|

Advertisement
×

নোয়াখালী–৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী ফখরুলকে ঘিরে নানা বিতর্ক

শনিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৫   প্রিন্ট   ৭১৫ বার পঠিত

নোয়াখালী–৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী ফখরুলকে ঘিরে নানা বিতর্ক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নোয়াখালী–৫ (কোম্পানীগঞ্জ–কবিরহাট) আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ঘোষিত হয়েছেন ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম। তবে তার নাম ঘোষণার পর থেকেই স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ এটিকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকে প্রশ্ন তুলছেন তার রাজনৈতিক অতীত ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ড নিয়ে।

গত ৩ নভেম্বর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ৩০০ আসনের মধ্যে ২৩৭টি আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন। নোয়াখালী–৫ আসনে মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের নাম ঘোষণার পর স্থানীয় পর্যায়ে শুরু হয় আলোচনা ও সমালোচনা। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী আসনে নতুন মুখ হিসেবে ফখরুল ইসলামের আবির্ভাব অনেককেই বিস্মিত করেছে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান এবং মেট্টো হোমস লিমিটেড নামে একটি ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। বিতর্কিত ব্যবসায়ী এস আলমের মালিকানাধীন পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

বিএনপির সম্ভ্যব্য প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেলেও ছাত্রজীবনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন তিনি। এছাড়া তার কন্যা ব্যারিস্টার নাসরিন সুলতানা মিলি ঢাকা ১০ আসনে এবি পার্টির মনোনীত প্রার্থী হয়েছেন। যে কারণে স্থানীয় বিএনপি নেতারা মনে করছেন, জামায়াতপন্থী পটভূমির ব্যক্তিকে প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হলে বিএনপির আদর্শগত অবস্থান প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।

এ বিষয়ে নোয়াখালী-৫ আসনে মনোনয়ন বঞ্চিত বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় সম্পাদক বজলুল করিম চৌধুরী আবেদ বলেন, “দল প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন দিয়েছে। আমরা আশা করি আরো যাচাই বাছাই হবে। এবং মনোনয়ন বোর্ড চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।”

স্থানীয় নেতাকর্মীদের সূত্র জানায়, তার এই মনোনয়নে দীর্ঘ দেড় দশকে ফ্যাসিস্ট শাসনামলে তৃণমূলের নির্যাতিত, ত্যাগী নেতাকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছেন। এছাড়া তিনি মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকে বিএনপি মহাসচিব, প্রয়াত বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদ এবং নোয়াখালী জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দকে নিয়ে কটাক্ষ করে -যা খুশি তাই বলেছেন। এতেও তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।ফলে প্রার্থী নির্বাচনে ভুলের কারণে প্রয়াত বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদের ঐহিত্যবাহী এই আসন হাতছাড়া হতে পারে। নোয়াখালী-৫ আসনের নেতাকর্মীদের দাবি এই আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী পুনঃবিবেচনা করা হোক। এই দাবিতে গতকাল নোয়াখালী ৫ আসনের বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন হয়েছে। স্মারকলিপিও দেয়া হয়েছে।

বিএনপির স্থানীয় একাধিক নেতা জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে প্রার্থী ঘোষণার আগে স্থানীয় পর্যায়ের মতামত যথাযথভাবে নেয়া হয়নি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মনোনয়নকে ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ঐক্যের পরিবর্তে বিভাজনও বাড়তে পারে বলে অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।
জানা যায়, মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম ইতিমধ্যে এস আলমের মালিকানাধীন পদ্মা লাইফের চেয়ারম্যান ছিলেন। কোম্পানিটির কাছে বিপুলসংখ্যক গ্রাহকের বীমা দাবি পাওনা রয়েছে। বছরের পর বছর ধরে তারা প্রতিষ্ঠানটির দুয়ারে দুয়ারে ঘুরছেন কিন্তু টাকা পাচ্ছেন না। কোম্পানিটির দায়িত্ব নিয়ে ফখরুল ইসলাম গ্রাহকের টাকা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিলেও তা শুধু প্রুতিশ্রুতির মধ্যেই রয়ে গেছে। এরই মধ্যে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর পদ্মা ছেড়ে ফারইস্ট লাইফের চেয়ারম্যোনের দায়িত্ব নেন তিনি। সেখানেও গ্রাহকের কোটি কোটি টাকা বীমা দাবি পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছেন ফখরুল ইসলাম। অথচ আর্থিকখাতের এমন একজন ব্যক্তিকেই বিএনপির মতো ঐতিহ্যবাহী একটি দলের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। যা নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন।

শুধু আর্থিক খাতে নয় ঢাকায় বসবাসরত নোয়াখালীবাসীদের সংগঠন নোয়াখালী জেলা সমিতির দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনেও সভাপতি পদে পরাজিত হয়েছেন ফখরুল ইসলাম। যেখানে একটি জেলা সমিতির নির্বাচনে তিনি পরাজিত হয়েছেন সেখানে তৃণমূলে সংসদীয় আসনে তিনি কীভাবে বিজয়ী হবেন -তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। এছাড়া ২০০৯ সালে চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে কোম্পানিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করেও পরাজিত হয়েছেন তিনি।

Facebook Comments Box
✎ মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Posted ০৯:৪৬ অপরাহ্ণ | শনিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৫

bankbimaarthonity.com |

সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: bankbima1@gmail.com