অনলাইন ডেস্ক
বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫ প্রিন্ট ৩৮৯ বার পঠিত
অর্থঋণ আদালতে দায়েরকৃত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমিয়ে আনার জন্য সরকার উদ্যোগ নিতে যাচ্ছেন। এ জন্য বিদ্যমান অর্থঋণ আদালত অধ্যাদেশ জারি করা হবে।
ইতিমধ্যেই অধ্যাদশের খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে। এই খসড়ার একটি বিশেষ বিধান হচ্ছে ঋণগ্রহণকালে ব্যাংকে সম্পদ জামানত দেয়া হয় তার পাশাপাশি ঋণ গ্রহীতার সমুদয় স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করে তা বিক্রির মাধ্যমে ব্যাংকের ঋণের টাকা আদায় করা। এটি নিশ্চিতভাবেই একটি ভালো উদ্যোগ। কারণ যারা ইচ্ছাকৃত ঋণপখলাপি তারা ঋণ গ্রহণের সময় যে সম্পত্তি ব্যাংকে জামানত হিসেবে প্রদান করেন তার মূল্য বা ভ্যালুয়েশন অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দেখান। ফলে কখনোই ব্যাংক যদি সেই সম্পত্তি বিক্রির উদ্যোগ গ্রহণ করে কোন ক্রেতা পাওয়া যায় না। কিন্তু আইনি সীমাবদ্ধতার কারণে ঋণ গ্রহীতার নামে থাকা অন্য সম্পত্তি, যা ব্যাংকে জামানত দেয়া নেই তা অধিগ্রহণ করা যায় না।
নতুন এই আইনি বিধান অর্থঋণ আদালত আইনে সংযুক্ত হলে তা খেলাপি ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে খসড়ায় আরো দু’টি ধারা সংযোজন করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, অর্থঋণ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ পক্ষ যদি আপীল করতে চান তাহলে মোট খেলাপি ঋণের ৫০ শতাংশ আদালতে জমা দিতে হবে। আর যদি অর্থঋণ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ করতে চান তাহলে খেলাপি ঋণের ৭৫ শতাংশ আদালতে জমা দিতে হবে। সরকারের এই উদ্যোগ ঋণখেলাপিদের জন্য একটি কঠিন বার্তা। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক খেলাপি ঋণ হিসাব পুনঃতফসিলিকরণ ও ঋণ হিসাব অবলোপন বিষয়ে যে আইনি পরিবর্তন সাধন করেছে তা অর্থঋণ আদালতের সংশোধনীর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কারণ একজন ঋণ খেলাপি ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে ২ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ১০ বছরের জন্য ঋণ হিসাব পুনঃতফসিলিকরণ করিয়ে নিতে পারছেন। আগের সরকার আমলে এমন একটি আইন করা হয়েছিল। তবে সেখানে গ্রেস পিরিয়ড ছিল এক বছর। এখন তা বাড়িয়ে দুই বছর করা হয়েছে। একদিকে ঋণখেলাপিদের প্রতি কঠোর ব্যবস্থান অন্য দিকে তাদের প্রতি অনৈতিক ছাড়া দেয়া এই বৈপরিত্য খেলাপি ঋণ আদায়ের পথে প্রতিবন্ধকতা বলেই মনে করছেন অর্থনীতিবিদগণ। আমাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে আমরা কি সত্যি সত্যি খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনতে চাই নাকি তাদের প্রতি দয়া প্রদর্শন করতে চাই।
Posted ০২:৩৩ অপরাহ্ণ | বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com