অনলাইন ডেস্ক
শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬ প্রিন্ট ২৭ বার পঠিত
তিন ধাপে গঠন করা হবে স্থায়ী অডিট ইউনিট বা অধিদপ্তর, জোরদার হবে জবাবদিহি ও সরকারি সেবার মান
সরকারি অর্থের অপচয় ও আর্থিক অনিয়ম প্রতিরোধ, স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং জবাবদিহি জোরদার করতে দেশের সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা (ইন্টারনাল অডিট) ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। এ লক্ষ্যে আগামী তিন বছরে তিন ধাপে স্থায়ী অডিট ইউনিট বা অধিদপ্তর গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে প্রশাসনিক অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
বর্তমানে বিভিন্ন দপ্তরে সাময়িকভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ওপর নির্ভরশীল অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা কার্যক্রমে জনবল ও দক্ষতার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে নিরীক্ষা কার্যক্রমের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় ঝুঁকি শনাক্তকরণ ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
৮ থেকে ১০ অক্টোবর গাজীপুরের একটি হোটেলে আয়োজিত ‘ওয়ার্কশপ অন ইনস্টিটিউশনালাইজিং ইন্টারনাল অডিট ইন দ্য পাবলিক সেক্টর: সাসটেইনেবিলিটি অ্যান্ড ওয়ে ফরওয়ার্ড’ শীর্ষক তিন দিনব্যাপী কর্মশালায় এসব পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়।
অর্থ বিভাগের ‘স্ট্রেংদেনিং পাবলিক ফাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম টু এনাবল সার্ভিস ডেলিভারি’ (এসপিএফএমএস)-এর আওতায় ইন্টারনাল অডিট অ্যান্ড অডিট ফলো-আপ স্কিম কর্মশালাটির আয়োজন করে।
কর্মশালার উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থসচিব ড. মো. খুরশীদুজ্জামান মোজুমদার। এ সময় তিনি সরকারি খাতে অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষার জন্য সংশোধিত ‘২০২৬ মডেল রিস্ক-বেজড ইন্টারনাল অডিট চার্টার অ্যান্ড ম্যানুয়াল’ উন্মোচন করেন।
অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আজাদ সাল্লাল কর্মশালায় সরকারি খাতে অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ব্যবস্থার স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নিয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
অর্থসচিব বলেন, সরকারি খাতে অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ব্যবস্থাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়াকে বর্তমান সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। মন্ত্রণালয়গুলোতে এ ব্যবস্থা চালু করা সরকারি তহবিল ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বাস্তবায়নে নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও সম্মিলিতভাবে তা মোকাবিলা করতে হবে। সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে আরও শক্তিশালী করতে উদ্যোগটিকে কার্যকর ও টেকসই ব্যবস্থায় রূপ দেওয়া প্রয়োজন।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে নিরীক্ষা কার্যক্রম
সংশোধিত ২০২৬ সালের মডেল রিস্ক-বেজড ইন্টারনাল অডিট চার্টার ও ম্যানুয়ালটি ২০২৪ সালের গ্লোবাল ইন্টারনাল অডিট স্ট্যান্ডার্ডসের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। এতে নিরীক্ষকদের দায়িত্ব, কর্মপরিধি এবং প্রতিবেদন দাখিলের প্রক্রিয়া আরও স্পষ্ট করা হয়েছে।
নতুন কাঠামোর আওতায় সরকারি কার্যক্রম বস্তুনিষ্ঠভাবে পর্যালোচনা, সরকারি সম্পদের সুরক্ষা, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা চিহ্নিত করার প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি তৈরি হবে।
প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় নিরীক্ষকেরা কার্যগতভাবে সংশ্লিষ্ট অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা কমিটির কাছে এবং প্রশাসনিকভাবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব বা প্রধান হিসাবদান কর্মকর্তার কাছে দায়বদ্ধ থাকবেন।
এ ব্যবস্থার উদ্দেশ্য হলো নিরীক্ষকদের পেশাগত স্বাধীনতা জোরদার করা এবং দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের বাইরেও নিরীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনার সুযোগ নিশ্চিত করা।
জনসেবার মানোন্নয়নেও ভূমিকা রাখবে
অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা বাড়লে সরকারি অর্থের ব্যবহার আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে সরকারি ক্রয়, প্রকল্প বাস্তবায়ন, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, দাপ্তরিক কার্যক্রম এবং তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থায় সম্ভাব্য ঝুঁকি ও দুর্বলতা শনাক্ত করা যাবে।
এসব ক্ষেত্রে অনিয়ম, অপচয় কিংবা নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার ঘাটতি সময়মতো চিহ্নিত করা গেলে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব এবং সরকারি সেবা ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি কমানো সম্ভব হতে পারে।
এর প্রভাব পড়তে পারে স্বাস্থ্যসেবা, প্রাথমিক শিক্ষা, সড়ক ও অন্যান্য জনঅবকাঠামো খাতেও। কারণ সরকারি সম্পদের সঠিক ব্যবহার এবং প্রকল্পের কার্যকর তদারকি এসব সেবার মান ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
তবে পরিকল্পনাটির কার্যকর বাস্তবায়ন নির্ভর করবে স্থায়ী নিরীক্ষা ইউনিট গঠন, দক্ষ জনবল নিশ্চিত করা, নিরীক্ষকদের পেশাগত স্বাধীনতা বজায় রাখা এবং নিরীক্ষায় উঠে আসা সুপারিশ বাস্তবায়নের ওপর। এসব ক্ষেত্রে অগ্রগতি নিশ্চিত করা গেলে সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানোর পাশাপাশি জনসেবার মানোন্নয়নেও উদ্যোগটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
Posted ০৪:৪৭ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬
bankbimaarthonity.com | Animator Alif
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com