নিজস্ব প্রতিবেদক
রবিবার, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ প্রিন্ট ৬১৯ বার পঠিত
যারা বীমা খাতের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য কাজ করবে এমন নেতৃত্বই এবার বিআইএ’র জন্য বেছে নেয়া উচিত বলে মনে করেন ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান তারেক।
বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্যাংক বীমা অর্থনীতিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ অভিমত ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, বিআইএ’র এবারের নেতৃত্ব নির্বাচনে বিশেষায়িত জ্ঞান, সাংগঠনিক দক্ষতা-যোগ্যতার বিষয়কেও গুরুত্ব দেয়া উচিত। সাক্ষাৎকারে দেশের বাধ্যতামূলক ইন্স্যুরেন্সগুলোর ব্যাপকতা বাড়াতে তিনি প্রচেষ্টা চালাবেন বলেও জানান জনাব তারেক। তিনি বলেন, নেতৃত্বে আসলে বীমা খাত নিয়ে গবেষণা, বীমা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিতে বিআইএর মাধ্যমে কাজ করবেন তিনি।
নির্বাচনে প্রার্থী হতে ইতিমধ্যে মনোনয়নপত্রও জমা দিয়েছেন নন-লাইফ বীমা খাতের অভিজ্ঞ এই মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবস্থাপনায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করার পর ব্যাংকিং খাতে চাকরির মধ্য দিয়ে পেশাগত জীবনের সূচনা করেন হাসান তারেক। বীমা খাতে তার প্রথম পদযাত্রা শুরু হয় নর্দান ইন্স্যুরেন্সে যোগদানের মধ্য দিয়ে।
এরপর মহাব্যবস্থাপক হিসেবে যোগ দেন এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্সে। ২০০৩ সালে সিনিয়র ভাইস প্রেসিডন্ট হিসেবে কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্সে, ২০১০ সালে ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে যোগদান করেন তিনি। পুনরায় ২০১২ সালে নির্বাহী পরিচালক হিসেবে কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে যোগদান, পরবর্তীতে কয়েক দফা পদোন্নতি অর্জনের পর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। তিনি ২০২১ সালে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত হয়ে কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা নিযুক্ত হন।
এরপর গত বছরের ১ অক্টোবর ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা পদে তার নিয়োগ অনুমোদন দেয় বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির এফডিআরএ রয়েছে ১৪৫ কোটি টাকা, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ আছে ৪২ কোটি, সিকিউরিটিজ বন্ডে রয়েছে ১৮ কোটি টাকা। এছাড়াও স্থায়ী সম্পদের মধ্যে রাজধানীতে জমি রয়েছে কোম্পানিটির।
জনাব তারেক সুদীর্ঘকাল বীমা শিল্পের সঙ্গে স¤পৃক্ততার ফলে বীমা ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসন, অবলিখন, পুনঃবীমা ও ব্যবসা আহরণ বিষয়ে বিস্তর অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। তিনি স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বীমা ও বিপণন সংক্রান্ত বিভিন্ন কোর্স, সেমিনার, কর্মশালায় অংশগ্রহণ করে মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার অন্যান্য ক্ষেত্রে বিশেষ অভিজ্ঞতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। এগুলোর পাশাপাশি বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কর্মকান্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন হাসান তারেক।
বিআইএ’র কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনকে সামনে ব্যাংক বীমা অর্থনীতির সঙ্গে আলোচনায় তিনি বলেন, দীর্ঘ দিন পরে একটি উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আমরা অত্যন্ত উৎসাহিত বোধ করছি। বর্তমান বাস্তবতায় বীমা খাতকে এগিয়ে নিতে বিআইএ শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে পারবে-এই আশাবাদ নিয়ে এবারের নির্বাচনী কার্যক্রমে আমরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করছি। আমরা চাই বিআইএতে এবার সঠিক নেতৃত্ব আসুক। এবারের নেতৃত্ব হোক বীমা খাতের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য। আশা করছি এবার আমরা সঠিক নেতৃত্ব বেছে নিতে পারব। আমরা চাই এবার এই অ্যাসোসিয়েশন রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে শুধু বীমা খাতের প্রবৃদ্ধির জন্য কাজ করবে।
বিআইএ’র নেতৃত্বে আসলে কোন কোন বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করবেন জানতে চাইলে হাসান তারেক বলেন, বিআইএ’র নেতৃত্বে আসলে আলোচনার মাধ্যমে অবৈধ কমিশন বাণিজ্য বন্ধে পদক্ষেপ নেয়া হবে; এই অনৈতিক বাণিজ্য যতদিন চলবে ততদিন বীমা শিল্প সমৃদ্ধ হবে না। বিআইএ নেতৃত্বের প্রথম কাজ হবে বীমা শিল্পের সকল স্টেকহোল্ডারকে নিয়ে আইডিআরএ’র সঙ্গে বসে এই অনৈতিক কমিশন বাণিজ্য বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া।
আমি চাই দেশে সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের বাইরেও আরো রিইন্স্যুরেন্স কোম্পানি থাকুক। যাতে বিদেশে আর রিইন্স্যুরেন্স করতে না হয়। দেশের টাকা যাতে দেশেই থাকে। এরকম একটি প্রতিষ্ঠান আমরা কীভাবে দেশে প্রতিষ্ঠা করতে পারি; তা নিয়ে বিআইএ’র মাধ্যমে আমি কাজ করতে চাই।
জনাব হাসান তারেক বলেন, উন্নত দেশগুলোর ফাইন্যান্সিয়াল ইন্ড্রাস্ট্রিতে বীমা শিল্প খুবই উচ্চতর মর্যাদায়, বৃহত্তরে পরিসরে রয়েছে। বাংলাদেশে বীমা খাতের সেই ভ্যালু আমরা এখনো সৃষ্টি করতে পারিনি। আমি চাই বাংলাদেশেও বীমা অগ্রাধিকারের শীর্ষে থাকবে। সেই লক্ষ্য নিয়েই আমি কাজ করে যেতে চাই।
তিনি বলেন, বিআইএ’র নেতৃত্ব আসলে বীমা শিল্পের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো সমাধানে আন্তরিকভাবে কাজ করব। যাতে উন্নত দেশের মতো বাংলাদেশেও জিডিপিতে বীমার অবদান বৃদ্ধি পায়।
Posted ০৮:৩৭ অপরাহ্ণ | রবিবার, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com
✎ মন্তব্য করুন