অনলাইন ডেস্ক
বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫ প্রিন্ট ৩৮৮ বার পঠিত
দেশে অ্যাকচ্যুয়ারির সংকট থাকলেও যথাযথ মূল্যায়ন ও চাকুরির সুবিধা না দেয়ায় তারা দেশ ছাড়েন বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট অ্যাকচ্যুয়ারি ড. মোহাম্মদ সোহরাব উদ্দীন।
তিনি বলেন, “এর আগেও দেশে অ্যাকচ্যুয়ারি তৈরির কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। অনেকে আমার সঙ্গে কাজও করেছে। কিন্ত তাদের যথাযথ মূল্যায়ন ও চাকুরির সুবিধা না দেওয়ায় তারা দেশের বাইরে চলে গেছেন।”
বুধবার (২৯ অক্টোবর) ‘বীমা শিল্পে তরুণদের কর্মসংস্থান: অ্যাকচ্যুয়ারি পেশার বিকাশ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে মুখ্য আলোচকের বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এই সেমিনারের আয়োজন করে। ‘ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ’ (আইডিইবি) মিলনায়তনে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। তবে সেমিনার হলেও অংশীজনদের কাছে পাঠানো এ সংক্রান্ত চিঠির একাংশে এটিকে কর্মশালা হিসেবে উল্লেখ করেছে আইডিআরএ। একই চিঠির আরেক অংশে এটিকে সেমিনার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে এটি সেমিনার না কর্মশালা তা নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। এদিকে এই সেমিনারের সংবাদ সংগ্রহের জন্য নিয়মিত বীমা খাতের সংবাদ পরিবেশনকারী সাংবাদিকদের উপেক্ষা করা হয়েছে; কোনো আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আইডিআরএ’র পরামর্শক (মিডিয়া এবং যোগাযোগ) সাইফুন্নাহার সুমি বলেন, আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়ে কর্তৃপক্ষের অনুমোদন মেলেনি।
সেমিনারে আইডিআরএর চেয়ারম্যান ড. এম. আসলাম আলম জানান, বীমা খাতে অ্যাকচ্যুয়ারি সংকট নিরসন এবং দক্ষ জনবল তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে আইডিআরএ। এ লক্ষ্যে গঠন করা হবে অ্যাকচ্যুরিয়াল ইনস্টিটিউট, অ্যাকচ্যুরিয়াল বোর্ড অব স্ট্যান্ডার্ড সেটিং এবং অ্যাকচ্যুরিয়াল কাউন্সিল। এ সংক্রান্ত ‘অ্যাকচ্যুয়ারিয়াল অর্ডিন্যান্স ২০২৫’-এর খসড়া ইতোমধ্যে তৈরি করে মতামত নেওয়া হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ (এফআইডি) অনুমোদন দিলে নতুন এই কাঠামোর আওতায় তিনটি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করবে।
আইডিআরএ চেয়ারম্যান বলেন, “বীমা খাতে টেকসই উন্নয়নের জন্য অ্যাকচ্যুয়ারিয়াল পেশাজীবীদের কোনো বিকল্প নেই। এ পেশা শুধু বীমা খাত নয়, পুরো আর্থিক খাতের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাকে শক্ত ভিত্তি দেয়।”
অ্যাকচ্যুয়ারি পেশা হলো এমন একটি বিশেষায়িত ক্ষেত্র যেখানে গণিত, পরিসংখ্যান ও অর্থনীতির মডেল ব্যবহার করে ভবিষ্যতের আর্থিক ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা পরিমাপ করা হয়। এটি মূলত বীমা শিল্প, পেনশন তহবিল ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্ভাব্যতার বিশ্লেষণের মাধ্যমে অ্যাকচ্যুয়ারিরা ভবিষ্যতের ঘটনাজনিত ঝুঁকি গাণিতিকভাবে নির্ধারণ করেন, যা নতুন বীমা পণ্য ডিজাইন, প্রিমিয়াম নির্ধারণ এবং দাবি নিষ্পত্তিতে বৈজ্ঞানিক ভিত্তি দেয়। উন্নত বিশ্বে অ্যাকচ্যুরিয়াল ডিগ্রিকে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও উচ্চআয়সম্পন্ন পেশা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে আইডিআরএর সদস্য (প্রশাসন) মো. ফজলুল হক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট সাঈদ আহমেদ, ইন্স্যুরেন্স ফোরামের প্রেসিডেন্ট বি. এম. ইউসুফ আলী, এশিয়া ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী মো. ইমাম শাহীন, অ্যাকচ্যুয়ারি আফরিন হক।
সেমিনারে বক্তারা জানান, বর্তমানে পুরো বীমা সেক্টরে মাত্র চার থেকে পাঁচজন অ্যাকচ্যুয়ারি কাজ করছেন। এর মধ্যে মাত্র দুইজন দেশে অবস্থান করছেন, বাকিরা বিদেশে থেকে কাজ করছেন।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে ড. মোহাম্মদ সোহরাব উদ্দীন বলেন, “একচ্যুয়ারি ছাড়া বীমা শিল্প চলতে পারে না। অথচ বর্তমানে কোম্পানিগুলো ক্লেইম ও প্রিমিয়ামের তথ্যের ওপর নির্ভর করে নিজেরাই অনুমাননির্ভর পণ্য তৈরি করছে । তিনি বলেন, “এর আগেও দেশে একচ্যুয়ারি তৈরির কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।অনেকে আমার সঙ্গে কাজও করেছে। কিন্ত তাদের যথাযথ মূল্যায়ন ও চাকুরির সুবিধা না দেওয়ায় তারা দেশের বাইরে চলে গেছেন।”
আইডিআরএর বর্তমান উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, “সব বীমা কোম্পানি যদি আন্তরিকভাবে আইডিআরএকে সহযোগিতা করে, তাহলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে দেশে নতুন অনেক অ্যাকচ্যুয়ারি তৈরি করা সম্ভব হবে।”
দেশে কর্মরত একমাত্র তরুণ অ্যাকচুয়ারি আফরিন হক বলেন, স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে অ্যাকচুয়ারি বিষয়ে সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া উচিত। বাবা-মায়েরা শুধু ডাক্তার ও ইঞ্জিনিয়ার পেশার প্রতিই গুরুত্ব দেন, ফলে অ্যাকচুয়ারি পেশা সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি হয়নি।
বর্তমান বীমা আইন ২০১০ অনুযায়ী, জীবনবীমা খাতে অ্যাকচ্যুয়ারির নিয়োগ বাধ্যতামূলক হলেও সাধারণ বীমা খাতে তা নয়। এ বিষয়ে ড. সোহরাব উদ্দীন বলেন, “নন-লাইফ খাতেও অ্যাকচ্যুয়ারি বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন, কারণ এটি বিজ্ঞানভিত্তিক পণ্য ও প্রিমিয়াম নির্ধারণের জন্য অপরিহার্য।”
আইডিআরএর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব উদ্যোগে তিনজন অ্যাকচুয়ারি ট্রেইনি অফিসার তৈরির একটি কর্মসূচি হাতে নিয়েছে, যা পরবর্তীতে তাদেরকে অ্যাকচুয়ারি হতে সহায়তা করবে।
Posted ০৯:০৫ অপরাহ্ণ | বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com
✎ মন্তব্য করুন