অনলাইন ডেস্ক
মঙ্গলবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৫ প্রিন্ট ৫৯৮ বার পঠিত
বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি’র (বিডা) উদ্যোগে গতকাল থেকে চারদিন ব্যাপী ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট সামিট ২০২৫’ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। এই সম্মেলন ৭ এপ্রিল থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। বিনিয়োগ সম্মেলন আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নোবেল বিজয়ী ড. মোহাম্মদ ইউনূস। গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ থেকে পালিয়ে যাবার পর মুক্ত পরিবেশে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নানা কারণেই বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট সামিট অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশের জন্য বিদেশি বিনিয়োগ আহরণের কোনো বিকল্প নেই। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগের হার আশাপ্রদ নয়। প্রায় দুই দশক যাবত ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগের হার জিডিপি’র ২২/২৩ শতাংশে উঠানামা করছে। সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাকালে ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগের হার জিডিপি’র ২৮ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও তা অর্জিত হয়নি। চলতি অর্থবছরে ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগের হার জিডিপি’র হার ২৭ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত রয়েছে। এটা নিশ্চিতভাবেই ব্যর্থ হবে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ব্যক্তি খাতে অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগের মাত্রা যেমন কমেছে তেমনি বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগের হারও নিম্নমুখী রয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগ সাধারণত দু’ভাবে আহরিত হতে পারে। প্রথমত, সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ আহরণ অর্থাৎ বিদেশি উদ্যোক্তাগণ সরকারের অনুমতি গ্রহণ সাপেক্ষে বিভিন্ন প্রকল্প স্থাপন করতে পারেন। আবার স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সঙ্গে যৌথভাবে বিনিয়োগের মাধ্যমে শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন করতে পারেন। যে ভাবেই হোক বিদেশি বিনিয়োগ আহরিত হলে তা নানাভাবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজে লাগে। রিজার্ভ তৈরিতেও বিদেশি বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। বাংলাদেশ নানা কারণেই বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশে বিদ্যমান বিনিয়োগ পরিবেশ মোটেও সন্তেুাষজনক নয়। নানা ধরনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে এদেশে বিনিয়োগ করা খুবই কষ্টদায়ক একটি কাজ। বিশ্বব্যাংক সম্প্রতি স্টার্ট বিজনেস সূচক প্রকাশ করেছে। ৫০টি দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ পর্যালোচনা করে প্রণীত এই প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অবস্থান দেখানো হয়েছে চতুর্থ গ্রেডে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা কোনো দেশে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে এসব প্রতিবেদন বিবেচনায নিয়ে থাকে। তাই বাস্তব বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নই এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি। শুধু বিনিয়োগ সম্মেলন করে কোনো লাভ হবে না। তারপরও আমরা প্রত্যাশা করি চলমান বিনিয়োগ সম্মেলন সফল হোক। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা অধিক হারে বাংলাদেশে বিনিয়োগ প্রস্তাব নিয়ে আসুক।
Posted ০৭:৫৭ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৫
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com
✎ মন্তব্য করুন