অনলাইন ডেস্ক
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬ প্রিন্ট ৭ বার পঠিত
পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলামের শ্যালক রেজাউল আলম শাহীনের ৪০টি ব্যাংক হিসাবে এক হাজার কোটি টাকার বেশি সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একই সঙ্গে তার নামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ২৩ কোটি ৩২ লাখ টাকার বেশি সম্পদের সন্ধান পেয়েছে সংস্থাটি। এসব অভিযোগে মনিরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী সায়লা ফারজানাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুদকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
দুদকের অনুসন্ধানে অভিযোগ উঠেছে, রেজাউল আলম শাহীন তার বোন সায়লা ফারজানা ও ভগ্নিপতি মনিরুল ইসলামের ঘুষ, দুর্নীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অর্জিত অবৈধ অর্থ বৈধ করার চেষ্টা করেছেন। এ উদ্দেশ্যে তিনি নিজের নামে বিপুল সম্পদ অর্জন এবং ব্যাংক হিসাবে অস্বাভাবিক লেনদেন করেছেন বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। দুদকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ৮ ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত রেজাউল আলম শাহীনের ৪০টি ব্যাংক হিসাবে ৫২৭ কোটি ৯২ লাখ ৮৬ হাজার ৮২৮ টাকা জমা হয়। একই সময়ে এসব হিসাব থেকে উত্তোলন করা হয় ৫১৭ কোটি ৩৫ লাখ ৪১ হাজার ৯১০ টাকা। জমা ও উত্তোলন মিলিয়ে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৫ কোটি ২৮ লাখ ২৮ হাজার ৭৩৮ টাকা।
এ ছাড়া শাহীনের নামে ২৩ কোটি ৩২ লাখ ৪৬ হাজার ৫২৬ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের তথ্য পেয়েছে দুদক। এসব সম্পদ অর্জন ও সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ মামলার অন্য দুই আসামি হচ্ছেন পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি মনিরুল ইসলাম এবং তার স্ত্রী জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব সায়লা ফারজানা।
এদিকে, পৃথক অনুসন্ধানে রেজাউল আলম শাহীনের স্ত্রী সানজিদা খানম টুম্পার নামেও বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ ও সন্দেহজনক ব্যাংক লেনদেনের তথ্য পেয়েছে দুদক।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, টুম্পার নামে ১৫ কোটি ৯৭ লাখ ৩৯ হাজার ৭৬৫ টাকার সম্পদ পাওয়া গেছে। এর বিপরীতে তার বৈধ আয়ের উৎস পাওয়া গেছে ৬৭ লাখ ১৮ হাজার ৭০৬ টাকা। ফলে তার বিরুদ্ধে ১৫ কোটি ৩০ লাখ ২১ হাজার ৫৯ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে।
এ ছাড়া ২০১৩ সালের ৮ ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টুম্পার ২৭টি ব্যাংক হিসাবে ৩৩ কোটি ১০ লাখ ৫৫ হাজার ৭৮৮ টাকা জমা এবং ২৫ কোটি ৫১ লাখ টাকার বেশি উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে এসব হিসাবে প্রায় ৫৮ কোটি ৬২ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে বলে জানিয়েছে দুদক।
দুদকের অভিযোগ, সানজিদা খানম টুম্পা তার স্বামী রেজাউল আলম শাহীন, স্বামীর বোন সায়লা ফারজানা এবং মনিরুল ইসলামের ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ বৈধ করার চেষ্টা করেছেন।
এ ঘটনায় সানজিদা খানম টুম্পা, মনিরুল ইসলাম, সায়লা ফারজানা ও রেজাউল আলম শাহীনের বিরুদ্ধে পৃথক আরেকটি মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।
দুদক জানিয়েছে, উভয় মামলায় দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারা প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মোজাম্মিল হোসেন ও উপসহকারী পরিচালক সানজিদা আক্তার অভিযোগগুলোর অনুসন্ধান করেছেন।
Posted ০৬:৫২ অপরাহ্ণ | সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
bankbimaarthonity.com | Animator Alif
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com
✎ মন্তব্য করুন