নিজস্ব প্রতিবেদক
রবিবার, ০৪ জানুয়ারি ২০২৬ প্রিন্ট ৪২৬ বার পঠিত
নন-লাইফ বীমা খাতে দীর্ঘদিনের দাবি নিষ্পত্তিসংক্রান্ত অনিয়ম, স্বার্থের সংঘাত এবং স্বচ্ছতার ঘাটতি কমাতে বীমা জরিপকারী ও ক্ষতি নির্ধারকদের জন্য কঠোর আচরণবিধি জারি করেছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। নতুন এই প্রবিধান অনুযায়ী জরিপকারীদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সম্পর্ক প্রকাশ, নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরেজমিনে ক্ষতি নিরূপণ সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
গত ২৫ ডিসেম্বর বীমা জরিপকারী ও ক্ষতি নির্ধারকদের দায়িত্ব, কর্তব্য ও আচরণবিধি নির্ধারণ করে “বীমা জরিপকারী এবং ক্ষতি নির্ধারকের কর্তব্য, দায়িত্ব ও আচরণবিধি প্রবিধানমালা ২০২৫” গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে সরকার।
গেজেটে বলা হয়েছে, নন-লাইফ বীমা চুক্তির আওতায় বীমাকৃত কোনো পণ্য, সম্পত্তি বা স্বার্থের ক্ষতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে বীমা জরিপকারী ও ক্ষতি নির্ধারককে তদন্ত, পরিমাপ ও যাচাই কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সময় প্রদানসহ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, বাস্তবতা, নিরপেক্ষতা ও আচরণবিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে এবং যথাযথভাবে জরিপ সম্পন্ন করে প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। জরিপকারীর দায়িত্ব ও কর্তব্য প্রবিধানমালায় উল্লেখ করা হয়েছে, জরিপ কাজের ক্ষেত্রে বীমা জরিপকারী ও ক্ষতি নির্ধারককে বীমাকারী বা বীমাগ্রহীতার সঙ্গে বিদ্যমান কোনো পারিবারিক বা ব্যবসায়িক সম্পর্ক থাকলে তা জরিপ প্রতিবেদনে প্রকাশ করতে হবে। একই সঙ্গে বীমাকারীর দায় ও বীমাগ্রহীতার দাবির বিষয়ে গোপনীয়তা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে। ক্ষতি নিরূপণের জন্য সরেজমিনে বীমাকৃত সম্পত্তি পরিদর্শন এবং প্রয়োজনে একাধিকবার পরিদর্শন করতে হবে। পলিসির শর্ত অনুযায়ী যথাযথ ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে বিস্তারিত বিবরণসংবলিত প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। সহবীমা বা একাধিক বীমা দ্বারা আবরিত সম্পদের ক্ষেত্রে ক্ষতি নিরূপণের হার ও উদ্ধারকৃত সম্পদের তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করার বাধ্যবাধকতাও রাখা হয়েছে। এছাড়া, পলিসির শব্দচয়নে কোনো অসংগতি থাকলে তা উল্লেখ করা, অবচয়ের প্রযোজ্য হার নির্ধারণ, পলিসির আওতাভুক্ত নয়-এমন দাবির ক্ষেত্রে নাকচের কারণ সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা এবং প্রয়োজনে বীমাকারীর সম্মতিতে বিশেষজ্ঞ নিয়োগের বিধান রাখা হয়েছে। স্যালভেজ বা উদ্ধারকৃত ক্ষতিগ্রস্ত সম্পদের মূল্য নির্ধারণ ও বিক্রয় বিষয়ে মতামত প্রদানের নির্দেশনাও রয়েছে। প্রবিধানমালা অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিরপেক্ষভাবে জরিপ প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে এবং বীমা চুক্তিতে উল্লেখিত কাগজপত্রের বাইরে অতিরিক্ত নথি দাবি করা যাবে না—যদি না যৌক্তিক কারণ উল্লেখ করা হয়। ক্ষতিপূরণের অর্থের পরিমাণও প্রতিবেদনে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। আচরণবিধি আচরণবিধিতে বলা হয়েছে, নন-লাইফ বীমা ও দাবির প্রকৃতি সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা রেখে সততা, নিষ্ঠা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে জরিপ কার্য সম্পন্ন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগে সৌজন্য ও সদাচরণ বজায় রাখার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যে জরিপ কাজে সক্ষমতা বা সামর্থ্য নেই, তা গ্রহণ না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে নিজেকে সময়োপযোগী করার কথা বলা হয়েছে। সহকর্মীদের পেশাগত উন্নয়নে সহায়তা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও আচরণবিধির অংশ। জরিপ সংক্রান্ত তথ্যের একটি রেজিস্টার সংরক্ষণ এবং দাবি নিষ্পত্তির পর কমপক্ষে তিন বছর জরিপ প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট নথি সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। তবে আদালতে বিচারাধীন বা বিরোধপূর্ণ দাবির ক্ষেত্রে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নথি সংরক্ষণ করতে হবে। বীমাগ্রহীতা বা বীমাকারীর লিখিত সম্মতি ছাড়া কোনো জরিপ তথ্য প্রকাশ করা যাবে না। তবে রাষ্ট্রীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত বা তৃতীয় পক্ষের লাভের জন্য পেশাগত তথ্য ব্যবহার বা প্রকাশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
Posted ০৮:২৭ অপরাহ্ণ | রবিবার, ০৪ জানুয়ারি ২০২৬
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com