নিজস্ব প্রতিবেদক
মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫ প্রিন্ট ৪২৭ বার পঠিত
বিপুল পরিমাণ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) সাবেক চেয়ারম্যান ড. এম মোশাররফ হোসেন ও তাঁর স্ত্রী জান্নাতুল মাওয়া ওরফে রিয়া বেগমের বিরুদ্ধে দুটি পৃথক মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) দুদকের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
দুদকের অনুসন্ধানে দেখা যায়, ড. মোশাররফ হোসেন তাঁর দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ৪ কোটি ৫২ লাখ ৯৭ হাজার ৬৭৭ টাকার সম্পদের তথ্য দেখান। যাচাই–বাছাইয়ে আরও ১ কোটি ১৮ লাখ ৩ হাজার ৮০০ টাকার পারিবারিক ব্যয় পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে তাঁর ঘোষিত ও ব্যয়সহ মোট সম্পদ দাঁড়ায় ৫ কোটি ৭১ লাখ ১ হাজার ৪৭৭ টাকা।
অন্যদিকে বৈধ আয়, ঋণ ও দায় মিলিয়ে পাওয়া যায় ৪ কোটি ৩৪ লাখ ৪৮ হাজার ৪৭৪ টাকা। ফলে ১ কোটি ৩৬ লাখ ৫৩ হাজার ৩ টাকার উৎস অজানা, যা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ হিসেবে চিহ্নিত করেছে দুদক।
স্ত্রী জান্নাতুল মাওয়ার সম্পদে আরও বড় অসঙ্গতি
দুদক জানায়, জান্নাতুল মাওয়ার নামে অর্জিত সম্পদ পাওয়া গেছে ১৩ কোটি ৬০ লাখ ৮৮ হাজার ৭ টাকা। সঙ্গে ২৭ লাখ ৮৫ হাজার ৯২২ টাকার পারিবারিক ব্যয় যোগে মোট হিসাব দাঁড়ায় ১৩ কোটি ৮৮ লাখ ৭৩ হাজার ৯২৯ টাকা।
কিন্তু তাঁর বৈধ আয় শনাক্ত হয়েছে মাত্র ৪৯ লাখ ৭৫ হাজার ৫৫৬ টাকা। ফলে ১৩ কোটি ৩৮ লাখ ৯৮ হাজার ৩৭৩ টাকার উৎস মিলেনি, যা দুদকের ভাষায় জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ।
অতিরিক্ত সম্পদ ভোগদখলের অভিযোগে ড. মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪–এর ২৭(১) ধারায় মামলা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এ ছাড়া স্ত্রীর বিপুল অস্বচ্ছ সম্পদ অর্জনে স্বামীর সহযোগিতা থাকার অভিযোগে তাঁদের দুজনের বিরুদ্ধেই দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪–এর ২৭(১) ধারা ও দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় আরেকটি মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক।
২০২২ সালের ১৫ জুন বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগের মুখে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে আইডিআরএর চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেন ড. মোশাররফ। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) তাঁর বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত গুরুতর অসঙ্গতি শনাক্ত করে ২০২২ সালের ১৪ অক্টোবর প্রতিবেদন দুদকে পাঠায়।
এর আগেও ২০২১ সালে ডেলটা লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ তাঁর বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির অভিযোগ তোলে। প্রশাসক নিয়োগকে কেন্দ্র করে সেই বিতর্ক সামনে আসে, যদিও মোশাররফ হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করেন।
বিএফআইইউর প্রতিবেদনে তাঁর ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ৩০টি ব্যাংক হিসাবে অস্বাভাবিক লেনদেন এবং প্রভিডেন্ট ও গ্র্যাচুইটি ফান্ডের অর্থ উত্তোলন, নগদ লেনদেন ও ব্যক্তিগত এফডিআর করার মতো তথ্য উঠে আসে-যা ‘স্বাভাবিক নয়’ বলে উল্লেখ করে সংস্থাটি।
২০১৮ সালের ৪ এপ্রিল থেকে ২০২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি আইডিআরএর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একই বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর সরকার তাঁকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়। তাঁর নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০২১ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে রিট করা হয়।
Posted ০৬:২৯ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com
✎ মন্তব্য করুন