|

Advertisement
×

পর্ষদে যারাই আসুক পলিসি ও শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ অক্ষুন্ন থাকবে:রহমত উল্লাহ

মঙ্গলবার, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২   প্রিন্ট   ৪০৪ বার পঠিত

পর্ষদে যারাই আসুক পলিসি ও শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ অক্ষুন্ন থাকবে:রহমত উল্লাহ

পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত বীমা খাতের কোম্পানি ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারহোল্ডার ও বীমা পলিসি হোল্ডারদের স্বার্থ সংরক্ষণে ২০ শতাংশ ক্রয় করে এবার পরিচালনা পর্ষদে যুক্ত হচ্ছে বেক্সিমকো গ্রুপের পাঁচ প্রতিনিধি। একই সঙ্গে পর্ষদে নতুন করে আরও কয়েকজন স্বতন্ত্র পরিচালক যুক্ত হচ্ছেন।

এ প্রসঙ্গে ‘ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির’ চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. রহমত উল্লাহ দৈনিক ব্যাংক বীমা অর্থনীতিকে বলেন, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ভাল মনে করেই এই উদোগ গ্রহণ করেছে। নিশ্চয়ই পর্ষদে যারা আসবেন তারা কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার ও বীমা পলিসি হোল্ডারদের স্বার্থের দিকে অধিক গুরুত্ব দেবেন। তিনি বলেন, বেক্সিমকো গ্রুপের অভিজ্ঞ লোকজন ‘ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির’ আসছেন। তাদের কাছে সবার প্রত্যাশা অনেক বেশি। তবে আমি আগাম কোন মন্তব্য করতে চাই না। আমাদের এ প্রতিষ্ঠান থেকে পাঠানো চিঠিতে পরিষ্কার বলা আছে। শেয়ারহোল্ডার ও বীমা পলিসি হোল্ডারদের স্বার্থ অক্ষুন্ন থাকবে এটাই সবার প্রত্যাশা।

সূত্র মতে, বিএসইসির বিশেষ নিরীক্ষায় বেরিয়ে এসেছে কোম্পানির তৎকালীন চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শেয়ারহোল্ডার এবং বীমা পলিসিহোল্ডারদের আমানতের ২ হাজার ১২৫ কোটি টাকা আত্মসাতের বিষয়টি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির’ সাবেক চেয়ারম্যান, এমডি এবং পরিচালক এম এ খালেক যৌথভাবে এই টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এই দুর্নীতিবাজ চক্রটি নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য ইচ্ছেমতো নথিপত্র জালিয়াতি করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে ২ হাজার ১২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের অভিযোগ উঠেছে।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১৫ জুলাই ১৫৮ তম বোর্ড সভায় ১৬ বিবিধ এর আলোচ্যসূচি, গৃহিত সিদ্ধান্ত এবং কি এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা হয়েছে, তা পর্যালোচনা করলেই, তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্তদের ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি এবং লোপাটের চিত্র ফুটে উঠে। সিদ্ধান্ত হয়: কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালক শাহরিয়ার খালেদ এবং উদ্যোক্তা এম এ খালেকের শেয়ার হস্তান্তর। ফারইস্ট টাওয়ারের কনট্রাক্টর এডিই’র সিকিউরিটির মানি ফেরত প্রদান প্রসঙ্গ। ফারইস্ট টাওয়ারের ইলেকট্রিক্যাল সাব-স্ট্রেশন এক্সট্রেনশন এর কাজ প্রসঙ্গ।

কিন্তু বাস্তবায়ন কালে উল্লেøখ করেছেন; সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক লি.এ ‘ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির’ বিনিয়োগকৃত ’এমডিবিএস’ এর বিপরীতে কলাট্রোরাল সিকিউরিটি’ রক্ষণ প্রসঙ্গ। সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক লি.এ ‘ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির’ বিনিয়োগকৃত ডাবল বেনিফিট সেমিখাতে যেসব ’এমডিবিএস’ আছে এবং ভাবষ্যতে রক্ষিত ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত এর বিপরীতে ‘পিএফআই’ প্রোর্পাটিস লি.এবং প্রাইম, এশিয়া ইউনির্ভাসিটি কর্তৃক এসবিসিএল থেকে লোন এর অনুকূলে উক্ত ‘এমডিবিএস’ ইন্সট্রোসেন্ট ইরোইভোকেলাবল কলাট্রোরাল হিসেবে রাখার জন্য পর্ষদ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

সূত্র মতে, গত বছর বিএসইসির পক্ষ থেকে ‘ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির’ আর্থিক অনিয়মের বিষয়ে বিশেষ নিরীক্ষার উদ্যোগ গ্রহণের পর আর্থিক অনিয়মের পাশাপাশি মানি লন্ডারিংয়ের বিষয়টিও উঠে আসে। ফলে বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করতে আরো যাচাই-বাছাইয়ের স্বার্থে গত আগস্টে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) সদস্যদের সমন্বয়ে একটি যৌথ অনুসন্ধান ও তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেয় বিএসইসি।

