নিজস্ব প্রতিবেদক
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬ প্রিন্ট ১০ বার পঠিত
দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে রান্নার কাজে ব্যবহৃত ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম এখন সবচেয়ে বেশি। প্রতিবেশী দেশগুলোর বাজারদরের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, এ অঞ্চলে রান্নার গ্যাস কিনতে সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে বাংলাদেশের ভোক্তাদের।
এতে বাড়তি জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপে সাধারণ মানুষ ও মধ্যবিত্ত পরিবারের বাজেটে নতুন চাপ তৈরি হয়েছে।
বিভিন্ন দেশের বাজারদরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দামের দিক থেকে দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ। বর্তমানে দেশে ১২ কেজি সিলিন্ডারের নির্ধারিত দাম ২ হাজার ৬০ টাকা।
তুলনামূলক চিত্রে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তান। দেশটিতে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৪৮৮ টাকা। শ্রীলঙ্কা ও নেপালে একই পরিমাণ এলপিজির দাম ১ হাজার ৩৯২ টাকা। অন্যদিকে ভারতের কলকাতায় ১২ কেজি সমপরিমাণ এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৮৮ টাকা।
এই হিসাবে বাংলাদেশের ভোক্তাদের পাকিস্তানের তুলনায় ৫৭২ টাকা, শ্রীলঙ্কা ও নেপালের তুলনায় ৬৬৮ টাকা এবং কলকাতার তুলনায় ৯৭২ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারের দোহাই দেওয়া হলেও প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে দামের এই বড় ব্যবধান দেশের এলপিজি বাজারের তদারকি ও আমদানিনির্ভর ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সিনিয়র সহসভাপতি এম শামসুল আলম বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও তার সুফল দেশের ভোক্তারা পাচ্ছেন না। অথচ আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) দ্রুত দেশের বাজারেও দাম বাড়িয়ে দেয়।
তিনি আরও বলেন, সরকারিভাবে এলপিজির যে দাম নির্ধারণ করা হয়, তা কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকে। খুচরা বাজারে নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার পাওয়া যায় না।
বিইআরসি ও জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের তদারকির অভাব এবং আমদানিকারকদের সিন্ডিকেটের কারণে সাধারণ মানুষকে বাড়তি দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এলপিজির মূল্যবৃদ্ধির ফলে নিম্ন আয়ের মানুষ থেকে শুরু করে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোও চাপে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারদর ও প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এলপিজির দাম পুনর্বিবেচনা এবং বাজার তদারকি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন ভোক্তারা।
Posted ০৭:৫৪ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com
✎ মন্তব্য করুন