বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২০ প্রিন্ট ৬২৭ বার পঠিত
করোনা ভাইরাসের কারণে নেতিবাচক প্রভাব পরেছে বিশ্ব অর্থনীতি। এমন পরিস্থিতিতেও বাংলাদেশের রিজার্ভের পরিমান ইতিবাচক। করোনার কারণে আমদানি ব্যয় কমার কারণে ইতবাচক পর্যায়ে রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছাড়িয়েছে ৩৩ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৩০০ কোটি ডলার।
সূত্র জানায়, সম্প্রতি বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ ও জাইকার কিছু ঋণ এসেছে। এর বাইরে জাতিসংঘ থেকে সামান্য কিছু অনুদান দেওয়া হয়েছে। ফলে ডলার বিক্রির মধ্যেও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৩ দশমিক শূন্য ৪ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর আগে প্রথমবারের মতো রিজার্ভ ৩৩ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করে ২০১৭ সালের ২২ জুন। তবে মাস দুয়েক পর তা আবার ৩২ বিলিয়ন ডলারের ঘরে নামে। এ বছরের শুরুতে চীনসহ বিভিন্ন দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দিলে আমদানি ব্যাপক কমে যায়। তবে রেমিট্যান্স ও রপ্তানিতে ভালো প্রবৃদ্ধি থাকায় ব্যাংকগুলোর হাতে প্রচুর উদ্বৃত্ত ডলার জমা হয়। সে সময়ে ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কেনায় গত ১ মার্চ রিজার্ভ আবার ৩৩ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করে। তবে দু-একদিন না যেতেই রিজার্ভ আবার ৩২ বিলিয়ন ডলারের ঘরে নামে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি সময়ে ২ হাজার ২৩৬ কোটি ডলারের রপ্তানি আয় দেশে এসেছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় যা ৫ দশমিক ৩১ শতাংশ কম। একই সময়ে আমদানি ব্যয় ৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ কমে তিন হাজার ২০০ কোটি ডলার হয়েছে। আর জানুয়ারি পর্যন্ত প্রবাসী বাংলাদেশিরা এক হাজার ১০৫ কোটি ডলার সমপরিমাণ অর্থ দেশে পাঠান। জানুয়ারি পর্যন্ত রেমিট্যান্সে প্রবৃদ্ধি ছিল ২১ দশমিক ৪৯ শতাংশ। ফেব্রুয়ারিতেও রেমিট্যান্সে ভালো প্রবৃদ্ধি ছিল। তবে করোনা ভাইরাসের কারণে মার্চে রেমিট্যান্স কমেছে ১৭ কোটি ১৮ লাখ ডলার বা ১১ দশমিক ৭৮ শতাংশ। চলতি বছর রেমিট্যান্স ২২ শতাংশের মতো কমতে পারে বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক। ফলে আগামীতে রিজার্ভের ওপর চাপ তৈরি হবে বলে সংশ্নিষ্টরা মনে করেন।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যে দেখা যায়, চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) পণ্য রপ্তানি থেকে বাংলাদেশের আয় সাড়ে ৬ শতাংশের মত কমেছে। দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাকের রপ্তানি কমেছে সাড়ে ৭ শতাংশ। চলতি এপ্রিল মাসের ১৫ দিনে (১ এপ্রিল থেকে ১৫ এপ্রিল) পোশাক রপ্তানি কমেছে ৮৫ শতাংশের মতো। গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ১০ দশমিক ৫৫ শতাংশ।
নয় মাসের (জুলাই-মার্চ) হিসাবে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সে ১৬ দশমিক ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি থাকলে মার্চ মাসে রেমিটেন্স কমেছে ১৩ দশমিক ৩৪ শতাংশ। এপ্রিল মাসের তথ্য আরও করুণ। মাসের আট দিনে (১ এপ্রিল থেকে ৮ এপ্রিল) মাত্র ২০ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। গত বছরের এই আট দিনে এসেছি ৪৩ কোটি ডলার; যা দ্বিগুণেরও বেশি।
বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, ইরান, মিয়ানমার, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ- এই নয়টি দেশ বর্তমানে আকুর সদস্য। এই দেশগুলো থেকে বাংলাদেশ যে সব পণ্য আমদানি করে তার বিল দুই মাস পর পর আকুর মাধ্যমে পরিশোধ করতে হয়। সর্বশেষ গত মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মেয়াদের আকুর বিল (প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার) পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ। মার্চ-এপ্রিল মেয়াদের আকুর বিল পরিশোধ করতে হবে মে মাসের প্রথম সপ্তাহে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, একটি দেশের তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর রিজার্ভ মজুদ থাকতে হয়।
এদিকে বাজার স্থিতিশীল রাখতে ডলার বিক্রি অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের ২২ এপ্রিল পর্যন্ত (২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২০ সালের ২২ এপ্রিল) ৬৫ কোটি ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
Posted ০৮:৫৫ অপরাহ্ণ | বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২০
bankbimaarthonity.com | saed khan
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: ই-মেইল: bankbima1@gmail.com