|

Advertisement
×
রমজান ও নির্বাচনকে ঘিরে অর্থের প্রবাহ বাড়ছে, যা বাজারকে প্রভাবিত করছে

রোজায় মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা

সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬   প্রিন্ট   ৪৪৯ বার পঠিত

রোজায় মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা

একদিকে রমজান উপলক্ষে প্রবাসীরা দেশে বাড়তি রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন, অপরদিকে নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে প্রার্থীদের আর্থিক খরচের পালা শুরু হয়েছে। এই দুই মিলে বাজারে অর্থের প্রবাহ বাড়ছে। কিন্তু এসব অর্থের বড় অংশই খরচ হচ্ছে অনুৎপাদনশীল খাতে। ফলে রমজানে মূল্যস্ফীতির হার আরও বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচন এবং এর কিছুদিন পরেই রমজান শুরু ১৯ ফেব্রুয়ারি (চাঁদ দেখা সাপেক্ষে)।

এবার নির্বাচন কমিশন প্রচারে আচরণবিধি কঠোর করেছে। এর মধ্যে প্রার্থীদের পোস্টার ছাপানো নিষিদ্ধ করা অন্যতম। ইসির নির্ধারিত আকারের চেয়ে বড় একাধিক রঙের ব্যানার, লিফলেট, হ্যান্ডবিল ছাপানো যাবে না। বিলাসবহুল গেট, তোরণ নির্মাণ এবং পরিবহণ ভাড়া করে শোভাযাত্রা করা যাবে না। তারপরও নির্বাচনকেন্দ্রিক তৎপরতা সারা দেশে সম্প্রসারিত হওয়ায় সরকার ও প্রার্থীর সমর্থকদের ব্যয় বাড়বে। এর প্রভাবে বাড়বে বাণিজ্যিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড। বৃদ্ধি পাবে অর্থনৈতিক লেনদেন। নির্বাচন ঘিরে অর্থনৈতিক এই চাঙাভাব বিভিন্ন খাতকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করবে যা শুরু হয়েছে।

চলতি অর্থবছর বাজেটে নির্বাচন কমিশনের জন্য ২ হাজার ৯৫৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যা গত অর্থবছরের চেয়ে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা বেশি। বরাদ্দ অর্থের মধ্যে ২ হাজার ৭২৭ কোটি টাকা পরিচালন ব্যয় ও ২২৯ কোটি টাকা উন্নয়ন ব্যয় বাবদ। নির্বাচনি কাজে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার বেশি খরচ করার সুযোগ রয়েছে। তবে একই সঙ্গে গণভোটেরও আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রায় ২০ শতাংশ খরচ বাড়তে পারে। এ হিসাবে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা খরচ বাড়তে পারে। পুরো অর্থই নির্বাচনের পেছনে খরচ হবে। এ হিসাবে সরকারের খরচ হবে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা। ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে খরচ হয়েছিল ৪ হাজার কোটি টাকা। তবে ওই নির্বাচনে অনেক আসনে ইভিএম ব্যবহার করা হয়েছিল। এবার তা হচ্ছে না।

নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু না হলেও ইতোমধ্যেই প্রার্থীদের প্রচার শুরু হয়ে গেছে দেশব্যাপী। পোস্টার, ব্যানারে ছেয়ে গেছে সারা দেশ। তোরণেরও কমতি নেই। রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও এসব খাতে খরচ করছেন। এছাড়া ডিজিটাল প্রচারণাও চলছে জোরেশোরে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রচারে কমতি নেই প্রার্থীদের। এসব খাতে প্রার্থী বা তার ঘনিষ্ঠজনরা বেশ অর্থ খরচ করছেন। ডিজিটাল প্রচারণা চালাতে কন্টেন্ট তৈরিতে ব্যস্ত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের কর্মীরা। এতে একদিকে যেমন খণ্ডকালীন কর্মসংস্থান হচ্ছে, তেমনি এসব অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতগুলো চাঙা হচ্ছে। এসব খাতে খরচ করা অর্থের একটি অংশ চলে যাচ্ছে প্রাতিষ্ঠনিক খাতে। যা দেশের শিল্প ও ব্যবসাবাণিজ্যকে প্রভাবিত করছে।

