অনলাইন ডেস্ক
শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬ প্রিন্ট ২১ বার পঠিত
দেশের প্রথম প্রজন্মের বেসরকারি ব্যাংকগুলোর একটি এবি ব্যাংক। দীর্ঘদিন মতিঝিলের বাণিজ্যিক এলাকায় নিজেদের প্রধান কার্যালয় পরিচালনার পর ২০২০ সালে গুলশান অ্যাভিনিউয়ের ‘দ্য স্কাইমার্ক’ ভবনে প্রধান কার্যালয় স্থানান্তর করা হয়। তবে ব্যাংকটির আর্থিক অবস্থার অবনতি, বিপুল খেলাপি ঋণ ও ধারাবাহিক লোকসানের প্রেক্ষাপটে ব্যয়বহুল এলাকায় প্রধান কার্যালয় পরিচালনার ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ব্যাংকটির ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এবি ব্যাংকের কর-পরবর্তী লোকসান হয়েছে ৩ হাজার ৭০৬ কোটি টাকা। ২০২৪ সালেও ব্যাংকটির লোকসান ছিল ১ হাজার ৯১৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে লোকসান আরও বেড়েছে। ব্যাংকটির পরিচালন লোকসান ২০২৪ সালের ১ হাজার ৮৪৬ কোটি টাকা থেকে ২০২৫ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৬২৪ কোটি টাকায়। একই সময়ে নিট সুদ আয় ঋণাত্মক ১ হাজার ৮৯৯ কোটি টাকা থেকে আরও কমে ঋণাত্মক ৩ হাজার ৫৪৩ কোটি টাকায় নেমেছে। ব্যাংকটির বার্ষিক প্রতিবেদনে উচ্চ তহবিল ব্যয়, সুদ আয় কমে যাওয়া এবং মূল ব্যাংকিং কার্যক্রমে চাপকে মুনাফা কমার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এবি ব্যাংকের চলতি বছরের জানুয়ারি-জুন সময়ে সমন্বিত শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ২১ টাকা ৬২ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে লোকসান ছিল ১৯ টাকা ৬৩ পয়সা। আলোচ্য সময়ে ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি লোকসান বেড়েছে ১ টাকা ৯৯ পয়সা।
খেলাপি ঋণের বড় বোঝা:
এবি ব্যাংকের আর্থিক সংকটের অন্যতম বড় দিক খেলাপি ঋণ। ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ব্যাংকটির সেপ্টেম্বর প্রান্তিকের তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, মোট ঋণের প্রায় ৮৪ শতাংশ খেলাপি হয়ে পড়েছিল। সে সময় ব্যাংকটির মোট ঋণ ছিল ৩৫ হাজার ৯৮২ কোটি টাকা; এর মধ্যে ৩০ হাজার ১৩৮ কোটি টাকা অনাদায়ী বা শ্রেণিকৃত ঋণ হিসেবে দেখানো হয়। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ১০ হাজার ১১৫ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের প্রায় ৩১ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে আগে প্রকাশ না পাওয়া বিপুল অঙ্কের খেলাপি ঋণ হিসাবের মধ্যে আসায় পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৬ সালের জুন-শেষের তথ্য নিয়ে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, দেশের সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণ থাকা শীর্ষ ১০ ব্যাংকের তালিকায় এবি ব্যাংক রয়েছে। ওই ১০ ব্যাংকে সম্মিলিতভাবে ব্যাংক খাতের মোট খেলাপি ঋণের ৭২ শতাংশের বেশি কেন্দ্রীভূত ছিল। এ সময় পুরো ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা।
ভাড়া ও পরিচালন ব্যয়ের স্বচ্ছতা জরুরি:
এবি ব্যাংকের ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে ‘ভাড়া, কর, বিমা, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য’ খাতে ব্যয় দেখানো হয়েছে প্রায় ১০৫ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। ২০২৪ সালে এ খাতে ব্যয় ছিল প্রায় ৯৩ কোটি ৮৮ লাখ টাকা।
শুধু গুলশানে কার্যালয় থাকার কারণেই বছরে ব্যাংকটির ব্যয় প্রায় ১শ কোটি বেড়েছে বলে জানা যায় যা লোকসানী একটি ব্যাংকের জন্য একেবারেই অযৌক্তিক। যেহেতু মতিঝিলে এবি ব্যাংকের নিজস্ব প্রধান কার্যালয় স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং অতীতে সফলভাবেই কার্য সম্পাদন হয়েছে তাহলে কেনই বা গুলশানের মত এত ব্যয়বহুল জায়গায় ভাড়া ভবনে কার্যক্রম চালাতে হবে তার কারণ ব্যবস্থাপনার কেউ জানেন না। প্রতিবেদক কয়েকবার প্রধান কার্যালয়ে গেলেও দ্বায়িত্বশীল কেউ কথা বলতে রাজি হননি। প্রধান কার্যালয়ের আয়তন, ভাড়া, চুক্তির মেয়াদ, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়, মতিঝিলের আগের কার্যালয়ের ব্যয় এবং স্থানান্তরের সময়কার সিদ্ধান্তের আর্থিক মূল্যায়ন জরুরী বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে ব্যাংকের আর্থিক সংকট বিবেচনায় ব্যয় কমাতে বিকল্প স্থান বা নিজস্ব ভবন ব্যবহারের সম্ভাবনা পর্যালোচনা করা হয়েছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এ বিষয়ে এবি ব্যাংকের জনসংযোগ বিভাগ তাদের পক্ষ থেকে বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য কয়েকদিন সময় নিলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোন আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পেশ করেনি। তবে এক কর্মকর্তা বলেন, আমরাও চাচ্ছি মতিঝিলে ফিরে যেতে।
এবি ব্যাংকের বর্তমান আর্থিক চিত্র অবশ্য ব্যয় ব্যবস্থাপনায় আরও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে কারণ কয়েক হাজার কোটি টাকার লোকসান, ঋণ আদায়ে দুর্বলতা এবং মূলধন ও তারল্যের ওপর চাপের সময়ে প্রশাসনিক ব্যয়ের প্রতিটি বড় সিদ্ধান্তের পক্ষে সুস্পষ্ট ব্যবসায়িক যুক্তি থাকা জরুরি।
গত মাসে রাজধানীর বনানীর কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউয়ের ইকবাল সেন্টার ছেড়ে তেজগাঁওয়ের শান্তা পিনাকল ভবনে প্রধান কার্যালয় স্থানান্তর করেছে প্রিমিয়ার ব্যাংক। নতুন কার্যালয়ে স্থানান্তরের ফলে বছরে প্রায় ৫৬ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে বলে জানা গেছে। এভাবে ব্যয় সংকোচন নীতিতে চলছে এবি ব্যাংকও বছরে প্রায় ১শ কোটি টাকা সাশ্রয় করতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করেন।
Posted ০৮:২৫ অপরাহ্ণ | শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com