কামারুন-নাহার-মুকুল
রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬ প্রিন্ট ৩১ বার পঠিত
স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে যারা বীমাক্ষেত্রে অবদান রেখেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম একজন এম মঈদুল ইসলাম। আজ ১১ অক্টোবর তার মৃত্যুবার্ষিকী
এম মঈদুল ইসলাম ছিলেন পাকিস্তান ইন্স্যুরেন্সের প্রথম বাঙালি মুখ্য নির্বাহী। তিনি ছিলেন একজন শিক্ষক, বীমাবিদ, সাংবাদিক ও সফল উদ্যোক্তা। কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ইংরেজিতে সম্মানসহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করে অবিভক্ত বাংলায় ইংরেজি প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। প্রথম বাঙালি হিসেবে তিনি পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমিতে ইংরেজি বিভাগের প্রধান ছিলেন। ১৯৫৮ সালে ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজে প্রথম প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬২ সালে তিনি বীমা জগতে প্রবেশ করেন এবং পরবর্তীতে পাকিস্তান ইন্স্যুরেন্স করপোরেশনের মুখ্য নির্বাহীর পদ অলংকৃত করেন। এ পদেও তিনি ছিলেন একজন প্রথম বাঙালি। বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের অধিকারী ছিলেন তিনি। কর্মজীবনে তিনি বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিচরণ করেছেন এবং প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। তিনি যখন যে পেশা গ্রহণ করেছেন সে পেশায় একজন দক্ষ ব্যক্তি ও সুযোগ্য নেতা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে সহায়তা করার অভিযোগে পাকিস্তান সরকার তাঁকে ১৯৭১ সালে গ্রেফতার করে করাচির কেন্দ্রীয় করাগারে বন্দী করেন। ১৯৭৩ সালে মুক্তির পর তিনি দেশে ফিরে আসেন এবং জীবন বীমা করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে অধিষ্ঠিত হন।
তিনি বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন। ১৯৭৭-১৯৮২ সাল পর্যন্ত তিনি পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং এ সময়কালে তিনি ক্লাব ও সকল সামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে নিজেকে বিরত রাখেন, যাতে তিনি কারো দ্বারা প্রভাবিত না হন। এরপর তিনি অন্য পেশায় নিজেকে নিয়োজিত করেন। ১৯৮৩-৮৮ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ টাইম্স ট্রাস্টের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় তিনি প্রচুর লেখালেখি করেছেন, যা নিয়মিত বিভিন্ন ইংরেজি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। তিনি বাংলাদেশ ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমৃত্যু দায়িত্ব পালন করেন। তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের কপিরাইট বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স একাডেমির এডিটোরিয়াল বোর্ডেরও চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বিভিন্ন সময়ে বৈদেশিক সম্মেলনে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তিনি সমসাময়িক বীমাব্যক্তিত্বদের মধ্যে ছিলেন অন্যতম। বীমাশিল্পের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার জন্য সর্বদা চেষ্টা করেছেন। বীমা জগতের এই নক্ষত্র ২০১৪ সালের ১১ অক্টোবর না ফেরার দেশে পাড়ি জমান।
ইকনোমিক মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশন ২০১৯ সালের ১১ মার্চ এই বীমা ব্যক্তিত্বকে গুণীজন সম্মাননা (মরণোত্তর) প্রদান করে।
Posted ১২:০২ অপরাহ্ণ | রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com