|

Advertisement
×

বাংলাদেশের হাতে সময় মাত্র ২০ বছর, ২০৪৫-এর পর কমবে কর্মক্ষম জনসংখ্যা

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬   প্রিন্ট   ১৭ বার পঠিত

বাংলাদেশের হাতে সময় মাত্র ২০ বছর, ২০৪৫-এর পর কমবে কর্মক্ষম জনসংখ্যা

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে জনসংখ্যাগত সুবিধা বড় সম্ভাবনা তৈরি করলেও তা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। দেশে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা ও অনুপাত বাড়লেও পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান, দক্ষতার ঘাটতি এবং নারীদের শ্রমবাজারে সীমিত অংশগ্রহণের কারণে এ সম্ভাবনা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৪৫ সালে বাংলাদেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর অনুপাত সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে। এরপর তা কমতে শুরু করবে। ফলে জনসংখ্যাগত সুবিধা কাজে লাগানোর জন্য বাংলাদেশের হাতে রয়েছে প্রায় দুই দশক।

বিশ্বব্যাংকের ‘ডেমোগ্রাফিক চেঞ্জ ইন সাউথ এশিয়া: ফ্রম টেইলউইন্ডস টু হেডউইন্ডস ফর ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। এতে দক্ষিণ এশিয়ার জনসংখ্যাগত পরিবর্তন, কর্মসংস্থানের চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যতে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৫১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ প্রবীণ জনসংখ্যাপ্রধান দেশে পরিণত হবে। অর্থাৎ কর্মক্ষম মানুষের অনুপাত কমার পাশাপাশি বাড়তে থাকবে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় এখন থেকেই উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা জরুরি।

বাংলাদেশের শ্রমবাজারের অন্যতম বড় দুর্বলতা অনানুষ্ঠানিক কর্মসংস্থান। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৮৪ শতাংশ কর্মী, সংখ্যায় প্রায় ৫ কোটি ৮০ লাখ, অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করেন। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি অর্জনের পরও অনেককে আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে। দেশের প্রায় ৪৪ শতাংশ স্নাতক অনানুষ্ঠানিক কাজে নিয়োজিত। অন্যদিকে, আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির গতি ধীর এবং ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো সাম্প্রতিক সময়ে গড়ে কর্মীসংখ্যা কমিয়েছে।

বাংলাদেশ ও ভুটানের জন্য বিশ্বব্যাংকের বিভাগীয় পরিচালক জ্যঁ পেসমে বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যাগত সম্ভাবনা নির্ভর করছে এখন দেশটি কী ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে তার ওপর। উন্নত কর্মসংস্থান তৈরিতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা, তরুণদের বাজারের চাহিদাভিত্তিক দক্ষতায় দক্ষ করে তোলা এবং নারীদের কর্মসংস্থানের পথে বাধা দূর করা জরুরি। একই সঙ্গে প্রবীণদের স্বাস্থ্যসেবা ও বার্ধক্যকালীন আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

প্রতিবেদনে দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে জনসংখ্যাগত সুবিধার অবদানও তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, ২০০০ সাল থেকে কর্মক্ষম বয়সী মানুষের অনুপাত বাড়ার কারণে এ অঞ্চলের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) বছরে অতিরিক্ত ০.৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি এসেছে। একই সময়ে শ্রম উৎপাদনশীলতা বেড়েছে বছরে ১.১ শতাংশ। তবে জনসংখ্যাগত সুবিধা থেকে জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে যে অবদান আসছে, তা ক্রমেই কমবে। ২০২৪ থেকে ২০৫০ সালের মধ্যে এ অবদান বছরে ০.৪ শতাংশ থেকে কমে ০.১ শতাংশে নেমে আসতে পারে।

বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট জোহানেস জাট বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো তুলনামূলক কম মাথাপিছু আয় নিয়েই দ্রুত বার্ধক্যের দিকে এগোচ্ছে। তাই এখনই উন্নত ও বেশি কর্মসংস্থান তৈরির নীতি গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা জরুরি। পাশাপাশি স্বাস্থ্যবান প্রবীণদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রাখার সুযোগ তৈরি করতে হবে। এতে জনসংখ্যাগত সুবিধার পাশাপাশি ভবিষ্যতে দ্বিতীয় দফা অর্থনৈতিক সুফল পাওয়ার ভিত্তি তৈরি হতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ায় বর্তমানে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা প্রায় ১১৭ কোটি। তবে এক দশকেরও কম সময়ের মধ্যে এ অঞ্চলের কর্মক্ষম জনসংখ্যা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে কমতে শুরু করবে। ২০৪৯ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়া প্রবীণ জনসংখ্যাপ্রধান অঞ্চলে পরিণত হতে পারে। তখন মোট জনসংখ্যার ১৪ শতাংশের বয়স হবে ৬৫ বছর বা তার বেশি। বাংলাদেশে এ পরিবর্তন ঘটবে ২০৫১ সালে।

প্রবীণ জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্থ্যসেবা, দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা ও পেনশন ব্যবস্থার প্রস্তুতিও দক্ষিণ এশিয়ায় যথেষ্ট নয়। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এ অঞ্চলের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর মাত্র ১৭ শতাংশ পেনশন ব্যবস্থায় অবদান রাখেন। অন্যদিকে, প্রবীণদের মাত্র ১০ শতাংশ কোনো না কোনো পেনশন সুবিধা পান। বিশ্বব্যাপী পেনশন সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে এটি সর্বনিম্ন হার।

জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দুটি ক্ষেত্রে একযোগে পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেছে বিশ্বব্যাংক। প্রথমত, তরুণ জনগোষ্ঠীর সম্ভাবনা কাজে লাগাতে উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান বাড়ানো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারণ, ব্যবসায়িক বিধিবিধান সহজ করা এবং স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও দক্ষতার উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি নারীদের শ্রমবাজারে অংশগ্রহণ বাড়ানোর বাধা দূর করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, প্রবীণ জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্থ্যসেবা, দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা ও পেনশন ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে হবে। একই সঙ্গে সঞ্চয় ও বিনিয়োগ বাড়িয়ে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিতে হবে।

বিশ্বব্যাংকের মতে, জনসংখ্যাগত সুবিধার সময় শেষ হওয়ার আগেই এসব সংস্কার ও নীতিগত পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা জরুরি। অন্যথায় ভবিষ্যতে কর্মক্ষম মানুষের অনুপাত কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শ্রমবাজার এবং সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে।

Facebook Comments Box
✎ মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Posted ০১:৩৯ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬

bankbimaarthonity.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: bankbima1@gmail.com