|

Advertisement
×

অগ্রণী ইন্স্যুরেন্স চালায় কে?

সোমবার, ২০ জানুয়ারি ২০২০   প্রিন্ট   ৬৭৫ বার পঠিত

অগ্রণী ইন্স্যুরেন্স চালায় কে?

প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) পদ শূন্য থাকায় কোরামবিহীন সভা অনুষ্ঠিত হওয়া ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং কোরামপূর্ণ না হওয়ায় সভাগুলোর কার্যক্রম অবৈধ গণ্য করার কথা। কিন্তু তা সত্তে¡ও সিইও’র নামে বেতন-ভাতা উত্তোলন করা অর্থ আত্মসাতেরই শামিল।

মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) শর্ত পরিপালনে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে যে অভিযোগ, তা বীমা নিয়ন্ত্রক সংস্থা- বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) অনুমোদন করে না। তারপরও গত এক বছর যাবৎ তিনি প্রতিষ্ঠান থেকে যে সুবিধা নিয়েছেন তার দায় কে নিবে? বীমা অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে, অগ্রণী ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি বর্তমানে চালায় কে?
জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটির সিনিয়র অ্যাডিশনাল এমডি ও মতিঝিল ব্র্যাঞ্চ ইনচার্জ আজহারুল ইসলামকে সিইও (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে নিয়োগ দেয় পরিচালনা পর্ষদ। নিয়োগপ্রাপ্তির পরেই গত ১৮ জানুয়ারি রাতে ওমরাহ করার জন্য আগামী ৩ ফেব্রæয়ারি ২০২০ পর্যন্ত ছুটি নেন। এক্ষেত্রে পরিচালনা পর্ষদকে অবহিতের পাশাপাশি নিয়ন্ত্রণ সংস্থা থেকেও ছুটির অনুমতির প্রয়োজন ছিল। কিন্তু তা ব্যতিরেকেই তিনি ছুটি নিয়েছেন।

এছাড়াও একের পর এক অনিয়ম করে যাচ্ছে পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত সাধারণ বীমা খাতের প্রতিষ্ঠান অগ্রণী ইন্স্যুরেন্স। বীমা নিয়ন্ত্রক সংস্থার বারবার সতর্কতার তোয়াক্কা করেনি। ফলে প্রায়শই পড়তে হয়েছে জরিমানার কবলে। এরপরও বন্ধ হয়নি প্রতিষ্ঠানের কর্তাদের দুর্নীতির কার্যকলাপ। এখন যেন সে মাত্রা ছাড়িয়েছে আগের সবকিছুকে। কোম্পানির অনিয়মের অভিযোগ জানিয়ে সম্প্রতি এক বিনিয়োগকারীর পক্ষ থেকে চিঠি দেয়া হয়েছে।

চিঠি সূত্রে জানা যায়, সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) কর্পোরেট গভর্ন্যান্স কোড (সিজিসি) অনুযায়ী মোট পরিচালকদের এক-পঞ্চমাংশ স্বতন্ত্র পরিচালক থাকা বাধ্যতামূলক। সে অনুযায়ী পরিচালনা পর্ষদের ১৫ সদস্যের মধ্যে ৩ জন স্বতন্ত্র পরিচালক থাকার কথা। কিন্তু সেই শর্ত পূরণ করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। আবার সিজিসি’র শর্তানুযায়ী নমিনেশন অ্যান্ড রিমুনারেশন কমিটি (এনআরসি) গঠন করা হলেও সেখানে বৈঠকের বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি। এছাড়া আর্থিক প্রতিবেদনে সিজিসি ফরম্যাট অনুযায়ী, মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা ও মুখ্য অর্থ কর্মকর্তার ঘোষণা দাখিল করা হয়নি। যা নিয়মবর্হিভূত।

অন্যদিকে আর্থিক প্রতিবেদনে কমপ্লায়েন্স সার্টিফিকেট চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট দ্বারা সার্টিফাইড করার নিয়ম থাকলে তাও করতে ব্যর্থ হয়েছে কোম্পানিটি। এক্ষেত্রে কোনো পেশাদার অ্যাকাউন্টেন্ট বা সেক্রেটারি নিয়োগদান এবং এজিএমে শেয়ারহোল্ডারদের মাধ্যমে তা অনুমোদন করতে হয়। কিন্তু বার্ষিক প্রতিবেদনের পরিচালকদের প্রতিবেদন এবং এজেন্ডায় এ নিয়ে কোনো আলোকপাত করা হয়নি। এছাড়া বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মীর নাসির হোসেনকে প্রতিবেদনে স্পন্সর শেয়ারহোল্ডার দেখানো হয়েছে। অথচ তিনি প্রতিষ্ঠানের কোনো পর্যায়েই দায়িত্বশীল কেউ নন। তবে কি কারণে তাকে বিশেষভাবে প্রদর্শন করা হলো তা নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে বিনিয়োগকারীদের মাঝে।

এসব বিষয়ে অভিযোগ জানিয়ে গত ১১ ডিসেম্বর ২০১৯ গোলাম ফারুক নামে এক বিনিয়োগকারী কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি চিঠি প্রদান করেন। কিন্তু এ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে তাকে এখন পর্যন্ত কোনো জবাব দেয়া হয়নি বলে জানা যায়।

এ নিয়ে কোম্পানির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মুখ্য অর্থ কর্মকর্তা বাদল চন্দ্র রাজবংশীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এসব বিষয়ে চেয়ারম্যান মহোদয়ই ভালো বলতে পারবেন। বিনিয়োগকারীর চিঠির অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, ওটা বিএসইসি’র কাছে জবাব দেয়া হয়েছে। যখন বলা হলো, চিঠিতো প্রতিষ্ঠান বরাবর দিয়েছেন ওই বিনিয়োগকারী। তাহলে বিএসইসি’র কাছে উত্তর দিলেন কেন? এর জবাবে নীরব থাকেন এই কর্মকর্তা।

উল্লেখ্য, বাকিতে ব্যবস্থা ও অতিরিক্ত কমিশন প্রদানসহ বিভিন্ন অনিয়মে ইতিপূর্বে ২০১৫ ও ২০১৭ সালে অগ্রণী ইন্স্যুরেন্সকে সাড়ে ৭ লাখ টাকা এবং ৯ লাখ টাকা জরিমান করে নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ইড্রা। অপরদিকে ২০১৯ সালে ইড্রার প্রতিবেদন অনুযায়ী নির্ধারিত ব্যয় সীমার চেয়ে অতিরিক্ত এক কোটি টাকা খরচের অভিযোগ রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে।

Facebook Comments Box
✎ মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Posted ০৩:৪৯ অপরাহ্ণ | সোমবার, ২০ জানুয়ারি ২০২০

bankbimaarthonity.com |

সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: bankbima1@gmail.com