অনলাইন ডেস্ক
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রিন্ট ১২ বার পঠিত
টানা ছয় মাস ধরে দেশের বেসরকারি খাতে ব্যাংকঋণের প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের নিচে রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট শেষে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, মার্চে ঋণ প্রবৃদ্ধি ছিল ৪ দশমিক ৭২ শতাংশ, এপ্রিলে ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ, মে মাসে ৪ দশমিক ৯৮ শতাংশ, জুনে ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ এবং জুলাইয়ে ৪ দশমিক ৬২ শতাংশ।
ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদদের মতে, নতুন ব্যবসা ও বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় ঋণের চাহিদাও কমেছে। অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান তাদের বিদ্যমান উৎপাদন সক্ষমতাই পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারছে না। ফলে নতুন কারখানা বা উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে বড় ধরনের ঋণের প্রয়োজনও তৈরি হচ্ছে না।
এদিকে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে নীতি সুদের হারও তুলনামূলকভাবে বেশি রয়েছে। ফলে ব্যাংকঋণের সুদ কমানো কঠিন হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা ও বাড়তি ব্যয় ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ তৈরি করছে।
ব্যাংক এশিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহেল আর কে হুসেইনের মতে, আগামী ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধিতে বড় ধরনের গতি আসার সম্ভাবনা কম। তার মতে, বাজারে এখনও অব্যবহৃত উৎপাদন সক্ষমতা থাকায় চাহিদা না বাড়লে নতুন বিনিয়োগও বাড়বে না।
সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে না এলে নীতি সুদের হার কমানো কঠিন হবে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের আস্থা, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং জ্বালানি সংকট নতুন বিনিয়োগের পথে বাধা তৈরি করছে।
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, বড় শিল্পগ্রুপগুলোর অনেকেই বর্তমানে চাপের মধ্যে রয়েছে। উৎপাদন কমে যাওয়ায় তাদের নতুন ব্যাংকঋণের প্রয়োজনও কমেছে। পাশাপাশি ব্যাংক খাতের আর্থিক দুর্বলতা ঋণ দেওয়ার সক্ষমতাকেও প্রভাবিত করছে।
ব্যাংকারদের মতে, বন্ধ ও রুগ্ণ শিল্প পুনরুজ্জীবিত করা, নতুন বিনিয়োগকারী আনা এবং সুদের ব্যয় কমানো গেলে ঋণের চাহিদা বাড়তে পারে। এ জন্য রুগ্ণ শিল্পের জন্য ঘোষিত ২০ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজ কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।
সোহেল আর কে হুসেইনের মতে, যেসব প্রতিষ্ঠান ঋণ পরিশোধে সক্ষম হলেও ব্যবসায়িক সংকটে কারখানা বন্ধ বা প্রায় বন্ধ হয়ে আছে, তাদের পুনরুজ্জীবনে নতুন বিনিয়োগকারী ও নীতিগত সহায়তা প্রয়োজন। সুদের ব্যয় কমানো গেলে এসব প্রতিষ্ঠানের পরিচালন ব্যয় কমার পাশাপাশি উৎপাদনে ফেরার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক অবস্থা মূল্যায়ন, প্রয়োজন নির্ধারণ এবং বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময় লাগবে বলেও মনে করছেন ব্যাংকাররা।
Posted ১২:১৭ অপরাহ্ণ | বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
bankbimaarthonity.com | Animator Alif
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com