বুধবার ২৭ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

Ad
x

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মিত্র গতিশীলতা

রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫   প্রিন্ট   ২৯১ বার পঠিত

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মিত্র গতিশীলতা

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান সূত্র হচ্ছে বৈদেশিক বাণিজ্য। যদিও বৈদেশিক বাণিজ্যের মাধ্যমে যে অর্থ প্রতি বছর অর্জিত হয় তার একটি বড় অংশই কাঁচামাল, ক্যাপিটাল মেশিনারিজ ও মধ্যবর্তী পণ্য আমদানিতে পুরনায় বিদেশে চলে যায়। ফলে জাতীয় অর্থনীতিতে এই খাতে মূল্য সংযোজনের হার তুলনামূলকভাবে কম। তারপরও বৈদেশিক বাণিজ্যের গুরুত্ব কোনভাবেই অস্বীকার করা যাবে না।

বাংলাদেশ নানাভাবে বৈদেশিক বাণিজ্যের পরিধি এবং গন্তব্য সম্প্রসারণের চেষ্টা করে যাচ্ছে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে অর্জনের হার খুব একটা সন্তোষজনক নয়। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৫ মাসে বাংলাদেশ মোট ১১ হাজার ৪০১ কোটি মার্কিন ডলারের বৈদেশিক বাণিজ্য করেছে। এর মধ্যে আমদানি করা হয়েছে ৬ হাজার ৭৪৪ কোটি মার্কিন ডলারের পণ্য। আর রপ্তানি করা হয়েছে ৪ হাজার ৬৫৭ কোটি মার্কিন ডলারের পণ্য। অর্থাৎ বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৮৭ কোটি মার্কিন ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে বাংলাদেশ মোট ৬ হাজার ৫১৪ কোটি মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানির বিপরীতে রপ্তানি করেছিল ৪ হাজার ২৯৬ কোটি মার্কিন ডলারের পণ্য। বাংলাদেশ ১২২টি দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে এগিয়েছে এবং ১০৪টি দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে পিছিয়ে পড়েছে। অর্থাৎ বাংলাদেশ মোট ২২৬টি দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পাদন করেছে। বাংলাদেশ এতগুলো দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপন করলে ৬/৭টি দেশে রপ্তানি হয় বাংলাদেশের সর্বাধিক পণ্য। আবার একইভাবে ৬/৭টি দেশ থেকে আসে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ আমাদনি পণ্য।

আমদানি-রপ্তানির এই বৈসাদৃশ্য বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একটি বড় দুর্বলতা। বাংলাদেশ যেসব দেশ থেকে বেশি পরিমাণে পণ্য আমদানি করে সেই সব দেশে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির পরিমাণ খুবই সীমিত। আবার যেসব যে সব দেশে বাংলাদেশ বেশি পরিমাণে পণ্য রপ্তানি করে সেই সব দেশে বাংলাদেশের আমদানির পরিমাণ খুবই কম। বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে আছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। গত ৫ মাসে বাংলাদেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে মোট ৮৭৬ কেআট মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি করে। এর বিপরীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট থেকে বাংলাদেশ ২৫০ কোটি মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানি করে। ফলে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের অনুকূলে উদ্বৃত্ত দাঁড়ায় ৬২৬ কোটি মার্কিন ডলার। অন্যদিকে একই সময়ে জার্মানি থেকে বাংলাদেশ ৮২ কোটি মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানির বিপরীতে ৫৩২ কোটি মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানি করে। ফলে দেশ দু’টির মধ্যে সম্পাদিত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের অনুকূলে উদ্বৃত্ত দাঁড়ায় ৪৫০ কোটি মার্কিন ডলার। অন্যদিকে বাংলাদেশ চীন থেকে আমদানি করে ২ হাজার ৬১ কোটি মার্কিন ডলারের পণ্য। এর বিপরীতে বাংলাদেশ চীনে রপ্তানি করে ৭৪ কোটি মার্কিন ডলারের পণ্য। ফলে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়ায় ১ হাজার ৯৮৭ কোটি মার্কিন ডলার। একই ভাবে ভারত থেকে বাংলাদেশ আমদানি করে ৯৬৮ কোটি মার্কিন ডলারের পণ্য। আর ভারতে রপ্তানি করা হয় ১৮২ কোটি মার্কিন ডলারের পণ্য। ফলে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের প্রতিকূলে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়ায় ৭৮৬ কোটি মার্কিন ডলার।

Facebook Comments Box

Posted ০৬:৪৪ অপরাহ্ণ | রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

bankbimaarthonity.com |

আর্কাইভ ক্য

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১৩১৫
১৬১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১  
সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: bankbima1@gmail.com