|

Advertisement
×

দুদকের নতুন চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান

মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬   প্রিন্ট   ২৩ বার পঠিত

দুদকের নতুন চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান। একই সঙ্গে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ড. জাহাঙ্গীর আলম খান ও ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়াকে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। পরে তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন আইন অনুযায়ী, নতুন চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার পাঁচ বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করবেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪’-এর ধারা ৬-এর উপধারা (১) অনুযায়ী বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান, ড. জাহাঙ্গীর আলম খান এবং ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়াকে দুদকের কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একই আইনের ধারা ৫-এর উপধারা (১) অনুযায়ী কমিশনারদের মধ্য থেকে বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানকে চেয়ারম্যান করা হয়েছে।

নতুন চেয়ারম্যান আপিল বিভাগের একজন বিচারকের সমান পদমর্যাদা, বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাবেন। অন্যদিকে দুই কমিশনার হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকের সমান পদমর্যাদা, বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা ভোগ করবেন।

বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান গত বছরের ২৫ মার্চ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি তিনি অবসরে যান। অবসরের কয়েক মাসের মধ্যেই তাকে দেশের দুর্নীতি দমনবিষয়ক সর্বোচ্চ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হলো।

১৯৫৯ সালের ১ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর ১৯৮৩ সালে জেলা আদালতের আইনজীবী হিসেবে তার আইন পেশার যাত্রা শুরু হয়। এরপর ১৯৮৫ সালে হাইকোর্ট বিভাগ এবং ২০০১ সালে আপিল বিভাগে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন তিনি।

২০০৩ সালের ২৭ আগস্ট হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান এ কে এম আসাদুজ্জামান। দুই বছর পর ২০০৫ সালের ২৭ আগস্ট তিনি হাইকোর্ট বিভাগের স্থায়ী বিচারক হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন। দীর্ঘ বিচারিক জীবনের পর ২০২৫ সালের মার্চে তিনি আপিল বিভাগের বিচারকের দায়িত্ব পান।

নতুন চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের নিয়োগের মধ্য দিয়ে কয়েক মাস ধরে শূন্য থাকা দুদকের নেতৃত্বে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। এর আগে গত ৩ মার্চ দুদকের তৎকালীন চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন এবং কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহসান ফরিদ পদত্যাগ করেন। ফলে কমিশনের শীর্ষ তিন পদই শূন্য হয়ে যায়।

এরপর নতুন চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করে সরকার। গত ২২ জুন দুদকের চেয়ারম্যান ও কমিশনার পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশ দিতে আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হককে সভাপতি করে একটি বাছাই কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে দুদকের প্রতিটি শূন্য কমিশনার পদের বিপরীতে দুজন করে যোগ্য ব্যক্তির নামের তালিকা তৈরি করে রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়।

পরবর্তী সময়ে চেয়ারম্যান ও কমিশনার পদে আগ্রহী যোগ্য ব্যক্তিদের কাছ থেকে জীবনবৃত্তান্ত আহ্বান করে বাছাই কমিটি। প্রাপ্ত জীবনবৃত্তান্ত যাচাই-বাছাই ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে নতুন নেতৃত্বের জন্য নাম চূড়ান্ত করা হয়।

দুর্নীতি দমন কমিশন আইন অনুযায়ী, তিনজন কমিশনারের সমন্বয়ে দুদক গঠিত হয়। কমিশনারদের মধ্য থেকে একজনকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। চেয়ারম্যানসহ প্রত্যেক কমিশনারের মেয়াদ পাঁচ বছর। নতুন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার ফলে এখন দুদকের তিনটি শীর্ষ পদই পূর্ণ হলো।

নতুন কমিশনের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ও নিরপেক্ষ অবস্থান নিশ্চিত করা। সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন পর্যায়ে অনিয়ম, দুর্নীতি, অর্থপাচার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি এবং দুর্নীতির অর্থ উদ্ধারে দুদকের সক্ষমতা বাড়ানোকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষ করে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্তভাবে দুর্নীতির অনুসন্ধান ও তদন্ত পরিচালনা, প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধার নতুন কমিশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে বড় ধরনের আর্থিক অনিয়ম ও অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও থাকবে আলোচনার কেন্দ্রে।

পাঁচ বছরের জন্য দায়িত্ব পাওয়া নতুন চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান এবং দুই কমিশনারের সামনে তাই একদিকে রয়েছে একটি শক্তিশালী ও কার্যকর দুর্নীতি দমন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার সুযোগ, অন্যদিকে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির প্রতি জনআস্থা বাড়ানোর বড় দায়িত্ব। তাদের কার্যক্রম ও সিদ্ধান্তের ওপরই অনেকাংশে নির্ভর করবে আগামী দিনে দেশের দুর্নীতি দমন কার্যক্রমের গতি ও কার্যকারিতা।

Facebook Comments Box

Posted ০২:৫০ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬

bankbimaarthonity.com |

সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: bankbima1@gmail.com