অনলাইন ডেস্ক
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬ প্রিন্ট ৪৬ বার পঠিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের নতুন বীমা ব্যবসা সাময়িকভাবে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। আগামী ৪ নভেম্বর থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কোম্পানিটি নতুন কোনো লাইফ ইন্স্যুরেন্স পলিসি ইস্যু করতে পারবে না। একই সঙ্গে নতুন পলিসির বিপরীতে প্রথম বর্ষের প্রিমিয়াম সংগ্রহও বন্ধ থাকবে।
গত ২ নভেম্বর জারি করা এক নির্দেশনায় আইডিআরএ জানিয়েছে, কোম্পানিটির আর্থিক সংকট এখনো কাটেনি। বিদ্যমান বীমা দাবির বিপরীতে অর্থের সংস্থান করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার দেওয়া একাধিক নির্দেশনাও প্রত্যাশিত মাত্রায় বাস্তবায়ন করেনি প্রতিষ্ঠানটি। ফলে বিদ্যমান পলিসি গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় নতুন ব্যবসা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আইডিআরএর লাইফ অনুবিভাগের রিপোর্ট, রিটার্ন ও অডিট শাখার পরিচালক দেব প্রসাদ পাল স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, ২০২৫ সালে কোম্পানিটির বীমা দাবির পরিমাণ বেড়ে ১৬২ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। বিদ্যমান ফান্ড দিয়ে এসব দাবি পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে ৫ জুলাই ২০২৬ তারিখের গভর্ন্যান্স রিভিউ সভায় উল্লেখ করা হয়।
ওই সভায় গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় সম্পদ বিক্রি এবং সরকারি ট্রেজারি বন্ড (বিজিটিবি) নগদায়নের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে বীমা দাবি পরিশোধের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। এ ক্ষেত্রে ফার্স্ট ইন, ফার্স্ট আউট (ফিফো) পদ্ধতি অনুসরণের কথা বলা হয়।
নির্দেশনা অনুযায়ী, কোম্পানিটিকে ৫৬ কোটি ৩৩ লাখ টাকার বিজিটিবি নগদায়নের কথা ছিল। কিন্তু কোম্পানির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত নগদায়ন হয়েছে মাত্র ১৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা। অন্যদিকে, ৩০ আগস্টের মধ্যে ২৫ কোটি টাকার বিজিটিবি নগদায়নের যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল, তা নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়িত হয়নি।
আইডিআরএর চিঠিতে আরও বলা হয়, গ্রাহকদের বীমা দাবি পরিশোধের জন্য সম্পদ বিক্রির অনুমোদন চেয়ে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ আবেদন করলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা দ্রুত সেই অনুমোদন দেয়। কিন্তু অনুমোদন পাওয়ার পরও সম্পদ বিক্রি না করায় গ্রাহকদের দাবি পরিশোধে বিলম্ব হয়েছে।
সর্বশেষ ২ নভেম্বরের মধ্যে আরও ১০ কোটি টাকার বিজিটিবি নগদায়ন করে কর্তৃপক্ষকে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোম্পানিটি সেই নির্দেশনা পালন না করে তা থেকে অব্যাহতি চেয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
আইডিআরএর পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপরিশোধিত বীমা দাবি থাকা অবস্থায় নতুন পলিসি বিক্রি ও প্রথম বর্ষের প্রিমিয়াম সংগ্রহ অব্যাহত রাখা সমীচীন নয়। কারণ, নতুন ব্যবসার মাধ্যমে কোম্পানির ভবিষ্যৎ দায় আরও বাড়বে। পাশাপাশি নতুন প্রিমিয়ামের উল্লেখযোগ্য অংশ কমিশন ও ব্যবসা অর্জনসংক্রান্ত ব্যয়ে চলে যেতে পারে। এতে পুরোনো গ্রাহকদের দাবি পরিশোধের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
এ অবস্থায় বীমা আইন, ২০১০-এর ৫০(১)(ঙ) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জনস্বার্থে এবং বিদ্যমান পলিসি গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় নতুন ব্যবসা সাময়িকভাবে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে আইডিআরএ।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বিজিটিবি নগদায়ন বাবদ ১০ কোটি টাকা অথবা সম্পদ বিক্রি থেকে প্রাপ্ত ১৫ কোটি টাকা গ্রাহকদের দাবি পরিশোধের জন্য নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে জমা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত নতুন পলিসি ইস্যু করা যাবে না। তবে নতুন ব্যবসা বন্ধ থাকলেও বিদ্যমান পলিসির দ্বিতীয় ও পরবর্তী বছরের নবায়ন প্রিমিয়াম সংগ্রহ, পলিসির অধীন সব দায়-দায়িত্ব পালন এবং বীমা দাবি পরিশোধ যথারীতি চালু রাখতে হবে।
নির্দেশনা যথাযথভাবে প্রতিপালন না করলে বীমা আইন অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
Posted ০১:৫০ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
bankbimaarthonity.com | Animator Alif
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com
✎ মন্তব্য করুন