নিজস্ব প্রতিবেদক
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬ প্রিন্ট ৯ বার পঠিত
বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে জনতা ব্যাংক থেকে ঋণ ও রপ্তানি উন্নয়ন তহবিলের (ইডিএফ) সুবিধা নিয়ে ১ হাজার ১২১ কোটি ৪৯ লাখ টাকার বেশি আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের অভিযোগে তিনটি মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ ঘটনায় সালমান এফ রহমানসহ মোট ৩১ জনকে আসামি করা হচ্ছে।
সোমবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সংস্থাটির সচিব মো. সাইদুর রহমান খান। তিনি জানান, বেক্সিমকো গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনটি প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ ও ইডিএফ সুবিধা নিয়ে ভুয়া আমদানি-রপ্তানি দেখিয়ে এসব অর্থ আত্মসাৎ ও পাচার করা হয়েছে।
দুদকের অনুমোদিত মামলাগুলোর মধ্যে স্প্রিংফুল অ্যাপারেলস লিমিটেডের নামে ১৪১ কোটি ২৮ লাখ টাকা, আরবান ফ্যাশনস লিমিটেডের নামে ৪১৭ কোটি ৪ লাখ টাকা এবং মিডওয়েস্ট গার্মেন্টস লিমিটেডের নামে ৫৬৩ কোটি ১৬ লাখ ৯৯ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন গঠিত হলেও সেগুলোর অনুকূলে ঋণ ও ইডিএফ সুবিধা অনুমোদন করা হয়। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পরিচালকদের পর্যাপ্ত ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতাও ছিল না। পরে নিজেদের মধ্যে ভুয়া আমদানি ও রপ্তানি লেনদেন দেখিয়ে ব্যাংক থেকে অর্থ উত্তোলন করা হয়। এভাবে আত্মসাৎ করা অর্থ বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে দুদক।
প্রথম মামলায় স্প্রিংফুল অ্যাপারেলসের নামে ১ কোটি ৭০ লাখ ৬১ হাজার ৫৮২ মার্কিন ডলারের বিল তৈরি করা হলেও দেশে আসে মাত্র ৪ লাখ ৪০ হাজার ৩৯২ ডলার। বাকি ১ কোটি ৬৬ লাখ ২১ হাজার ১৯০ ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৪১ কোটি ২৮ লাখ টাকার বেশি, আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে।
দ্বিতীয় মামলায় আরবান ফ্যাশনসের নামে ৪ কোটি ৯০ লাখ ৬৩ হাজার ৫৭৭ ডলার বা প্রায় ৪১৭ কোটি ৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। ভুয়া বাণিজ্যিক লেনদেন দেখিয়ে নেওয়া এসব অর্থ পরে নগদ উত্তোলনসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় রূপান্তর ও হস্তান্তরের মাধ্যমে পাচার করা হয় বলে দুদকের দাবি।
তৃতীয় মামলায় মিডওয়েস্ট গার্মেন্টসের নামে ৬ কোটি ৬২ লাখ ৫৫ হাজার ২৮৮ ডলার নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার দেশে ফেরত আসেনি। প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে ভুয়া আমদানি-রপ্তানি দেখিয়ে ৫৬৩ কোটি ১৬ লাখ ৯৯ হাজার টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগ রয়েছে।
আসামির তালিকায় বেক্সিমকো ও জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তারা:
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, তিন মামলায় পৃথকভাবে এজাহারভুক্ত আসামির সংখ্যা ৬৯। তবে একই ব্যক্তি একাধিক মামলায় থাকায় মোট আসামির সংখ্যা ৩১। তাঁদের মধ্যে ১৩ জন তিনটি মামলাতেই আসামি।
সালমান এফ রহমান ছাড়াও আসামির তালিকায় রয়েছেন তাঁর ছেলে এ এস এফ রহমান, বেক্সিমকো লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কে চৌধুরী এবং প্রতিষ্ঠানটির কয়েকজন পরিচালক। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ইকবাল আহমেদ, এ বি সিদ্দিকুর রহমান, মাসুদ ইকরামুল্লাহ খান, শাহ মঞ্জুরুল হক ও রীম এইচ শামসুদ্দোহা।
এ ছাড়া ক্রিসেন্ট অ্যাকসেসরিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু নাঈম মাহমুদ সালেহিন ও পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান এবং আরআর গ্লোবাল ট্রেডিং এফজেডইর স্বত্বাধিকারী আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমান ও আহমেদ শাহরিয়ার রহমানকেও আসামি করা হয়েছে।
স্প্রিংফুল অ্যাপারেলস ও মিডওয়েস্ট গার্মেন্টসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাইমিনুল ইসলাম এবং পরিচালক কোহিনুর আবেদিনের নামও রয়েছে আসামির তালিকায়। অন্যদিকে আরবান ফ্যাশনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হেলাল উদ্দিন ও পরিচালক সাহিদা রহমানকে আসামি করা হয়েছে।
জনতা ব্যাংকের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুছ ছালাম আজাদ, সাবেক উপমহাব্যবস্থাপক মিজানুর রহমান, সাবেক উপব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল জব্বার ও ইসমাইল হোসেন এবং সাবেক মহাব্যবস্থাপক শহিদুল হকসহ ব্যাংকটির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আসামি করা হয়েছে।
দুদকের অভিযোগ, ব্যাংক কর্মকর্তারা ক্ষমতার অপব্যবহার ও যোগসাজশের মাধ্যমে এসব ঋণ ও তহবিল সুবিধা অনুমোদনে ভূমিকা রেখেছেন।
এদিকে সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে শেয়ারবাজারে জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ এবং বিভিন্ন ব্যাংক থেকে প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগসহ আরও কয়েকটি বিষয় অনুসন্ধান করছে দুদক।
Posted ০৫:৩০ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com
✎ মন্তব্য করুন