এদিকে বিএসইসির উদ্যোগে এবার বেক্সিমকো গ্রুপের দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে পাঁচ জন প্রতিনিধি ফারইস্ট লাইফের পর্ষদে যুক্ত হচ্ছেন। সম্প্রতি বিএসইসির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান এবং ডিএসই, সিএসই ও সিডিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর চিঠি পাঠিয়ে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে কোম্পানিটির চেয়ারম্যান, সদ্য নিয়োগ দেওয়া স্বতন্ত্র পরিচালক এবং মনোনীত পরিচালকদের কাছে চিঠি পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বিএসইসি।

সূত্র মতে, বেক্সিমকো গ্রুপের ট্রেডনেক্সট ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের পক্ষ থেকে পর্ষদে যাবেন শান্তা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের ভাইস চেয়ারম্যান আরিফ খান ও বেক্সিমকো গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক মোস্তফা জামানুল বাহার, জুপিটার বিজনেস লিমিটেডের পক্ষে পর্ষদে যুক্ত হবেন বেক্সিমকো ফার্মাসিটিউক্যালসের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) আলী নেওয়াজ, বেক্সিমকো টেক্সটাইলের মহা-ব্যবস্থাপক মাসুদ মিয়া ও ব্যবসায়ী জহুরুল ইসলাম চৌধুরী।

ইতোমধ্যে বেক্সিমকো গ্রুপের দুটি প্রতিষ্ঠান জুপিটার বিজনেস লিমিটেড ৯ দশমিক ৯০ শতাংশ ও ট্রেডেনেক্সট ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড ৯ দশমিক ৯১ শতাংশ এবং ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ২ শতাংশের বেশি শেয়ার ধারণ করে আছে। নিয়োগপ্রাপ্ত স্বতন্ত্র পরিচালকরা হলেন; শেখ কবির হোসেন, ডা. লাফিফা জামাল, মোজাম্মেল হক, মো. ইব্রাহিম হোসেন খান, শেখ মামুন খালেদ এবং ডা. মো. রফিকুল ইসলাম। মনোনীত পরিচালকরা হলেন, আলহাজ মো. হেলাল মিয়া, ফারইস্ট সিকিউরিটিজ।

এদিকে, কোম্পানিটির পুনর্গঠিত পরিচালনা পর্ষদ কমিশনের নূন্যতম শেয়ার ধারণের নির্দেশনা অনুযায়ী কমপক্ষে স্বতন্ত্রভাবে পরিচালকদের ২ শতাংশ এবং কোম্পানির উদ্যোক্তা এবং পরিচালকদের দ্বারা সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার বজায় রাখার বিষয় নিশ্চিত করতে হবে।
উল্লেখ, গত বছরের সেপ্টেম্বরে ‘ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির’ পর্ষদ পুনর্গঠন করে ১০ জন স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দেয় (বিএসইসি) কমিশন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. রহমত উল্লাহকে পুনর্গঠিত পর্ষদের চেয়ারম্যান করা হয়।

কোম্পানিটির পর্ষদে নিয়োগ পাওয়া অন্য স্বতন্ত্র পরিচালকদের মধ্যে রয়েছেন মোহাম্মদ সানাউল্লাহ অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটসের প্রধান নির্বাহী ও প্রধান পরামর্শক মোহাম্মদ সানাউল্লাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম, সরকারের অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব মো. মোফাজ্জল হোসেন, অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা কর্নেল গাজী মো. খালিদ হোসেন, স্নেহাশীষ মাহমুদ অ্যান্ড কোম্পানি চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টসের পার্টনার স্নেহাশীষ বড়ুয়া, একাত্তর টেলিভিশনের প্রধান সম্পাদক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক, জি সেভেন সিকিউরিটিজের চেয়ারম্যান সাজেদুর রহমান, জনতা ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জিকরুল হক এবং নর্দার্ন জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের সাবেক চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম চৌধুরী।

পুনর্গঠিত পরিচালনা পর্ষদ পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে কোম্পানিটির শীর্ষ ব্যবস্থাপনা পুনর্গঠনের পাশাপাশি নগদ অর্থ ও সম্পদ ফেরত আনতে বলা হয়েছে। এছাড়া যারা গত ১০ বছরে কোম্পানিটিতে আর্থিক অপরাধ ও মানি লন্ডারিং করেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

এদিকে গত বছর ১৫ সেপ্টেম্বর ‘ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির’ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ হেমায়েত উল্লাহকে নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগে অপসারণ করেছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। ২৮ ডিসেম্বর ২০২১ বোর্ড মিটিংয়ে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্সে অবৈধভাবে পদোন্নতি প্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে ২৩ কর্মকর্তাকে পদোবনতির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এই তালিকায় রয়েছে খোদ বীমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বীমা উন্নয়ন উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান ড. মো. মোশাররফ হোসেনের বোন ফেরদৌস আক্তার। বর্তমান পদ থেকে তাকে ৩ ধাপ পিছিয়ে সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার করা হয়েছে। তিনি ২০১৯ সালে জয়েন্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট বা (জেভিপি) হিসাবে পদোন্নতি পান। এদিকে অবৈধভাবে পদোন্নতি প্রাপ্ত কিছু কর্মকর্তার দুই বছরের অতিরিক্ত বেতন-ভাতা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে যাদের ইতোমধ্যে তিন বছর হয়েছে তাদের বিষয়ে বিকল্প চিন্তা করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান।

 

Facebook Comments Box
✎ মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Posted ১২:২৯ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২

bankbimaarthonity.com |

সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: bankbima1@gmail.com