|

Advertisement
×

জেনারেল ফার্মাসিউটিক্যালসে ১২ মাসের বেতন বকেয়া, অনিশ্চয়তায় কর্মীরা

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬   প্রিন্ট   ১০ বার পঠিত

জেনারেল ফার্মাসিউটিক্যালসে ১২ মাসের বেতন বকেয়া, অনিশ্চয়তায় কর্মীরা

১৪ মাসের টিএ/ডিএ পরিশোধ হয়নি, ছাঁটাই ও ডিপো বন্ধের মৌখিক নির্দেশের অভিযোগ; প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি ও অর্জিত ছুটির অর্থ পাওয়া নিয়েও শঙ্কা

জেনারেল ফার্মাসিউটিক্যালসের বিতরণ বিভাগ ও ডিপোতে কর্মরত কর্মীদের প্রায় এক বছরের বেতন বকেয়া। পাশাপাশি ১৪ মাস ধরে পরিশোধ করা হয়নি যাতায়াত ও দৈনিক ভাতা (টিএ/ডিএ)। এর মধ্যে কর্মী ছাঁটাই এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে ডিপো বন্ধের মৌখিক নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। ফলে চাকরি, বকেয়া বেতন ও অন্যান্য আর্থিক পাওনা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন কর্মচারীরা।

কর্মীদের আশঙ্কা, চাকরি হারালে প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি ও অর্জিত ছুটির অর্থও অনেকে নাও পেতে পারেন। সম্প্রতি এভিস্তা ফার্মা ও জেনারেল ভিশনের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরুর পর পুরোনো কর্মীদের পাওনা ও চাকরির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।

কর্মচারীদের লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে জেনারেল ফার্মাসিউটিক্যালসে বেতন পরিশোধে অনিয়ম শুরু হয়। পরে একপর্যায়ে বেতন দেওয়া বন্ধ হয়ে যায়। তাদের দাবি, বর্তমানে মোট ১২ মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। এর পাশাপাশি ১৪ মাসের টিএ/ডিএ-ও পরিশোধ করা হয়নি।

দীর্ঘদিন বেতন-ভাতা না পাওয়ায় কর্মীদের অনেকেই পরিবার নিয়ে আর্থিক সংকটে পড়েছেন। বাড়িভাড়া, সন্তানের পড়াশোনা, চিকিৎসা ও দৈনন্দিন খরচ মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।

কর্মচারীরা জানান, বকেয়া বেতন ও অন্যান্য পাওনা পরিশোধের দাবিতে একাধিকবার আন্দোলন করেছেন তারা। রাজধানীর শ্যামলী রিং রোডে অবস্থিত কোম্পানির প্রধান কার্যালয়ে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যস্থতায় সমঝোতা বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। তবে বৈঠকে পাওনা পরিশোধের আশ্বাস দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ কর্মীদের।

আন্দোলনের নেতাদের পাওনা পরিশোধ, অন্যরা বঞ্চিত

কর্মীদের অভিযোগ, বকেয়া বেতন ও অন্যান্য পাওনা আদায়ের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া কয়েকজনের সঙ্গে সমঝোতা করে তাদের আর্থিক পাওনা পরিশোধ করেছে কোম্পানি। এর মধ্যে বকেয়া বেতন, প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি ও অর্জিত ছুটির অর্থসহ অন্যান্য পাওনাও ছিল। তবে আন্দোলনে নেতৃত্বের বাইরে থাকা অনেক কর্মচারী কোনো পাওনা না পেয়েই চাকরি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।

একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মীদের পাওনা পরিশোধে এমন বৈষম্যমূলক আচরণ ক্ষোভ তৈরি করেছে বলে দাবি তাদের। এ নিয়ে শ্রম আদালতে ৬০০টির বেশি মামলা চলমান রয়েছে বলেও কর্মচারীরা জানিয়েছেন।

এদিকে তীব্র আর্থিক সংকট, ক্রমাগত ব্যবসায়িক লোকসান এবং উৎপাদন কমে যাওয়াকে কার্যক্রম পুনর্গঠনের কারণ হিসেবে দেখিয়েছে জেনারেল ফার্মাসিউটিক্যালস। অতিরিক্ত জনবলের ব্যয় বহন করা সম্ভব না হওয়ায় কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠানটি জানায়।

প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাফিদুল হকের স্বাক্ষরিত ওই নোটিশে বাংলাদেশ শ্রম আইনের ২০ ও ২৮/ক ধারা এবং বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালার ৩২ বিধির উল্লেখ করা হয়। নোটিশে জানানো হয়, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ছাঁটাই কার্যকর হবে। একই সঙ্গে আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর্মীদের সব পাওনা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। চূড়ান্ত হিসাব নিষ্পত্তির জন্য মানবসম্পদ, ফাইন্যান্স ও অ্যাকাউন্টস বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়।

তবে কর্মীদের অভিযোগ, নোটিশে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পাওনা পরিশোধ করা হয়নি। উল্টো মোবাইল ফোনে বার্তা পাঠিয়ে কর্মীদের একেকজনকে একেকটি সম্ভাব্য পরিশোধের তারিখ জানানো হচ্ছে। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হলেও অর্থ পাওয়া যাচ্ছে না। এভাবে দিনের পর দিন সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।

নতুন ব্যবসায়িক ব্যবস্থায় পুরোনো কর্মীদের ভবিষ্যৎ কী?

কর্মচারীদের জানানো হয়েছে, চলতি বছরের নভেম্বর থেকে জেনারেল ফার্মাসিউটিক্যালস তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করবে। এ বিষয়ে এভিস্তা নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবসায়িক সমঝোতার কথাও তাদের জানানো হয়।

কর্মীদের দাবি, জেনারেল ফার্মাসিউটিক্যালসের একটি অংশ জেনারেল ভিশন ও এভিস্তার সঙ্গে যুক্ত হয়ে গত অক্টোবর থেকেই কার্যক্রম শুরু করেছে। তবে নতুন ব্যবস্থায় পুরোনো কর্মীদের বকেয়া পাওনা কীভাবে পরিশোধ করা হবে, তাদের চাকরির নিশ্চয়তা থাকবে কি না কিংবা চাকরির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হবে কি না—এসব বিষয়ে স্পষ্ট কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।

তাদের অভিযোগ, বকেয়া বেতন ও অন্যান্য পাওনা পরিশোধের কার্যকর উদ্যোগ না নিয়েই দেশের সব ডিপো বন্ধ এবং ডিপোর জন্য ভাড়া নেওয়া বাসাবাড়ি ছেড়ে দেওয়ার মৌখিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অথচ একই সময়ে কর্মীদের মৌখিকভাবে জানানো হচ্ছে, তাদের চাকরি বহাল রয়েছে। ফলে চাকরি থাকবে কি না, কর্মস্থল কোথায় হবে এবং দীর্ঘদিনের পাওনা কীভাবে আদায় হবে—এসব প্রশ্নের কোনো স্পষ্ট উত্তর পাচ্ছেন না তারা।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে জেনারেল ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাফিদুল হকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তাকে খুদে বার্তাও পাঠানো হয়। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Facebook Comments Box
✎ মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Posted ০২:০৬ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬

bankbimaarthonity.com |

সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: bankbima1@gmail.com