|

Advertisement
×

এক্সিম ব্যাংক টাওয়ারে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়: বিলাসবহুল অবকাঠামো ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

রবিবার, ০২ আগস্ট ২০২৬   প্রিন্ট   ৪৩ বার পঠিত

এক্সিম ব্যাংক টাওয়ারে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়: বিলাসবহুল অবকাঠামো ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

রাজধানীর গুলশান-১ এলাকার এক্সিম ব্যাংক টাওয়ারে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় স্থানান্তরের উদ্যোগকে ঘিরে বিভিন্ন মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন এক্সিম ব্যাংক পিএলসির প্রধান কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত ভবনটিতে এখন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় স্থাপনের প্রস্তুতি চলছে। তবে নতুন কার্যালয় হিসেবে ভবনটি নির্বাচনের যৌক্তিকতা, ভবনের বিলাসবহুল সুযোগ-সুবিধা, রক্ষণাবেক্ষণের অবস্থা এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, এক্সিম ব্যাংক টাওয়ারে সুইমিং পুল, স্পা, ছাদে বিশেষ নকশার তাঁবুসহ বিভিন্ন বিলাসী সুবিধা রয়েছে। ব্যাংকিং খাতের একটি দুর্বল অবস্থানে থাকা প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয় হিসেবে এমন বিলাসবহুল ভবন নির্বাচন কতটা প্রয়োজনীয় সে প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, একটি পুনর্গঠনাধীন বা আর্থিকভাবে চ্যালেঞ্জের মুখে থাকা ব্যাংকের ক্ষেত্রে ব্যয়-সাশ্রয়ী ও কার্যকর অবকাঠামোকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

অন্যদিকে ভবনটির রক্ষণাবেক্ষণ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। সরজমিনে দেখা গেছে, ভবনের ছাদে দীর্ঘদিন ধরে পানি জমে থাকায় সেখানে মশার প্রজনন বৃদ্ধি পেয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনকে অবহিত করা হয়েছে এবং তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জুলকার নায়েন বলেন, ইতোমধ্যেই স্বাস্থ্য বিভাগকে বিষয়টির খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

আরও উদ্বেগের বিষয় হলো ভবনের ছাদে নির্মিত বিশেষ তাঁবু ও কিছু অভ্যন্তরীণ নকশা বিদেশি প্রকৌশলীদের তত্ত্বাবধানে নির্মিত হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, জটিল নকশা ও প্রযুক্তিগত কারণে স্থানীয় কোনো প্রতিষ্ঠান এখন পর্যন্ত এসব কাঠামোর সংস্কারকাজে আগ্রহ দেখায়নি। ফলে দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে কিছু অংশ ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় দ্রুত প্রয়োজনীয় সংস্কার না হলে ভবিষ্যতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ব্যাংকিং খাতের বিশ্লেষকদের মতে, কোনো ভবনকে একটি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় হিসেবে ব্যবহারের আগে শুধু অবস্থান বা সুযোগ-সুবিধা নয়, ভবনের নিরাপত্তা, রক্ষণাবেক্ষণ, কার্যকারিতা এবং পরিচালন ব্যয়ের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। বিশেষ করে আমানতকারীদের অর্থে পরিচালিত একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ব্যয় ব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

গত মাসের ২৬ তারিখে জারি করা বাংলাদেশ ব্যাংকের গাইডলাইন্সের ২.১(ঘ) অনুচ্ছেদে প্রধান কার্যালয়ের আকার ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা পরিহার, কৃচ্ছ্রসাধন নীতি অনুসরণ এবং দেশীয় ও পরিবেশবান্ধব উপকরণ ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে সুইমিং পুল, স্পা কিংবা বিদেশি নকশার ছাদ-তাঁবুর মতো সুবিধা কৃচ্ছ্রসাধনের নীতির সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া ৫.০ অনুচ্ছেদে প্রয়োজনের অতিরিক্ত জায়গা ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। অন্যদিকে গাইডলাইন্সের ৬.০(ঙ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রস্তাবিত ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তা ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলার সক্ষমতা সম্পর্কে ব্যাংকের নিজস্ব প্রকৌশলীর সন্তুষ্টি নিশ্চিত করতে হবে। গাইডলাইন্সের ১০.১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনে প্রধান কার্যালয় সংক্রান্ত বিষয়ে সাধারণ বা বিশেষ পরিদর্শন পরিচালনা করতে পারে। কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে ব্যাখ্যা চাইতে এবং প্রয়োজনীয় আর্থিক দণ্ড আরোপ করতে পারে।

অন্যদিকে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)-এর মন্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। একইভাবে ভবনের বর্তমান অবস্থা, সংস্কার পরিকল্পনা কিংবা প্রধান কার্যালয় স্থানান্তরের যৌক্তিকতা সম্পর্কে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, ভবনটি যেহেতু সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় হিসেবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে, তাই কার্যক্রম শুরুর সঙ্গে সঙ্গে একটি পূর্ণাঙ্গ কারিগরি নিরাপত্তা নিরীক্ষা, অগ্নিনিরাপত্তা ও কাঠামোগত সক্ষমতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করা উচিত। একই সঙ্গে ভবনের পরিচালন ব্যয়, রক্ষণাবেক্ষণ পরিকল্পনা এবং জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়গুলোও স্বচ্ছভাবে জনসম্মুখে তুলে ধরা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মূখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, আসলে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় হিসাবে এক্সিম ব্যাংক টাওয়ারকে বেছে নেওয়া হয়েছে এজন্যই যে ওই ভবনটি ব্যাংক সেটআপের জন্যই তৈরী হয়েছিল এবং এক্সিম ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় হিসাবে ব্যবহৃত হত। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় যদি অন্য কোথাও করা হয় তাহলে তো ভবন নির্মানসহ অন্যান্য সেটআপ আবার নতুন করে তৈরী করতে হত যাতে খরচ আরও বেড়ে যেত। তবে কার্যক্রম শুরুর দু’এক বছর পর যদি ম্যানেজমেন্ট মনে করে অন্য কোথাও অফিস স্থানান্তর করলে খরচ কমবে বা সুবিধা হবে সেক্ষেত্রে তা হতে পারে।

Facebook Comments Box

Posted ০৭:০১ অপরাহ্ণ | রবিবার, ০২ আগস্ট ২০২৬

bankbimaarthonity.com |

সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: bankbima1@gmail.com