অনলাইন ডেস্ক
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬ প্রিন্ট ১৮ বার পঠিত
ভারতের স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য রপ্তানিতে বিদ্যমান বিধিনিষেধ প্রত্যাহার, বাংলাদেশি পাটপণ্য ও পিইটি ফিল্মের ওপর আরোপিত অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক বাতিল এবং স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পরও শুল্কসুবিধা অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ।
নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যবিষয়ক যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের (জেডব্লিউজি) ১৬তম বৈঠকে এসব দাবি উত্থাপন করে ঢাকা। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত দুই দিনের এ বৈঠক শেষে ঢাকায় পাওয়া এক সরকারি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আয়েশা আখতারের নেতৃত্বে বাংলাদেশের ১০ সদস্যের প্রতিনিধিদল বৈঠকে অংশ নেয়। এ সময় এলডিসি থেকে উত্তরণের পরও দক্ষিণ এশীয় মুক্ত বাণিজ্য এলাকা (সাফটা) চুক্তির আওতায় বিদ্যমান শুল্কসুবিধা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানায় বাংলাদেশ।
ভারতের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশ সহজ করতে পণ্যের মান সমন্বয়, দুই দেশের মানসনদের পারস্পরিক স্বীকৃতি এবং ভারতীয় মান নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ব্যুরো অব ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডসের (বিআইএস) সনদ গ্রহণের প্রক্রিয়া সহজ করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়।
বৈঠকে ভারতের স্থল শুল্ককেন্দ্রগুলোর অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে বাংলাদেশ। এসব বন্দরে সড়ক যোগাযোগ, পার্কিং, গুদাম, পণ্য রাখার শেড এবং পণ্য পরিদর্শন ও কোয়ারেন্টিন সুবিধা বাড়ানোর দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি স্থলবন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও দ্রুত পণ্য খালাসের মাধ্যমে সীমান্ত বাণিজ্যের সময় ও ব্যয় কমানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।
বাংলাদেশের পণ্যবাহী ট্রাকের ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করে নেপাল ও ভুটানে যাতায়াতের সুযোগ বাড়ানোর আহ্বান জানায় ঢাকা। একই সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ায় আন্তদেশীয় পণ্য পরিবহন সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন সুযোগ চিহ্নিত করতে সিইও ফোরাম চালুর প্রস্তাবও দেয় বাংলাদেশ।
বৈঠকে আখাউড়া-আগরতলা সংযোগসহ বিভিন্ন বাণিজ্যপথের উন্নয়ন, রেল যোগাযোগ জোরদার এবং সীমান্ত হাটসংক্রান্ত সমস্যার সমাধান নিয়ে আলোচনা হয়।
অন্যদিকে, নির্দিষ্ট কিছু স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে তুলার সুতা ও অন্যান্য পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার প্রস্তাব দেয় ভারত। দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো থেকে বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানির বাধা কমানো, আঞ্চলিক যোগাযোগ উন্নত করা এবং বহুমাধ্যমভিত্তিক পরিবহনব্যবস্থা সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়।
উভয় পক্ষই সীমান্ত অবকাঠামো উন্নয়ন, শুল্ক প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং পণ্য পরিবহন দ্রুত করার মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের সময় ও ব্যয় কমানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেয়।
বাণিজ্য বাধা দূর করা এবং পণ্য পরিবহনব্যবস্থা আরও কার্যকর করার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্যিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর ওপর বৈঠকে জোর দেওয়া হয়।
Posted ০৯:৫৬ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
bankbimaarthonity.com | Animator Alif
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com