিধা তুলে নিতে পারে সরকার।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) একাধিক কর্মকর্তার দাবি কৃষি, মৎস্য ও পোল্ট্রি খাতের কর সুবিধা উঠিয়ে নিতে আগামী বাজেটে এ সংক্রান্ত তিনটি সংবিধিবদ্ধ নিয়ন্ত্রক আদেশ (এসআরও) বাতিল করা হচ্ছে। এসব খাতে সাধারণ করহার প্রযোজ্য হবে। তবে প্রান্তিক মৎস্যচাষিদের সুরক্ষা দিতে ৫ লাখ বা সর্বোচ্চ ৮ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করমুক্ত রাখার প্রস্তাব রাখা হতে পারে।

এ কর সুবিধার আড়ালে অনেকেই কালো টাকা সাদা করেন বলে দাবি এনবিআর সংশ্লিষ্টদের। সুবিধার অপব্যবহার রোধে এসআরওগুলো বাতিল করা হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, প্রান্তিক কৃষকদের সুবিধা দিতে ২০১৫ সালে কর সুবিধা দেওয়া হয়। পরে দেখা গেছে মন্ত্রী-এমপিরা খামারকে মূল আয় দেখিয়েছেন আয়কর নথিতে। এগুলোর ব্যাপক অপব্যবহার হয়েছে। নির্বাচনী হলফনামায় দেখা গেছে, মন্ত্রী-এমপিরা কেউ মাছ ব্যবসায়ী, কেউ মুরগি ব্যবসায়ী। এই সুবিধা আগামী বাজেটে থাকবে না।

বাজেটে পোশাক শিল্পের করহার বাড়ানো হতে পারে। এতে পোশাক খাতের রপ্তানিতে আরও বাধা সৃষ্টি হবে বলে মনে করেন এই খাতের উদ্যোক্তারা।
বর্তমানে তৈরি পোশাক শিল্পের করপোরেট করহার ১২ শতাংশ। সবুজ কারখানার জন্য এ হার ১০ শতাংশ। আর সুতা শিল্পের করহার ১৫ শতাংশ। সুতার ওপর কর অপরিবর্তিত থাকলেও পোশাক খাতে করহার বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পোশাক খাতে করহার বাড়িয়ে ১৮ থেকে ২০ শতাংশ করতে চায় এনবিআর।

এনবিআরের সদস্য (করনীতি) এ কে এম বদিউল আলম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কর সুবিধা ভোগ করে আসছে পোশাক খাত। অন্যান্য খাতের সঙ্গে করপোরেট করহারে বৈষম্য দূর করতে এনবিআর এ বিষয়ে ভাবছে। এখনো কোনো কিছু চূড়ান্ত হয়নি।

বর্তমানে অর্থ আইন ও এসআরওর মাধ্যমে বিভিন্ন খাতের জন্য বিভিন্ন রকমের করপোরেট করহার নির্ধারণ করা আছে। এনবিআরের পরিকল্পনা একক হারে সব ধরনের প্রতিষ্ঠান থেকে কর আদায় করা। একক হারে করপোরেট কর ও ভ্যাট নির্ধারণ করতে উল্টো ব্যবসায়ীদের প্রস্তাব দিতে পারে এনবিআর। সেক্ষেত্রে ভ্যাটের হার হতে পারে ১৫ শতাংশ, আয়করের হার এখনো চূড়ান্ত করেনি এনবিআর। শিগগির প্রাক-বাজেট আলোচনার চূড়ান্ত সভা হবে এফবিসিসিআইয়ের সঙ্গে। সেখানে এই প্রস্তাব দিতে পারে এনবিআর।

এনবিআর সংশ্লিষ্টদের দাবি, পোশাকখাত যদি ১২ শতাংশের বেশি কর দেয় তাহলে স্ট্যান্ডার্ড রেটে কর দিতে আপত্তি কোথায় তাদের? অটোমেশন হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা আগামীতে নিজের অ্যাকাউন্টে অগ্রিম কর ফেরত পাবেন।

আগামী বাজেটে করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে সিপিডি, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। তবে করমুক্ত আয়সীমা বাড়ছে না। ব্যক্তি শ্রেণির ন্যূনতম কর বাড়ানোর চিন্তা রয়েছে সরকারের। সর্বোচ্চ করহার ২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩০ শতাংশ করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

এছাড়া সারাদেশের সবার জন্য ন্যূনতম কর একই সমান করা কিংবা কাঠামো আগের মতো রেখে ন্যূনতম করের পরিমাণ বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা যাচাই-বাছাই করছে এনবিআর।

এখন দেশের বিভিন্ন এলাকা ভেদে ব্যক্তির ন্যূনতম কর একেক রকম। যেমন: বর্তমানে ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকার বাসিন্দাদের জন্য ন্যূনতম করের পরিমাণ পাঁচ হাজার টাকা। অন্যান্য সিটি করপোরেশন এলাকায় এই করের পরিমাণ চার হাজার টাকা। আর সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকায় ব্যক্তির ন্যূনতম কর তিন হাজার টাকা।
সারাদেশে সবার জন্য ন্যূনতম কর একই করলে তা হতে পারে পাঁচ হাজার টাকা। আবার আগের কাঠামো ধরে রাখলে সেই পরিমাণ বেড়ে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

বর্তমানে তিন লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করমুক্ত। পরবর্তী এক লাখ টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের ওপর ৫ শতাংশ, পরবর্তী চার লাখ টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের ওপর ১০ শতাংশ, পরবর্তী পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের ওপর ১৫ শতাংশ, পরবর্তী পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের ওপর ২০ শতাংশ ও অবশিষ্ট মোট আয়ের ওপর ২৫ শতাংশ।

 

Facebook Comments Box

Posted ০৩:৪৬ অপরাহ্ণ | সোমবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৫

bankbimaarthonity.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ ক্য

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০  
সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: bankbima1@gmail.com