নিজস্ব প্রতিবেদক
রবিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৫ প্রিন্ট ৩৭৪ বার পঠিত
দেশে বেসরকারী কর্মজীবিদের বিশাল জনগোষ্ঠীর অবসর গ্রহণের পর আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ অবলম্বন হল পেনশন বীমা। অথচ আস্থা সংকট, সচেতনতার অভার ও বীমা কর্মীদের উদাসীনতার অভাবে এখনও পেনশন বীমা জনপ্রিয় হয়ে ওঠেনি মনে করেন বীমা সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, একজন সরকারী কর্মচারী চাকরি গ্রহণের সময় অবসর পরবর্তী সুযোগ সুবিধা সম্পর্কে নিশ্চিত থাকে। কিন্তু বীমা কোম্পানিগুলো তাদের সুযোগ সুবিধার ব্যাপারে জনগণকে নিশ্চিত করতে পারেনি। এ কারণে পেনশন বীমা জনপ্রিয়তা পায়নি। বীমা তামাদি হলে গ্রাহককেই পুরো দায় বহন করতে হয়। এটিও পেনশন বীমা গ্রহণযোগ্য না হওয়ার আরেকটি কারণ। তাছাড়া বীমা কর্মীরাও উদাসীন। কয়টা প্রচলিত বীম পরিকল্প ছাড়া পেনশন বীমার ব্যাপারে তাদের কোনো পড়াশোনা নেই।
আস্থা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহ সগিরুল ইসলাম এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি বলেন, সরকারী কর্মচারী চাকরি গ্রহণের সময় অবসর পরবর্তী সুযোগ সুবিধা সম্পর্কে নিশ্চিত থাকে। কিন্তু বীমা কোম্পানিগুলো তাদের সুযোগ সুবিধার ব্যাপারে জনগণকে আশ্বস্ত করতে পারেনি। এ কারণে পেনশন বীমা জনপ্রিয়তা পায়নি।
প্রোটেক্টিভ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা কিশোর বিশ্বাস মনে করেন পেনশন বীমা বিকাশে বড় সমস্যা হলো সচেতনতার অভাব। বীমা কর্মীরা কিছু প্রচলিত বীমা পরিকল্প নিয়ে কাজ করে। পেনশন বীমা নিয়ে তাদের আগ্রহ কম। কোনো পড়াশোনাও নেই।
আজীবন কঠোর পরিশ্রমের পর অবসরজীবনে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন আর্থিক নিরাপত্তা। এই বীমা পরিকল্পনা সেই নিশ্চয়তা দেয় বিশেষ করে তাদের জন্য, যারা দীর্ঘ সময় প্রিমিয়াম দিতে চান না, কিন্তু অবসরের পর নিয়মিত পেনশন সুবিধা পেতে চান।
এই পরিকল্পনার আওতায় নির্দিষ্ট সময় প্রিমিয়াম দিলেই গ্রাহক অবসর-পরবর্তী সময়ে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট অঙ্কের পেনশন পাবেন। যদি পলিসি চলাকালে দুর্ঘটনা বা অসুস্থতার কারণে গ্রাহক স্থায়ীভাবে অক্ষম হয়ে পড়েন, তাহলে বাকি মেয়াদের প্রিমিয়াম দিতে হবে না। অর্থাৎ পলিসিটি চালু থাকবে।
এ ছাড়া পেনশন শুরুর আগে মৃত্যু হলে মনোনীত (নমিনি) ব্যক্তি সম্পূর্ণ বীমার অঙ্ক পাবেন। এ ছাড়া পেনশন গ্রহণকালীন মৃত্যুর ক্ষেত্রে মনোনীত ব্যক্তি বাকি মেয়াদের পেনশন পাবেন। কেউ যদি পেনশনের মেয়াদ অতিক্রম করেও জীবিত থাকেন, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত একই হারে পেনশন পাবেন তিনি।
১৮ থেকে ৬৫ বছর বয়সের মধ্যে এই পেনশন বীমা পলিসি নেওয়া যায়। কিন্তু যত বেশি বয়সে এই বীমা নেওয়া হবে, প্রিমিয়াম ততই বেড়ে যাবে। সে জন্য গ্রাহকদের জন্য পরামর্শ হচ্ছে, বয়স কম থাকতেই পেনশন বীমা নেওয়া।
গ্রাহককে মেয়াদ পর্যন্ত নিয়মিত প্রিমিয়াম দিতে হবে। এর বিনিময়ে অবসরজীবনের প্রায় পুরোটা সময় এই বীমার ছায়ায় থাকা যায়। প্রিমিয়াম দিতে হয় নির্ধারিত সময়ে ১০ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত, নিজের সামর্থ্য ও পরিকল্পনা অনুযায়ী। পেনশন দেওয়া হয় ন্যূনতম ১০ বছর। এরপর সর্বোচ্চ ১০০ বছর বয়স পর্যন্ত গ্রাহক পেনশন পাবেন।
Posted ০৭:৫৬ অপরাহ্ণ | রবিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৫
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com
✎ মন্তব্য করুন