নিজস্ব প্রতিবেদক
সোমবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৫ প্রিন্ট ৭০৫ বার পঠিত
চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) দেশের জীবন বীমা খাতে ৩ লাখ ২৫ হাজার ২৬৬টি বীমা পলিসি তামাদি হয়েছে। খাতের মোট ৩৬টি কোম্পানির মধ্যে ৩৫টি প্রতিষ্ঠানের নিরীক্ষিত ও অনিরীক্ষিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এ তথ্য প্রকাশ করেছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)।
আইডিআরএ জানিয়েছে, এর আগের বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে (জানুয়ারি-ডিসেম্বর) মোট তামাদি হয়েছিল ১২ লাখ ৭০ হাজার ৭৪৮টি পলিসি, আর ২০২৩ সালে তামাদি পলিসির সংখ্যা ছিল ১৫ লাখ ৪২ হাজার ৮১৫টি। ধারাবাহিকভাবে গ্রাহক ঝরে পড়ার এই প্রবণতা খাতটিতে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে।
গ্রাহক ঝরে পড়া কমাতে আইডিআরএ বছরের পর বছর ধরে বীমা কোম্পানিগুলোকে বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়ে আসছে। পলিসি তামাদি রোধে নতুন নীতিমালাও জারি করা হচ্ছে। তবুও তামাদি পলিসির সংখ্যা কমছে না; বরং অনেক প্রতিষ্ঠানে তা বাড়ছে।
বীমা কোম্পানিগুলোর মতে দ্বিতীয় বর্ষ থেকে এজেন্ট কমিশন কমে যাওয়া, গ্রাহকের কাছে ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য প্রদান, প্রিমিয়াম জমা দিতে গ্রাহকের অনিহা, এজেন্টদের যথাযথ পেশাগত দক্ষতার ঘাটতি ও কোম্পানি পরিবর্তন, গ্রাহকের বীমা সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং অর্থনৈতিক সংকট এসব কারণেই অধিকাংশ পলিসি তামাদি হয়ে যায়।
আইডিআরএ’র তথ্যমতে, দ্বিতীয় প্রান্তিকে সবচেয়ে বেশি পলিসি তামাদি হয়েছে সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সে ৭৩,২৬৭টি। এরপর রয়েছে ন্যাশনাল লাইফ ৪৬,৭৬৩টি, ডেল্টা লাইফ ২৭,৩৭৬টি, মেটলাইফ বাংলাদেশ ২০,২৭৮টি, প্রগতি লাইফ ১৮,৯০৮টি এবং পপুলার লাইফ ১৭,৩৪৮টি।
অন্যান্য কোম্পানির তামাদি পলিসির সংখ্যা আলফা ইসলামি লাইফ ১৩,৩৫৭; স্বদেশ লাইফ ১৬,৬২৫; প্রাইম ইসলামী লাইফ ১০,৬২১; রূপালী লাইফ ১০,৬১২; বেঙ্গল ইসলামী লাইফ ৭,৭১৯; গার্ডিয়ান লাইফ ৭,০৬৮; গোল্ডেন লাইফ ৬,৭৬৮; এনআরবি ইসলামিক লাইফ ৫,৪০২; ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ৫,১০৯; মার্কেন্টাইল ইসলামী লাইফ ৪,৮৮৮; মেঘনা লাইফ ৪,৩১৪; চার্টার্ড লাইফ ৪,১৭৫; জীবন বীমা কর্পোরেশন ৩,৮৭৫; প্রোগ্রেসিভ লাইফ ৩,০৪৭; আকিজ তাকাফুল লাইফ ২,৬৯২; সন্ধানী লাইফ ২,৭৯৮; হোমল্যান্ড লাইফ ২,৩২৭; বেস্ট লাইফ ১,৫৮০; আস্থা লাইফ ১,৪৯০; জেনিথ ইসলামী লাইফ ১,২৭৩; পদ্মা ইসলামী লাইফ ১,০৭৫; প্রোটেক্টিভ ইসলামী লাইফ ১,০১০; সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স ১,০৩০; যমুনা লাইফ ১৪০; জীবন বীমা কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ লিমিটেড ৪০৭; বায়রা লাইফ ৪২১; ডায়মন্ড লাইফ ৬৫৮; শান্তা লাইফ ৯টি।
বীমা বিশ্লেষকরা বলছেন, পলিসি তামাদি বাড়তে থাকলে এর নেতিবাচক প্রভাব কোম্পানির আর্থিক স্থিতি, ভবিষ্যৎ দাবি পরিশোধ সক্ষমতা এবং গ্রাহকের আস্থার ওপর পড়বে। গ্রাহক ধরে রাখা ও সেবা উন্নত করার বিষয়ে কোম্পানিগুলোকে আরও সক্রিয় হতে হবে বলে মনে করছেন তারা।#
Posted ০৯:১৪ অপরাহ্ণ | সোমবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৫
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com
✎ মন্তব্য করুন