২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা। এরপর থেকে নির্বাচনের দিন পর্যন্ত খরচ আরও বাড়বে। অর্থনীতিও চাঙা হবে। এবারের নির্বাচনি প্রচারে প্রার্থীরা ভোটারপ্রতি সর্বোচ্চ ১০ টাকা বা সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা এর মধ্যে যেটি বেশি সেই পরিমাণ অর্থ খরচ করতে পারবেন। যেসব আসনে ভোটার আড়াই লাখের মধ্যে ওইসব আসনের প্রার্থীরা সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা খরচ করতে পারবেন। এর বেশি ভোটার হলে ভোটারপ্রতি ১০ টাকা হারে খরচ করতে পারবেন। কোনো আসনের ভোটার ৪ লাখ হলে তিনি ৪০ লাখ টাকা খরচ করতে পারবেন। এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার প্রায় ১৩ কোটি (১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩ জন)। ভোটারপ্রতি সর্বোচ্চ ১০ টাকা হিসাবে ১৩ কোটি ভোটারের জন্য ৩০০ প্রার্থীর মোট ব্যয় হবে ১৩০ কোটি টাকা। এ হিসাবে ৩০০ আসনের একজন করে প্রার্থীর খরচ হবে ৪৩ লাখ ৩৩ হাজার টাকা। নির্বাচনে মোট প্রার্থী ২ হাজার ৫০০ জন হলে মোট খরচ হবে ১ হাজার ৮৩ কোটি টাকা। এটি শুধুই কাগজ-কলমের হিসাব। বাস্তবে খরচ হবে আরও কয়েকগুণ বেশি। এর বড় অংশই খরচ হবে কালোটাকা থেকে। কারণ দেশের মোট জিডিপির সর্বোচ্চ ৩৮ শতাংশ রয়েছে কালোটাকা। এ হিসাবে কালোটাকার পরিমাণ প্রায় ১২ লাখ কোটি টাকা।

এদিকে জানুয়ারির প্রথম ১১ দিনে দেশে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ ১৩৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার। যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮১ শতাংশ বেশি। ফলে চলতি মাসে রেমিট্যান্সে নতুন রেকর্ড হবে বলে আশা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এছাড়া ডিসেম্বরে রেমিট্যান্স এসেছে ৩০০ কোটি ডলারের বেশি। এসব অর্থের একটি অংশ প্রার্থীদের নির্বাচনি কাজে খরচ হচ্ছে।

নির্বাচনি খরচের কারণে বাজারে টাকার প্রবাহ বেড়ে যাচ্ছে। রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ায় ব্যাংকগুলো থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক রেমিট্যান্স কিনছে। জানুয়ারির ১২ দিনে কিনেছে ৭০ কোটি ডলার। এর বিপরীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বাজারে ছাড়া হয়েছে ৮ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা। এছাড়া দৈনন্দিন লেনদেনের চাহিদা মেটাতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোও কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে টাকা তুলছে। গ্রাহকরাও ব্যাংক থেকে নগদ টাকা তুলে নিচ্ছেন। নির্বাচনের কারণে বাজারে টাকার প্রবাহ বাড়ার কারণে মূল্যস্ফীতির হার বাড়ছে। আগামীতে এ হার আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মূল্যস্ফীতি অক্টোবরে ৮ দশমিক ১৭ শতাংশে নেমে এসেছিল। নভেম্বরে আবার তা বেড়ে ৮ দশমিক ২৯ শতাংশে উঠে। ডিসেম্বরে আরও বেড়ে ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ হয়েছে। নির্বাচনের কারণে জানুয়ারিতে এ হার আরও বাড়তে পারে। ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন ও রোজার কারণেও বাড়তে পারে।

 

Facebook Comments Box

Posted ০২:১৭ অপরাহ্ণ | সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

bankbimaarthonity.com |

সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: bankbima1@gmail.com