|

Advertisement
×

১৭ বছর পর ট্রেজারি বন্ড পুনঃক্রয় শুরু সরকারের

শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬   প্রিন্ট   ৩৭ বার পঠিত

১৭ বছর পর ট্রেজারি বন্ড পুনঃক্রয় শুরু সরকারের

ঋণ পরিশোধের চাপ ও পুনঃঅর্থায়ন ঝুঁকি কমাতে ১ হাজার ৭১৬ কোটি টাকার বন্ড কিনল সরকার

দীর্ঘ ১৭ বছর পর আবারও ট্রেজারি বন্ড পুনঃক্রয় শুরু করেছে সরকার। সরকারি ঋণ ব্যবস্থাপনায় নমনীয়তা বাড়ানো, ঋণ পরিশোধের সময় চাপ কমানো এবং পুনঃঅর্থায়ন ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের আয়োজিত নিলামে মেয়াদপূর্তির আগেই ১ হাজার ৭১৬ কোটি টাকার ট্রেজারি বন্ড পুনঃক্রয় করেছে সরকার। রাষ্ট্রায়ত্ত বিভিন্ন ব্যাংকের হাতে থাকা এসব বন্ড কেনা হয়।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ উদ্যোগকে সরকারি ঋণ ব্যবস্থাপনায় একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে সরকারি সিকিউরিটিজ পুনঃক্রয়কে লায়াবিলিটি ম্যানেজমেন্ট অপারেশনস (এলএমও) বলা হয়। এর মাধ্যমে সরকারের ঋণ পরিশোধের সময়সূচি আরও সুশৃঙ্খল করা, মেয়াদপূর্তির সময় একসঙ্গে বড় অঙ্কের অর্থ পরিশোধের চাপ কমানো এবং পুনঃঅর্থায়ন ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

যে বন্ড পুনঃক্রয় করা হয়েছে

বাংলাদেশ ব্যাংকের সোমবার জারি করা সার্কুলার অনুযায়ী, নিলামে ৬ হাজার ৬৬৬ কোটি টাকার একটি দুই বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ড অন্তর্ভুক্ত ছিল। বন্ডটি ২০২৪ সালের ৬ নভেম্বর ইস্যু করা হয় এবং এর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৬ সালের ৬ নভেম্বর।

বন্ডটির বার্ষিক কুপন সুদের হার ১২ দশমিক ৩০ শতাংশ। নিলামে বন্ডটির মোট বকেয়া পরিমাণ ছিল প্রায় ৬ হাজার ৬৬৬ কোটি টাকা। এর বিপরীতে সরকার ১ হাজার ৭১৬ কোটি টাকার বন্ড পুনঃক্রয় করেছে।

নিলামটি পরিচালিত হয় ‘মাল্টিপল প্রাইস বেসড রিভার্স অকশন’ পদ্ধতিতে। এর নিষ্পত্তির তারিখ নির্ধারণ করা হয় ১২ অক্টোবর ২০২৬।

ঋণ ব্যবস্থাপনায় নতুন কৌশল

অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতে, ট্রেজারি বন্ড পুনঃক্রয়ের মাধ্যমে সরকারের ঋণ পরিশোধের সময়সূচি আরও ভারসাম্যপূর্ণ করা যাবে। একই সঙ্গে মেয়াদপূর্তিতে ঋণ পরিশোধের চাপ কমানো এবং নতুন ঋণ নিয়ে পুরোনো ঋণ পরিশোধের প্রয়োজনীয়তা থেকে সৃষ্ট ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে এ উদ্যোগ।

সরকারের মধ্যমেয়াদি ঋণ ব্যবস্থাপনা কৌশল বা মিডিয়াম-টার্ম ডেট ম্যানেজমেন্ট স্ট্র্যাটেজির (এমটিডিএস) সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ঋণ ব্যবস্থাপনাকে আরও সক্রিয় ও বাজারভিত্তিক করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাজার পরিস্থিতি, সরকারের নগদ অর্থের অবস্থান এবং ঋণ ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন বিবেচনায় ভবিষ্যতেও এ ধরনের পুনঃক্রয় কার্যক্রম পরিচালনা করা হতে পারে।

নিলামে অংশগ্রহণের নিয়ম

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, প্রাইমারি ডিলার (পিডি) ব্যাংকগুলো সরাসরি নিলামে অংশ নিতে পারে। অন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পিডি ব্যাংকের মাধ্যমে দরপত্র জমা দিতে পারে। নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী বাংলাদেশ ব্যাংকে চলতি হিসাব থাকা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানও এ ব্যবস্থায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের দৃষ্টিতে, সরকারি বন্ড পুনঃক্রয় ঋণের পরিমাণ কমানোর পাশাপাশি ঋণ পরিশোধের সময়সূচি পুনর্বিন্যাসের একটি হাতিয়ার। তবে এর সামগ্রিক সুফল নির্ভর করবে পুনঃক্রয়ের মূল্য, সরকারের নগদ অর্থের চাহিদা, ভবিষ্যৎ ঋণ গ্রহণের ব্যয় এবং বাজারের প্রতিক্রিয়ার ওপর।

Facebook Comments Box

Posted ০৫:৫০ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬

bankbimaarthonity.com |

সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: bankbima1@gmail.com