|

Advertisement
×

পাটের পর পিইটি ফিল্মেও ভারতের শুল্কের চাপ

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬   প্রিন্ট   ৭ বার পঠিত

পাটের পর পিইটি ফিল্মেও ভারতের শুল্কের চাপ

পাটের পর পিইটি ফিল্ম

পিইটি ফিল্মের ওপর শুল্ক আরোপের সুপারিশ এমন সময়ে এলো, যখন বাংলাদেশি পাটজাত পণ্যের ওপরও ভারতের বাণিজ্য প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা জোরদার হয়েছে।

সম্প্রতি ভারতের ডিজিটিআর বাংলাদেশি পাটজাত পণ্য—বিশেষ করে পাটের সুতা ও টুইনের ওপর—টনপ্রতি সর্বোচ্চ ৪৪৫ ডলার পর্যন্ত অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপের সুপারিশ করেছে। এর আগে চলতি সপ্তাহেই বাংলাদেশি পাটপণ্যের ওপর টনপ্রতি সর্বোচ্চ ১৪০.০৪ ডলার কাউন্টারভেইলিং শুল্ক আরোপেরও সুপারিশ করা হয়।

ফলে ভারতের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর নতুন করে বাণিজ্য প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা বাড়ছে।

বাংলাদেশ থেকে পিইটি ফিল্ম রপ্তানি বেড়েছে

ডিজিটিআরের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতে বাংলাদেশের পিইটি ফিল্ম রপ্তানি গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

২০২১-২২ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ভারতে পিইটি ফিল্মের রপ্তানি ছিল মাত্র ১২ টন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২ হাজার ৭৬৩ টনে। ওই পরিমাণ ভারতের মোট পিইটি ফিল্ম আমদানির প্রায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ।

তবে একই সময়ে চীন ও থাইল্যান্ড থেকে ভারতের আমদানি ছিল অনেক বেশি। চীন থেকে ২৬ হাজার ৮৬ টন এবং থাইল্যান্ড থেকে ১২ হাজার ৮৭০ টন পিইটি ফিল্ম ভারতে প্রবেশ করেছে।

চীন ও থাইল্যান্ডও শুল্কের আওতায়

শুধু বাংলাদেশ নয়, চীন ও থাইল্যান্ডের পিইটি ফিল্ম আমদানির বিরুদ্ধেও অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপের সুপারিশ করেছে ডিজিটিআর।

চীনা রপ্তানিকারকদের ক্ষেত্রে টনপ্রতি ৫৪ থেকে ৩৬১ ডলার পর্যন্ত শুল্কের প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যদিকে থাইল্যান্ডের রপ্তানিকারকদের জন্য প্রস্তাবিত শুল্ক টনপ্রতি ১৯৮ থেকে ৩৬৬ ডলার।

ডিজিটিআরের তদন্তে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ, চীন ও থাইল্যান্ড থেকে কম দামে পণ্য আমদানির কারণে ভারতীয় উৎপাদকদের পণ্যের দাম কমে গেছে এবং দেশীয় শিল্প ‘ম্যাটেরিয়াল ইনজুরি’ বা উল্লেখযোগ্য ক্ষতির মুখে পড়েছে।

আকিজ বায়াক্সের জন্য কম শুল্ক

তদন্তে সহযোগিতা করায় আকিজ বায়াক্স ফিল্মসের জন্য প্রস্তাবিত শুল্ক অন্যান্য বাংলাদেশি রপ্তানিকারকের তুলনায় অনেক কম রাখা হয়েছে।

ডিজিটিআর জানিয়েছে, আকিজের সংশ্লিষ্ট দেশীয় বাজারের সব বিক্রয়ই উৎপাদন ব্যয়ের নিচে ছিল। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ বাজারে বিক্রয়মূল্যের পরিবর্তে উৎপাদন ব্যয়ের ভিত্তিতে পণ্যের ‘নরমাল ভ্যালু’ নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে রপ্তানিতে পাওয়া প্রণোদনার বিষয়টি রপ্তানিকৃত নির্দিষ্ট পণ্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়—এই যুক্তিতে আকিজের রপ্তানি মূল্য সমন্বয়ের আবেদন গ্রহণ করেনি ডিজিটিআর।

এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য আকিজ বায়াক্স ফিল্মসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এক বছর ধরে তদন্ত

ভারতের তিনটি পিইটি ফিল্ম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান—চিরিপাল পলি ফিল্মস, এস্টার ইন্ডাস্ট্রিজ ও ভ্যাকমেট ইন্ডিয়া—অভিযোগ দাখিলের পর গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর তদন্ত শুরু করে ডিজিটিআর।

প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশ, চীন, থাইল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রকে তদন্তের আওতায় আনা হয়েছিল। তবে প্রাথমিক পর্যায়েই দেশীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রকে তদন্ত থেকে বাদ দেওয়া হয়।

তদন্তে ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত সময়ের আমদানি তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। আর দেশীয় শিল্পের ওপর ক্ষতির প্রভাব মূল্যায়নের ক্ষেত্রে ২০২১-২২ অর্থবছর থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মার্চ পর্যন্ত সময় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক কী?

কোনো দেশ মনে করলে যে বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠান তার পণ্য উৎপাদন ব্যয় বা নিজ দেশের ন্যায্য বাজারমূল্যের তুলনায় কম দামে রপ্তানি করছে এবং এর ফলে দেশীয় উৎপাদকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তখন আমদানিকারক দেশ অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করতে পারে।

এর উদ্দেশ্য হলো কম দামে আমদানি করা পণ্যের কারণে স্থানীয় শিল্পের ওপর যে প্রতিযোগিতামূলক চাপ তৈরি হয়, তা মোকাবিলা করা।

তবে ডিজিটিআরের সুপারিশের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয়ের। প্রজ্ঞাপন জারির পরই প্রস্তাবিত শুল্ক কার্যকর হবে।

পাঁচ ধরনের বাংলাদেশি পণ্য বাণিজ্য ব্যবস্থার আওতায়

পিইটি ফিল্মে প্রস্তাবিত নতুন শুল্ক কার্যকর হলে ভারতের অ্যান্টি-ডাম্পিং ব্যবস্থার আওতায় থাকা বাংলাদেশি রপ্তানি পণ্যের সংখ্যা পাঁচে দাঁড়াবে।

এর আগে বাংলাদেশি রপ্তানি পণ্যের মধ্যে শতভাগ নিটেড টেক্সটাইল গ্লাভস, পাটের ব্যাগ ও বস্তা, হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড এবং পাটের সুতা/টুইনের ওপর বিভিন্ন দেশের অ্যান্টি-ডাম্পিং ব্যবস্থা ছিল।

বাংলাদেশি রপ্তানির ওপর ঐতিহাসিকভাবে অ্যান্টি-ডাম্পিং ব্যবস্থা নিয়েছে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, ভারত, পাকিস্তান ও তুরস্ক।

পাকিস্তান এর আগে অধিকাংশ বাংলাদেশি রপ্তানিকারকের হাইড্রোজেন পারঅক্সাইডের ওপর ১২ দশমিক ১৪ শতাংশ অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করেছিল। পরে দেশটি সেই শুল্ক প্রত্যাহার করে নেয়।

বাংলাদেশের রপ্তানি বাজারে পাটের পর পিইটি ফিল্মের মতো শিল্পপণ্যে ভারতের নতুন বাণিজ্য প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা কার্যকর হলে সংশ্লিষ্ট রপ্তানিকারকদের জন্য দেশটির বাজারে প্রতিযোগিতার পরিবেশ আরও কঠিন হতে পারে। তবে চূড়ান্ত প্রভাব নির্ভর করবে ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত, শুল্ক কার্যকর হওয়ার সময় এবং বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের মূল্য ও বাজার কৌশলের ওপর।

Facebook Comments Box

Posted ০১:১৪ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬

bankbimaarthonity.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: bankbima1@gmail.com