অনলাইন ডেস্ক
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬ প্রিন্ট ২৩ বার পঠিত
সিকিউরিপোর্টকে ২২ অক্টোবরের মধ্যে বিস্তারিত প্রস্তাব দিতে চিঠি, যাচাইয়ে গঠন তিন কমিটি
বাংলাদেশের ইমিগ্রেশন ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সিকিউরিপোর্টের (Securiport) সঙ্গে কাজ করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে কোম্পানিটির কাছে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে একটি পূর্ণাঙ্গ কারিগরি ও আর্থিক প্রস্তাব চাওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী গত ৪ অক্টোবর সিকিউরিপোর্টের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনরিক সেগুরাকে চিঠি দিয়ে ২২ অক্টোবরের মধ্যে বিস্তারিত প্রস্তাব জমা দিতে বলেছেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, গত ২ জুলাই কোম্পানিটি স্বরাষ্ট্রসচিবের কাছে প্রাথমিক প্রস্তাব জমা দিয়েছিল। এতে বাংলাদেশের সব আন্তর্জাতিক প্রবেশ ও বহির্গমন পয়েন্টকে একটি সমন্বিত ইমিগ্রেশন ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নেটওয়ার্কের আওতায় আনার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।
তবে উদ্যোগটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এ বিষয়ে ৭ অক্টোবর দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে মনজুর মোর্শেদ বলেন, আগের সরকার বিদ্যমান ইমিগ্রেশন ব্যবস্থার পাশাপাশি আগাম যাত্রী তথ্য ব্যবস্থা (এপিআইএস) চালুর পরিকল্পনা নিয়েছিল। বর্তমান সরকার সেই উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
কবে নাগাদ ব্যবস্থা চালু হবে, কিংবা শেষ পর্যন্ত এটি বাস্তবায়িত হবে কি না—তা এখনই বলা সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি। উন্মুক্ত দরপত্রের পরিবর্তে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতি বেছে নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সিকিউরিপোর্টের প্রস্তাব অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ছাড়ার আগেই যাত্রীদের তথ্য ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছাবে। এসব তথ্য ইন্টারপোলের ডেটাবেস এবং দেশের নিজস্ব নজরদারি তালিকার সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাই করা হবে। এতে সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকিতে থাকা যাত্রীদের আগেই শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
এর ফলে সন্দেহভাজন যাত্রীদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ যাত্রীদের ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া দ্রুত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় কয়েকটি প্রযুক্তি একীভূত করার কথা রয়েছে। এগুলো হলো—
কোম্পানিটির প্রাথমিক প্রস্তাবে দেশের অভ্যন্তরে তথ্য সংরক্ষণ, তথ্যের পূর্ণ সরকারি মালিকানা, দীর্ঘমেয়াদি পরিচালন সহায়তা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা।
সিকিউরিপোর্টের প্রাথমিক প্রস্তাব পাওয়ার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে উদ্যোগটি এগিয়ে নিতে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন চায়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সূত্র অনুযায়ী, গত ৯ সেপ্টেম্বর কমিটি এ বিষয়ে অনুমোদন দেয়।
এরপর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদের নেতৃত্বে একটি স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা হয়। গত ৩০ সেপ্টেম্বর কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উদ্যোগটির পক্ষে মত দিলেও প্রস্তাবটির কারিগরি, আর্থিক ও আইনগত দিক কঠোরভাবে যাচাই করার ওপর গুরুত্ব দেন।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনসচিব ফাহমিদা আখতার বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার এবং ইমিগ্রেশন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন দেশের স্বার্থের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। সমন্বিত ব্যবস্থায় ই-ভিসা, ই-টিএ এবং ডেটা বিশ্লেষণ প্রযুক্তি যুক্ত করতে তাঁর মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবে বলেও জানান তিনি।
অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার সিকিউরিপোর্টের কাছ থেকে পূর্ণাঙ্গ কারিগরি ও আর্থিক প্রস্তাব নেওয়ার পরামর্শ দেন। তাঁর মতে, প্রস্তাবটি আর্থিক বিধিবিধান, সরকারি ক্রয়নীতি এবং সরকার ও জনগণের বৃহত্তর স্বার্থ বিবেচনায় মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
সিকিউরিপোর্টের ২২ অক্টোবরের প্রস্তাব পর্যালোচনার জন্য তিনটি বিশেষায়িত কমিটি গঠন করেছে স্টিয়ারিং কমিটি।
প্রথম কমিটিতে রয়েছেন নয়জন সদস্য। তাদের দায়িত্ব হবে কোম্পানিটির আইনগত অবস্থান, আর্থিক সক্ষমতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং পূর্ববর্তী কাজের অভিজ্ঞতা যাচাই করা।
সাত সদস্যের দ্বিতীয় কমিটি প্রস্তাবিত ফি বা চার্জ পর্যালোচনা করবে। আন্তর্জাতিক বিমান টিকিটের সঙ্গে ইমিগ্রেশন বা সীমান্ত ব্যবস্থাপনা-সংশ্লিষ্ট ফি আরোপের প্রস্তাব থাকলে তা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে তুলনা করে দেখা হবে।
নয় সদস্যের তৃতীয় কমিটি কোম্পানিটির সঙ্গে আলোচনা ও চুক্তির খসড়া তৈরির দায়িত্ব পালন করবে। এতে কাজের পরিধি, সেবার মান, কর্মসম্পাদনের সূচক, বাস্তবায়নের সময়সীমা, অর্থ পরিশোধের নিয়ম এবং ঝুঁকি ভাগাভাগির বিষয় নির্ধারণ করা হবে।
এ ছাড়া তথ্যের সার্বভৌমত্ব, সাইবার নিরাপত্তা, মেধাস্বত্ব, সফটওয়্যার ব্যবহারের ধারাবাহিকতা, জবাবদিহি এবং চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার শর্তও পর্যালোচনা করবে কমিটি।
সিকিউরিপোর্টকে পাঠানো চিঠিতে মনজুর মোর্শেদ প্রস্তাবের প্রতিটি পর্যায়ে সরকার ও কোম্পানির দায়িত্বের সীমা স্পষ্ট করার নির্দেশনা দিয়েছেন। পাশাপাশি পরিচালনাগত চাহিদা, আইনগত বাধ্যবাধকতা এবং ব্যয়ের কাঠামো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরতে বলা হয়েছে।
চুক্তি হলে সরকারের হাতে তথ্যের পূর্ণ মালিকানা, ব্যবস্থার নিরবচ্ছিন্ন কার্যক্রম, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং প্রয়োজন হলে অন্য ব্যবস্থায় যাওয়ার সুস্পষ্ট প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ ধরনের ব্যবস্থায় যাত্রীদের ব্যক্তিগত ও ভ্রমণসংক্রান্ত বিপুল তথ্য ব্যবহৃত হবে। ফলে তথ্য কোথায় সংরক্ষিত হবে, কারা তা ব্যবহারের অনুমতি পাবে এবং তথ্যের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে—এসব বিষয় চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
সরকারি নথিতে ‘ইমপ্লিমেন্টেশন অব ই-ভিসা, বাংলাদেশ’ নামে একটি উন্নয়ন প্রকল্পের উল্লেখ রয়েছে। ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩১ সালের জুন পর্যন্ত বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাবিত প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা।
তবে চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) প্রকল্পটি এখনো অনুমোদন পায়নি এবং এর জন্য বাজেট বরাদ্দও নেই। এই প্রকল্পের সঙ্গে সিকিউরিপোর্টের প্রস্তাবিত উদ্যোগের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
সব মিলিয়ে, ইমিগ্রেশন ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত করার পরিকল্পনা এগোচ্ছে। তবে সিকিউরিপোর্টের বিস্তারিত প্রস্তাব জমা, কারিগরি ও আর্থিক মূল্যায়ন এবং চুক্তির শর্ত চূড়ান্ত হওয়ার পরই উদ্যোগটির ব্যয়, বাস্তবায়ন কাঠামো ও সময়সীমা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
Posted ১০:২০ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
bankbimaarthonity.com | Animator Alif
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com