|

Advertisement
×

বীমাশিল্পের দুয়ারে কড়া নাড়ছে বিশাল সম্ভাবনা

রবিবার, ০৬ মার্চ ২০২২   প্রিন্ট   ৩৬২ বার পঠিত

বীমাশিল্পের দুয়ারে কড়া নাড়ছে বিশাল সম্ভাবনা

আর্থিকখাতে ব্যাংকের পর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হলো বীমা। ব্যাংকের বিকাশ উন্নত পর্যায়ে। বীমা এখনো অবিকশিত। কিন্তু দেশ দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। বেড়েইে চলছে মাথাপিছু আয়। আসছে নতুন নতুন বীমা পণ্য। তৈরি হচ্ছে নানা নীতি-সহায়তা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জায়গা নিয়েছে বীমাশিক্ষা কার্যক্রম। উত্তরোত্তর গৃহীত এ সকল পদক্ষেপে একদিন বীমাখাতই আর্থিকখাতের ভবিষ্যৎ হবে বলে মন্তব্য করেছেন বীমাসংশ্লিষ্টরা।

পর্যবেক্ষকদের মতে, দিন দিন বাড়ছে বীমার চাহিদা। বড় হচ্ছে বিনিয়োগ লাইফ ফান্ড প্রিমিয়াম ও সম্পদের আকার। লম্বা হচ্ছে বীমা কোম্পানির তালিকা। জায়গা করে নিচ্ছে বিদেশি বীমা কোম্পানি। পাইপলাইনে আছে কয়েকটি। জমা হচ্ছে নতুন নতুন আবেদনপত্র। সব মিলিয়ে বীমাশিল্পের দুয়ারে বিশাল সম্ভাবনা কড়া নাড়ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার পরও বীমাশিল্পের এগিয়ে যাওয়ার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রধান কারণ, অর্থনৈতিক অগ্রগতি। অথচ এখন প্রতি হাজারে মাত্র চারজনের জীবনবীমা আছে। কৃষিবীমা, দুর্যোগবীমা নেই। অনেক সুউচ্চ ভবন, বড় প্রকল্প এখনো বীমার বাইরে, যদিও উন্নত দেশে বীমার বিস্তারে এসব খাতের বীমা বড় ভূমিকা রাখছে। শিক্ষা ও প্রবাসীদের বীমা নিশ্চিত করেও এ খাতের সম্প্রসারণ সম্ভব। আরেকটি বড় সম্ভাবনা হচ্ছে স্বাস্থ্যবীমা। মোবাইলে ১০০ টাকা ফ্লেক্সি করলে ১০ টাকা যদি প্রিমিয়াম আকারে কেটে নেয়ার ব্যবস্থা চালু করা হয়, তাতে সমাজের বড় একটা অংশকে স্বাস্থ্যবীমার আওতায় আনা সম্ভব।
এ জন্য সরকারি ও বেসরকারি বীমা কোম্পানিগুলোকে স্বাস্থ্যবীমার প্রতি উদ্বুদ্ধ করতে হবে। এক্ষেত্রে সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন। তৃতীয় পক্ষের যে মোটরবীমা ২০১৮ সালে বাতিল করে দেয়া হয়েছে, তা আবার চালু করেও সংগ্রহ করা সম্ভব বছরে অন্তত তিন হাজার কোটি টাকা। পাশাপাশি সরকার পৃথিবীর অন্য দেশের মতো আমাদের দেশেও ব্রোকার পদ্ধতি চালু করতে পারে। এই পদ্ধতি বাস্তবায়ন বীমার আকার বৃদ্ধির সহায়ক।

বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা সূত্র জানায়, এবার প্রতিষ্ঠানটি ব্যাংক ইন্স্যুরেন্স বাস্তবায়নে নজর দিচ্ছে। এটা হয়ে গেলে আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে সমাজের বড় একটা অংশ বীমার আওতায় চলে আসবে। ব্যাংকে প্রায় ১০ কোটি হিসাবধারী রয়েছেন। তাদের অর্ধেককেও যদি বীমার আওতায় আনা যায়, তাহলে প্রিমিয়াম আয় কয়েকগুণ বেড়ে যাবে। ব্যাংক ইন্স্যুরেন্স হলে পলিসি বাতিল হওয়ার আশঙ্কাও কমবে। আর অনলাইনের মাধ্যমে বীমা পণ্য বিক্রির আয়োজন করা প্রতিষ্ঠানটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। ঘরে বসে তখন প্রিমিয়ামের টাকা দেয়া যাবে, সব হিসাবও দেখা যাবে। তৃতীয়ত করপোরেট এজেন্ট এবং চতুর্থত ব্রোকার পদ্ধতি চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে আইডিআরএ। এ কয়েকটি কাজ হয়ে গেলেই বীমা আরো বড় আকারে দৃশ্যমান হবে।
বীমা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যাংক যা করার করে ফেলছে কিন্তু বীমার জন্য বিশাল একটি ক্ষেত্র পড়ে আছে। সুইজারল্যান্ডে জনপ্রতি ২০টারও বেশি বীমা আছে। অথচ এদেশে ১০ শতাংশ লোকও বীমার আওতায় আসেনি। এ কারণে ব্যাংকের চেয়ে এ সময়ে বীমার জন্য কাজ করার সুযোগ অপেক্ষা করছে। ব্যাংকে টাকা থাকলে তা সব সময় বিনিয়োগে যাওয়ার সুযোগ নেই। কারণ আমানতকারী যে কোনো সময় তার টাকা তুলে নিতে পারে। কিন্তু বীমা কোম্পানি থেকে যখন-তখন টাকা তুলে নেয়ার সুযোগ নেই। এ কারণে বীমা দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগে যেতে সক্ষম। এভাবে বীমার মাধ্যমে একটি বড় পুঁজি গঠনের সুযোগ আছে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে এ খাতকে সমৃদ্ধকরণসহ সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব।

ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন বলেন, বিশাল জনগোষ্ঠীর বাংলাদেশে বীমার জন্য ব্যাপক পরিসরে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। এক বিরাট সম্ভাবনা এ খাতের জন্য অপেক্ষা করছে। আমাদের কোম্পানিও বিভিন্ন সূচকে এগিয়ে যাচ্ছে। ২০১৭ সালে আমাদের কোম্পানির লাইফ ফান্ড ছিল ঋণাত্মক। ২০১৮ সালে এই ঋণাত্মক অবস্থার উত্তরণ ঘটে। ২০১৯ সাল থেকে লাইফ ফান্ড দ্রুত গতিতে বেড়ে বর্তমানে ১২ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।

বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএ) সভাপতি শেখ কবির হোসেন বলেন, বীমাখাতকে এগিয়ে নিতে যথাযথ নীতি পদক্ষেপের অভাবটাই বড় সংকট। পুরো খাতটি অবিকশিত অবস্থায় পড়ে আছে। সরকারের সুদৃষ্টি থাকলে আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যেই বীমা খাত তার সক্ষমতা দেখাতে পারবে।

জানা গেছে, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ছিল ১ হাজার ৪৬৫ ডলার। মাত্র ৬ বছরের ব্যবধানে মাথা পিছু আয় ১ হাজার ১২৬ ডলার বেড়ে ২০২১-২০২২ অর্থবছরে ২৫৯১ ডলারে উন্নীত হয়। সাধারণ বীমাখাতে ৯ বছরে গ্রোস প্রিমিয়ামের প্রবৃদ্ধি ২৫৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ। ২০০৯ সালে সাধারণ বীমাখাতে গ্রোস প্রিমিয়াম ছিল ১৩ হাজার ৯০০ দশমিক ৭১ মিলিয়ন টাকা। ২০১৯ সালে এই প্রিমিয়াম ছিল ৪৭ হাজার ১১৫ দশমিক ৭০ মিলিয়ন টাকা। প্রিমিয়াম আয়ে জীবন বীমার ক্ষেত্রেও উল্লম্ফন। ২০০৯ সালে জীবন বীমা কোম্পানিগুলোর ১ম বর্ষ প্রিমিয়াম আয় ছিল ১৭ হাজার ১৭৪ দশমিক ৫৪ মিলিয়ন টাকা। ২০১৯ সালে এই প্রিমিয়ামের পরিমাণ ২৭ হাজার ৪৭ দশমিক ২৫ মিলিয়ন টাকা। জীবন বীমা কোম্পানিগুলোর লাইফ ফান্ডও ফুলে-ফেঁপে উঠেছে। ২০০৯ সালে জীবন বীমা কোম্পানিগুলোর লাইফ ফান্ড ছিল ১ লাখ ১৬ হাজার ৩৫১ দশমিক ৬৮ মিলিয়ন টাকা। ২০১৯ সালে লাইফ ফান্ড প্রায় ৩গুণ বেড়ে ৩ লাখ ৩৮ হাজার ৮৮০ দশমিক শূন্য ১ মিলিয়ন টাকায় পৌঁছে। আকর্ষণীয়ভাবে বেড়েছে নন-লাইফ বীমা কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ। ২০০৯ সালে সাধারণ বীমা কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ ছিল ১৭ হাজার ৭৯৯ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন টাকা। ২০২০ সালে বিনিয়োগ প্রায় ৪গুণ বেড়ে ৬৫ হাজার ৯৭ দশমিক ২২ মিলিয়ন টাকায় অবস্থান করে। বীমা কোম্পানিগুলোর সম্পদের প্রবল স্ফীতি। ২০১০ সালে বীমা কোম্পানিগুলোর সম্পদ ছিল ২ লাখ ১২ হাজার ৫৩ দশমিক শূন্য ২ মিলিয়ন টাকা। ২০২০ সালে সম্পদ বেড়ে ৫ লাখ ৭২ হাজার ৮২০ দশমিক ৬০ মিলিয়ন টাকায় দাঁড়ায়।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, দেশে বীমার চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে আমাদের বীমাখাতে মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬০ হাজার কোটি টাকা। তবে এ খাতে আমাদের আরো অনেক কাজ করার সুযোগ রয়েছে।

Facebook Comments Box
✎ মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Posted ০২:০৩ অপরাহ্ণ | রবিবার, ০৬ মার্চ ২০২২

bankbimaarthonity.com |

সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: bankbima1@gmail.com