অনলাইন ডেস্ক
রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬ প্রিন্ট ১০ বার পঠিত
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩০৯ জন। নিহতদের মধ্যে দুইজন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। হামলার পর সৌদি আরবের অন্যতম প্রধান এই বিমানবন্দরের সব ধরনের ফ্লাইট চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিক, দুইজন বাংলাদেশি এবং যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান ও মিসরের একজন করে নাগরিক রয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে স্থানীয় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিমানবন্দরের একটি যাত্রী টার্মিনালের ৪০১ নম্বর গেটে সরাসরি আঘাত হানে হামলাটি। এতে টার্মিনালে থাকা যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণ বাঁচাতে অনেকে ছোটাছুটি শুরু করেন। খবর পেয়ে এক ডজনেরও বেশি অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে। একই সঙ্গে বিমানবন্দরের অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ শুরু করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ফ্লাইট ট্র্যাকিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, হামলার পর বিমানবন্দরে আসা ও ছেড়ে যাওয়ার সব ফ্লাইট অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয় অথবা বাতিল করা হয়। নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় কুয়েত এয়ারওয়েজসহ কয়েকটি আঞ্চলিক বিমান সংস্থাও তাদের ফ্লাইট বাতিল করেছে।
বেসামরিক যাত্রী টার্মিনালে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি। তিনি এ ঘটনাকে ‘পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করে পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি নিশ্চিত করেছেন, এ ঘটনায় একজন মার্কিন নাগরিক নিহত হয়েছেন।
এদিকে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তরসহ বিভিন্ন পশ্চিমা দেশের দূতাবাস নিজ নিজ নাগরিকদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বিমানবন্দর এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে।
রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার আগে সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে লক্ষ্য করে আরও কয়েকটি হামলার ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে দুটি বিমানবন্দরে হামলায় তিনজন সৌদি নাগরিক নিহত হন, যাঁদের মধ্যে একজন পাইলট ছিলেন। গত ৬ ও ৭ অক্টোবর হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় সৌদি আরবের দুটি বিমানবন্দরে আরও তিনজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।
এ ছাড়া পূর্ব সৌদি আরবের দাম্মামে অবস্থিত কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছেও একটি প্রজেক্টাইল বা ক্ষেপণাস্ত্রজাতীয় বস্তু পতিত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
এসব হামলার বৃহত্তর ধারাবাহিকতার দায় স্বীকার করেছে ইরান-সমর্থিত হুথি আন্দোলন। তাদের দাবি, ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীকে সৌদি আরবের সামরিক সহায়তা, দীর্ঘদিনের অবরোধ এবং এর আগে হুথি-নিয়ন্ত্রিত সানার বিমানবন্দরে চালানো বিমান হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই এসব হামলা চালানো হচ্ছে।
ইয়েমেন সংঘাত ঘিরে ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি গত জুলাইয়ে দুর্বল হতে শুরু করে। ওই সময় হুথিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ‘সামুদ্রিক অবরোধ’ ঘোষণার পর পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে।
পরবর্তী সময়ে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে বিমানবন্দর, তেল স্থাপনা এবং লোহিত সাগরে চলাচলকারী তেলবাহী ট্যাংকারকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় গোষ্ঠীটি।
একই সময়ে ইয়েমেনে স্থল ও সমুদ্রপথে সংঘাতও তীব্র হয়েছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালি ঘিরে সামরিক তৎপরতা বেড়েছে। অন্যদিকে, হুথি নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল পুনর্দখলের লক্ষ্যে ইয়েমেনের সরকারও সর্বাত্মক যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছে।
রিয়াদের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী এই হামলা সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে নিহতদের মধ্যে দুই বাংলাদেশি থাকায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে বিমানবন্দরে হামলার পরবর্তী পরিস্থিতি এবং ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়ে আরও তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে।
Posted ১০:৩৫ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
bankbimaarthonity.com | Animator Alif
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com